Advertisement
  • এই মুহূর্তে দে । শ
  • জুলাই ১৭, ২০২৬

ফডণবীসের সঙ্গে প্রফুল-সুনীলের গোপন বৈঠক ! ব্যাখ্যা তলব সুনেত্রার, শরদের চালে কি ফের বদলাবে এনসিপির সমীকরণ ?

আরম্ভ ওয়েব ডেস্ক
ফডণবীসের সঙ্গে প্রফুল-সুনীলের গোপন বৈঠক ! ব্যাখ্যা তলব সুনেত্রার, শরদের চালে কি ফের বদলাবে এনসিপির সমীকরণ ?

মহারাষ্ট্রের রাজনীতিতে ফের জোর চর্চার কেন্দ্রে এনসিপি। দুই এনসিপির সম্ভাব্য পুনর্মিলন নিয়ে জল্পনার মধ্যেই বুধবার গভীর রাতে মুখ্যমন্ত্রী দেবেন্দ্র ফডণবীসের সরকারি বাসভবন ‘বর্ষা’-য় বৈঠক করেন উপমুখ্যমন্ত্রী সুনেত্রা পওয়ারের নেতৃত্বাধীন এনসিপির দুই শীর্ষ নেতা—দলের কার্যনির্বাহী সভাপতি প্রফুল পটেল এবং সাংসদ সুনীল তটকরে। এই বৈঠককে ঘিরেই নতুন করে রাজনৈতিক সমীকরণের আলোচনা শুরু হয়েছে।

ইন্ডিয়ান এক্সপ্রেস-এ প্রকাশিত প্রতিবেদন অনুযায়ী, মুম্বইয়ের মুখ্যমন্ত্রীর সরকারি বাসভবনে ওই বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। বিষয়টি প্রকাশ্যে আসার পর শুক্রবার প্রফুল পটেল ও সুনীল তটকরের কাছে কৈফিয়ত তলব করেন সুনেত্রা পওয়ার। তাঁকে না জানিয়ে কেন মুখ্যমন্ত্রীর সঙ্গে বৈঠক করা হল, সেই প্রশ্নেরই জবাব চেয়েছেন তিনি। যদিও এ বিষয়ে দুই নেতা প্রকাশ্যে কোনও মন্তব্য করেননি।

তবে শুক্রবার সুনীল তটকরে স্পষ্ট জানিয়েছেন, দুই এনসিপির একীভূত হওয়ার সম্ভাবনা নিয়ে আলোচনা চলছে। তাঁর কথায়, “বল এখন শরদজির কোর্টে।” এই মন্তব্যের পর থেকেই শরদ পওয়ারের অবস্থান নিয়ে জল্পনা আরও তীব্র হয়েছে।
রাজনৈতিক পর্যবেক্ষকদের মতে, সাম্প্রতিক কয়েকটি ঘটনায় এই জল্পনা আরও জোরদার হয়েছে। গত ৮ জুলাই মহারাষ্ট্র বিধানভবনে গিয়ে উপমুখ্যমন্ত্রী তথা শিবসেনা নেতা একনাথ শিন্দের সঙ্গে বৈঠক করেছিলেন এনসিপি (এসপি)-র প্রধান শরদ পওয়ার। সেই বৈঠক নিয়ে বিরোধী জোট মহাবিকাশ আঘাড়ীর অন্যতম শরিক উদ্ধব ঠাকরের নেতৃত্বাধীন শিবসেনা (ইউবিটি) প্রশ্ন তোলে।

চলতি সপ্তাহে শরদ পওয়ারের কন্যা এবং এনসিপি (এসপি)-র সাংসদ সুপ্রিয়া সুলেও গুরুত্বপূর্ণ ইঙ্গিত দেন। তিনি বলেন, কেন্দ্র যদি আসন পুনর্বিন্যাস সংক্রান্ত প্রস্তাবে লিখিতভাবে জানায় যে প্রতিটি রাজ্যে লোকসভা আসনের সংখ্যা ৫০ শতাংশ পর্যন্ত বাড়ানো হবে, তাহলে সেই বিলের সমর্থনের বিষয়টি তাঁরা বিবেচনা করতে পারেন। এই মন্তব্যের পর থেকেই শরদ পওয়ারের দল ও বিজেপির মধ্যে সম্ভাব্য সমঝোতা এবং দুই এনসিপির পুনর্মিলন নিয়ে রাজনৈতিক মহলে জল্পনা তীব্র হয়েছে।
এই আবহে প্রফুল পটেল ও সুনীল তটকরের ফডণবীসের সঙ্গে গভীর রাতের বৈঠক বিশেষ তাৎপর্যপূর্ণ বলে মনে করা হচ্ছে। রাজনৈতিক মহলের একাংশের মতে, বিজেপির সঙ্গে দুই নেতার দীর্ঘদিনের ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক রয়েছে। ফলে এই বৈঠক ভবিষ্যতের রাজনৈতিক সমীকরণের ইঙ্গিত বহন করতে পারে।

