Advertisement
  • এই মুহূর্তে বি। দে । শ
  • জুন ৩০, ২০২৬

সিন্ধু জলচুক্তি নিয়ে ফের উত্তেজনা, জলের অধিকারের প্রশ্নে পাক মন্ত্রীর নিশানায় ভারত

আরম্ভ ওয়েব ডেস্ক
সিন্ধু জলচুক্তি নিয়ে ফের উত্তেজনা, জলের অধিকারের প্রশ্নে পাক মন্ত্রীর নিশানায় ভারত

সিন্ধু জলবণ্টন চুক্তি বাস্তবায়ন নিয়ে ফের ভারতের বিরুদ্ধে তীব্র সুর চড়াল পাকিস্তান। দেশটির জলবায়ু পরিবর্তনবিষয়ক মন্ত্রী মাসুদিক মালিক অভিযোগ করেছেন, পাকিস্তানের প্রাপ্য জল আটকে দেওয়া হচ্ছে। একই সঙ্গে তিনি কড়া ভাষায় হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেন, “যারা আমাদের ভাগের জল কেড়ে নিতে চাইবে, আমরা তাদের হাত কেটে নেব।”
পাকিস্তানের তথ্যমন্ত্রী আতাউল্লাহ তারারের সঙ্গে এক যৌথ সাংবাদিক বৈঠকে মাসুদিক মালিক ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদিকেও নিশানা করেন। তাঁর দাবি, মোদি আগেই বলেছিলেন পাকিস্তানে “এক ফোঁটা জলও যেতে দেবেন না”, এবং বর্তমানে সেই অবস্থানই কার্যকর করার চেষ্টা চলছে। মালিকের অভিযোগ, ১৯৬০ সালের সিন্ধু জলবণ্টন চুক্তির শর্ত অনুযায়ী পাকিস্তানের প্রাপ্য জলপ্রবাহ নিশ্চিত রাখা ভারতের দায়িত্ব, তাই জল আটকে দেওয়া আন্তর্জাতিক চুক্তির পরিপন্থী।
পাক মন্ত্রীর এই বক্তব্য পাকিস্তানের বিভিন্ন সংবাদমাধ্যমে সম্প্রচারিত হয়েছে এবং সমাজমাধ্যমেও ছড়িয়ে পড়েছে। তবে এই মন্তব্যের সত্যতা স্বাধীনভাবে যাচাই করা সম্ভব হয়নি।
২০২৫ সালে পহেলগাঁওয়ে জঙ্গি হামলার পর ভারত সিন্ধু জলবণ্টন চুক্তি স্থগিত করার সিদ্ধান্ত নেয়। সেই সময় প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি বলেছিলেন, “রক্ত এবং জল একসঙ্গে বইতে পারে না।” এরপর থেকেই ইসলামাবাদ একাধিকবার ভারতের বিরুদ্ধে চুক্তি লঙ্ঘনের অভিযোগ তুলেছে এবং আন্তর্জাতিক মহলেও বিষয়টি উত্থাপন করেছে। তবে এখনও পর্যন্ত তাতে উল্লেখযোগ্য কোনও ফল মেলেনি।
১৯৬০ সালের ১৯ সেপ্টেম্বর বিশ্বব্যাঙ্কের মধ্যস্থতায় ভারত ও পাকিস্তানের মধ্যে সিন্ধু জলবণ্টন চুক্তি স্বাক্ষরিত হয়।
চুক্তি অনুযায়ী—পূর্বমুখী শতদ্রু, বিপাশা ও ইরাবতী নদীর জলের ওপর ভারতের অধিকার রয়েছে। পশ্চিমমুখী সিন্ধু, চন্দ্রভাগা ও বিতস্তা নদীর জলের ব্যবহার ও প্রবাহে পাকিস্তানেরও অধিকার স্বীকৃত। দীর্ঘ কয়েক দশক ধরে কার্যকর থাকা এই চুক্তি পহেলগাঁও হামলার পর স্থগিত করে ভারত।
সম্প্রতি ভারতের জলশক্তি মন্ত্রী সি আর পাটিল জানান, ২০২৮ সালের জুন মাসের মধ্যে পাকিস্তানের দিকে সিন্ধু নদী ব্যবস্থার জলপ্রবাহ সম্পূর্ণভাবে বন্ধ করার লক্ষ্যে কাজ চলছে। তাঁর এই মন্তব্যের পরই পাকিস্তানের তরফে আরও তীব্র প্রতিক্রিয়া দেখা যায়।
এর আগে পাকিস্তানের প্রতিরক্ষামন্ত্রী খোয়াজা আসিফও জল ইস্যুতে কঠোর অবস্থান নিয়েছিলেন। পাকিস্তানের সংবাদমাধ্যম এআরওয়াই নিউজ-কে দেওয়া সাক্ষাৎকারে তিনি বলেন, “জল আমাদের জাতীয় নিরাপত্তার অংশ। যদি মনে হয় ভারতের পদক্ষেপে আমাদের জাতীয় নিরাপত্তা বিপন্ন হচ্ছে, তাহলে আমরা যুদ্ধের পথেও হাঁটতে পারি।”
আসিফের দাবি, পাকিস্তান বর্তমানে তীব্র জলসংকটের মুখোমুখি। তাঁর অভিযোগ, দুই দেশের মধ্যে কার্যকর জলবণ্টন চুক্তি থাকা সত্ত্বেও ভারত নদীর জলপ্রবাহ নিয়ন্ত্রণ বা গতিপথ পরিবর্তনের চেষ্টা করছে। এই প্রেক্ষাপটেই সিন্ধু জলচুক্তি নিয়ে ভারতের বিরুদ্ধে ইসলামাবাদ ফের কড়া অবস্থান নিয়েছে।

  • Tags:
❤ Support Us
Advertisement
error: Content is protected !!