Advertisement
  • এই মুহূর্তে দে । শ
  • জুলাই ১৭, ২০২৬

ক্যারিবিয়ান দ্বীপে তৃণমূলের ‘কালো টাকা’ ! ইডি তদন্তের মধ্যেই বিস্ফোরক দাবি বিদ্রোহি তৃণমূলের মুখপাত্র প্রসূন বন্দ্যোপাধ্যায়ের

আরম্ভ ওয়েব ডেস্ক
ক্যারিবিয়ান দ্বীপে তৃণমূলের ‘কালো টাকা’ ! ইডি তদন্তের মধ্যেই বিস্ফোরক দাবি বিদ্রোহি তৃণমূলের মুখপাত্র প্রসূন বন্দ্যোপাধ্যায়ের

এনফোর্সমেন্ট (ইডি)-র তদন্ত চলার মধ্যেই তৃণমূল কংগ্রেসের আর্থিক লেনদেন নিয়ে নতুন করে বিতর্ক । কলকাতার একটি বিনিয়োগ সংস্থায় তল্লাশি চালিয়ে পাওয়া তথ্যের ভিত্তিতে ইডির অভিযোগ, হাওয়ালা চক্রের মাধ্যমে তৃণমূলের অ্যাকাউন্ট থেকে বিপুল অঙ্কের ‘কালো টাকা’ বিদেশের একাধিক স্থানে পাচার করা হয়েছে । এই তদন্তের আবহেই বিস্ফোরক অভিযোগ তুলেছেন ঋতব্রত তৃণমূল শিবিরের মুখপাত্র, চাঁচলের তৃণমূল বিধায়ক এবং প্রাক্তন আইপিএস অফিসার প্রসূন বন্দ্যোপাধ্যায় ।

প্রসূন বন্দ্যোপাধ্যায়ের দাবি, শুধু কেম্যান দ্বীপ নয়, ভানুয়াতুসহ ক্যারিবিয়ান অঞ্চলের একাধিক দ্বীপে তৃণমূলের ‘কালো টাকা’ পাচার হয়েছে । তাঁর আরও অভিযোগ, বাংলাদেশেও দলের কয়েকজন নেতার বিনিয়োগের সূত্র রয়েছে । তিনি এই গোটা ঘটনার নিরপেক্ষ ও পূর্ণাঙ্গ তদন্তের দাবি জানিয়ে বলেছেন, কেন্দ্রীয় সংস্থাগুলি বিষয়টি খতিয়ে দেখলে আরও গুরুত্বপূর্ণ তথ্য সামনে আসতে পারে ।

প্রসূনের বক্তব্য অনুযায়ী, প্রায় ১.৭৫ মিলিয়ন টাকার একটি ঋণ কোনও বন্ধক বা যথাযথ চুক্তি ছাড়াই কেম্যান দ্বীপপুঞ্জের একটি সংস্থার জন্য নেওয়া হয়েছিল । তাঁর দাবি, সেই অর্থ দিয়ে একটি হেলিকপ্টারও কেনা হয় । এই প্রসঙ্গে তিনি কেয়ারবেল অ্যাভিয়েশন অফ ইন্ডিয়া প্রাইভেট লিমিটেড-এর নামও উল্লেখ করেন । তবে তিনি স্বীকার করেন, বিষয়টি বর্তমানে ইডির তদন্তাধীন ।

এছাড়াও প্রসূনের অভিযোগ, মালদহের কয়েকজন তৃণমূল নেতা বাংলাদেশে, বিশেষ করে সেখানকার স্বাস্থ্য পরিষেবা ক্ষেত্রে বিনিয়োগ করেছেন । তাঁর বক্তব্য, যদি এই সমস্ত অভিযোগ ভিত্তিহীন হয়, তাহলে সেই সময়ে দলের তহবিলের দায়িত্বে থাকা নেতাদের প্রকাশ্যে এসে বিষয়টি স্পষ্ট করা উচিত ।

প্রসঙ্গত, কেম্যান দ্বীপপুঞ্জ, ভানুয়াতুসহ বিশ্বের কিছু ছোট দ্বীপ রাষ্ট্রকে দীর্ঘদিন ধরেই ‘ট্যাক্স হেভেন’ হিসেবে চিহ্নিত করা হয় । তুলনামূলকভাবে কম বা শূন্য করহার এবং আর্থিক গোপনীয়তার কারণে বহু আন্তর্জাতিক সংস্থা ও ব্যক্তি সেখানে বিনিয়োগ বা কোম্পানি নিবন্ধন করে থাকে । এখানকার নাগরিকদের কোনওরকম ট্যাক্স দিতে হয় না । সেই কারণে হিসেবনিকেশ রাখারও দরকার পড়ে না । যারা বেআইনিভাবে প্রচুর নগদ হাতে পেয়ে যান, কর ফাঁকি দিতে এসব দেশে তাঁরা টাকা বিনিয়োগ করেন, পাচার করেন । তবে এই ধরনের অঞ্চলের অপব্যবহার করে অর্থপাচারের অভিযোগও অতীতে একাধিকবার উঠেছে, যদিও সব ধরনের আর্থিক লেনদেনই বেআইনি বলে গণ্য হয় না ।

প্রসূন বন্দ্যোপাধ্যায়ের দাবি, তৃণমূলের শীর্ষ নেতৃত্বের একাংশের সঙ্গে এই আর্থিক লেনদেনের যোগ থাকতে পারে । তাঁর কথায়, কেন্দ্রীয় সংস্থাগুলি নিরপেক্ষভাবে তদন্ত করলে প্রকৃত সত্য সামনে আসবে এবং কারা এই কর্মকাণ্ডে জড়িত, তা প্রকাশ পাবে ।
উল্লেখ্য, এই সমস্ত অভিযোগের বিষয়ে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে এখনও আদালতে কোনও অপরাধ প্রমাণিত হয়নি । বিষয়টি বর্তমানে ইডির তদন্তাধীন এবং তদন্তের চূড়ান্ত ফলাফলের অপেক্ষা রয়েছে ।

তবে এখন প্রশ্ন রাজনৈতিক মহলে উঠছে, প্রসূন বন্দ্যোপাধ্যায় নিজে একজন প্রাক্তন আইপিএস । তিনি চাকরি ছেড়ে তৃণমূলে যোগ দিয়েছিলেন এবং বিধায়ক হয়েছেন । তিনি এখন যা বলছেন তা কি ৪ মে-র পরে তিনি জেনেছেন ? যদি তা না হয় তাহলে একজন আইপিএস হয়ে কি ভাবে তিনি তাঁর অভিযোগ অনুযায়ী তৃণমূলের মতো এই মাপের একটি আর্থিক ভাবে দুর্নীতিগ্রস্থ রাজনৈতিক দলের সঙ্গে নিজেকে জড়িয়েছিলেন ? তাহলে কি আগে তিনি সব জেনে নীরব ছিলেন ? তাহলে এই দায় কি তাঁর ওপরেও বর্তায় না ?


  • Tags:
❤ Support Us
error: Content is protected !!