উল্লেখ্য, ২০২২ সালে বিজেপির সমর্থনে শিবসেনার অধিকাংশ বিধায়ককে সঙ্গে নিয়ে তৎকালীন মুখ্যমন্ত্রী উদ্ধব ঠাকরেকে ক্ষমতাচ্যুত করেছিলেন একনাথ শিন্দে। শুধু মুখ্যমন্ত্রিত্বই নয়, বালাসাহেব ঠাকরের প্রতিষ্ঠিত শিবসেনার নাম এবং ‘তির-ধনুক’ প্রতীকও নিজেদের দখলে আনেন তিনি।

একইভাবে ২০২৩ সালে শরদ পওয়ারের ভাইপো অজিত পওয়ার এনসিপির অধিকাংশ বিধায়ককে নিয়ে বিজেপি-শিবসেনা (শিন্দে)-র জোটে যোগ দেন। পরে নির্বাচন কমিশনের সিদ্ধান্তে এনসিপির নাম এবং ‘ঘড়ি’ প্রতীকও তাঁর শিবিরের দখলে যায়।
চলতি বছরের জানুয়ারিতে বিমান দুর্ঘটনায় অজিত পওয়ারের মৃত্যুর পর তাঁর স্ত্রী সুনেত্রা পওয়ার এনসিপির সভানেত্রী নির্বাচিত হন এবং মহারাষ্ট্র সরকারের উপমুখ্যমন্ত্রীর দায়িত্বও গ্রহণ করেন। তবে গত কয়েক মাসে দলের একাধিক গুরুত্বপূর্ণ বিষয়ে প্রফুল পটেল, সুনীল তটকরে-সহ শীর্ষ নেতৃত্বের বড় অংশের সঙ্গে তাঁর মতবিরোধ তৈরি হয়েছে বলে দলীয় সূত্রের দাবি। এমনকি, দুই এনসিপির পুনর্মিলনের প্রস্তাবেও সুনেত্রা পওয়ার আগ্রহী নন বলেই রাজনৈতিক মহলে আলোচনা চলছে।

এদিকে সংসদের আসন্ন বাদল অধিবেশনে আসন পুনর্বিন্যাসের লক্ষ্যে সংবিধান সংশোধনী বিল আনার সম্ভাবনা নিয়েও জোর জল্পনা রয়েছে। সেই প্রস্তাব কার্যকর হলে লোকসভার বর্তমান ৫৪৩টি আসন বেড়ে ৮১৬টি হতে পারে বলে রাজনৈতিক মহলে আলোচনা চলছে। এই বিল পাস করাতে বিজেপি চাইছে শরদ পওয়ারের এনসিপি (এসপি) কিংবা ডিএমকে-র মতো দলগুলি শুধু সমর্থনই নয়, লোকসভায় উপস্থিত থেকে ভোট দিক।

বর্তমানে লোকসভায় সুনেত্রা পওয়ারের দলের একমাত্র সাংসদ সুনীল তটকরে। অন্যদিকে শরদ পওয়ারের নেতৃত্বাধীন এনসিপি (এসপি)-র রয়েছে আটজন সাংসদ। যদিও সুনেত্রা পওয়ার এনডিএ ছেড়ে দিলেও মহারাষ্ট্র বিধানসভার বর্তমান অঙ্ক অনুযায়ী বিজেপি-শিন্দে সরকার সংখ্যাগরিষ্ঠতা ধরে রাখতে সক্ষম। ফলে রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের একাংশের মতে, ভবিষ্যতের জাতীয় রাজনীতিতে শরদ পওয়ারের সমর্থন বিজেপির কাছে আগের তুলনায় আরও গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠতে পারে।

এই সমস্ত ঘটনার পরিপ্রেক্ষিতে ফডণবীস-প্রফুল-সুনীলের গোপন বৈঠক, সুনেত্রা পওয়ারের অসন্তোষ এবং শরদ পওয়ারের সম্ভাব্য রাজনৈতিক অবস্থান—সব মিলিয়ে মহারাষ্ট্রের রাজনীতিতে নতুন সমীকরণের ইঙ্গিত স্পষ্ট হয়ে উঠছে।


  • Tags:
❤ Support Us
error: Content is protected !!