- এই মুহূর্তে দে । শ
- জুলাই ১৭, ২০২৬
২০ দিন পরেও অনড় ওয়াংচুক ! অনশন ভাঙার আর্জি কংগ্রেসের
দীর্ঘ ২০ দিনের আমরণ অনশনে শারীরিক অবস্থার দ্রুত অবনতি হলেও নিজের দাবিতে অনড় রয়েছেন সমাজকর্মী ও শিক্ষাবিদ সোনম ওয়াংচুক। চিকিৎসকদের আশঙ্কা, টানা অনশনের ফলে তাঁর শরীরের গুরুত্বপূর্ণ অঙ্গপ্রত্যঙ্গ বিকল হয়ে যাওয়ার ঝুঁকি ক্রমশ বাড়ছে। এমন পরিস্থিতিতে কংগ্রেস আনুষ্ঠানিকভাবে তাঁর আন্দোলনের পাশে দাঁড়িয়ে অনশন প্রত্যাহারের আবেদন জানিয়েছে। তবে আন্দোলনস্থল দিল্লির যন্তর মন্তরে এখনো পর্যন্ত বিরোধী দলনেতা রাহুল গান্ধীর না যাওয়া নিয়ে রাজনৈতিক মহলে জোর চর্চা শুরু হয়েছে।
শুক্রবার ওয়াংচুকের আমরণ অনশন ২০তম দিনে পৌঁছেছে। চিকিৎসকদের দাবি, গত ২০ দিনে তাঁর ওজন প্রায় ৯ কেজি কমে গিয়েছে। তিনি এতটাই দুর্বল হয়ে পড়েছেন যে, নিজে থেকে উঠে বসার ক্ষমতাও প্রায় হারিয়েছেন, দীর্ঘক্ষণ কথা বলতেও পারছেন না। যদিও চিকিৎসকদের মতে, তিনি এখনো সম্পূর্ণ মানসিকভাবে সচেতন রয়েছেন। তবে অনশন অব্যাহত থাকলে লিভার, কিডনি-সহ শরীরের একাধিক গুরুত্বপূর্ণ অঙ্গের কার্যকারিতা মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারে। ওয়াংচুকের শারীরিক অবস্থার অবনতিতে উদ্বেগ প্রকাশ করে ‘সিজেপি’-র প্রতিষ্ঠাতা অভিজিৎ দীপকে আবেগঘন মন্তব্য করে বলেন, ‘আমি মুখেও আনতে চাই না এমন কথা, তবু বলছি সোনম ওয়াংচুক মৃত্যুশয্যায়।’ তাঁর এ মন্তব্যের পর আন্দোলন ঘিরে উদ্বেগ আরও বেড়েছে।
এদিন কংগ্রেসের সাধারণ সম্পাদক কে সি ভেনুগোপাল বিবৃতি দিয়ে ওয়াংচুককে অনশন ভাঙার আবেদন জানান। তিনি বলেন, ‘আপনার যন্ত্রণা ও ক্ষোভ আমাদেরও। আপনার উদ্বেগ আমাদের উদ্বেগ। কিন্তু আপনার স্বাস্থ্যের অবনতির কথা ভেবে আমরা অনুরোধ করছি, অনশন ভেঙে আন্দোলন চালিয়ে যান।’ একইসঙ্গে তিনি আশ্বাস দেন, কেন্দ্রীয় শিক্ষামন্ত্রী ধর্মেন্দ্র প্রধানের পদত্যাগ এবং দেশের পরীক্ষা ব্যবস্থায় সংস্কারের দাবিতে কংগ্রেস তাদের আন্দোলন অব্যাহত রাখবে। তবে কংগ্রেসের এই অবস্থানের মাঝেই প্রশ্ন উঠেছে বিরোধী দলনেতা রাহুল গান্ধীর ভূমিকা নিয়ে। এ পর্যন্ত তিনি যন্তর মন্তরে গিয়ে ওয়াংচুকের সঙ্গে দেখা করেননি। অথচ প্রশ্নফাঁস, পরীক্ষা ব্যবস্থার সংস্কার এবং শিক্ষামন্ত্রী ধর্মেন্দ্র প্রধানের পদত্যাগের দাবিতে তিনিও সরব ছিলেন। যদিও কংগ্রেস সূত্রের দাবি, দল আনুষ্ঠানিকভাবে ওয়াংচুকের দাবিকে সমর্থন করছে, এ ইস্যুতে কেন্দ্রের ওপর চাপ বাড়াতে রাজনৈতিক লড়াই চালিয়ে যাবে।
অন্যদিকে, বৃহস্পতিবার দিল্লির যন্তর মন্তরে গিয়ে সোনম ওয়াংচুকের সঙ্গে দেখা করেন আম আদমি পার্টির জাতীয় আহ্বায়ক অরবিন্দ কেজরিওয়াল। তিনি আন্দোলনের প্রতি পূর্ণ সমর্থন জানিয়ে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির কাছে কেন্দ্রীয় শিক্ষামন্ত্রী ধর্মেন্দ্র প্রধানকে অপসারণের দাবি জানান। পাশাপাশি তিনি সোনমকে দেশের শিক্ষামন্ত্রী করবার দাবিও তুলেছে। এদিকে, ওয়াংচুকের স্বাস্থ্য নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করে দিল্লি হাইকোর্টও প্রশাসনকে তাঁর শারীরিক অবস্থার প্রতিদিন পর্যবেক্ষণের নির্দেশ দিয়েছে। আদালত জানিয়েছে, চিকিৎসকদের পরামর্শ অনুযায়ী প্রয়োজন হলে দ্রুত চিকিৎসা বা অন্য প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিতে হবে।
এতসব আবেদন সত্ত্বেও নিজের অবস্থান থেকে সরতে নারাজ সোনম ওয়াংচুক। তাঁর স্পষ্ট বক্তব্য, সরকারের পক্ষ থেকে কোনো ইতিবাচক আশ্বাস ছাড়া অনশন প্রত্যাহার করলে ভুল বার্তা যাবে। ওয়াংচুক বলেন, বাইরে থেকে তাঁর শরীর ভেঙে পড়লেও ভিতরে তিনি এখনো দৃঢ়। একই সঙ্গে আন্দোলনের সমর্থকদেরও সেই মানসিক শক্তি ধরে রাখার আহ্বান জানান তিনি। তিনি বলেন, ‘আমাকে অনশন ভাঙতে বলবেন না, বরং ২০ জুলাইয়ের ‘চলো সংসদ’ কর্মসূচিতে যোগ দিন।’ তাঁর আহ্বান, ২০ জুলাইয়ের শান্তিপূর্ণ ‘চলো সংসদ’ অভিযানে ছাত্র-যুবকসহ সাধারণ মানুষকে বড়ো সংখ্যায় অংশ নিতে হবে। তাঁর দাবি, আন্দোলনের মূল লক্ষ্য দেশের পরীক্ষা ব্যবস্থায় স্বচ্ছতা আনা, প্রশ্নফাঁস রোধে কঠোর ব্যবস্থা গ্রহণ এবং কেন্দ্রীয় শিক্ষামন্ত্রী ধর্মেন্দ্র প্রধানের পদত্যাগ নিশ্চিত করা। ২০ জুলাই সংসদের উদ্দেশে নির্ধারিত শান্তিপূর্ণ পদযাত্রার প্রসঙ্গ তুলে ওয়াংচুক বলেন, গণতন্ত্রের মন্দিরে পৌঁছে নিজেদের দাবি-দাওয়া তুলে ধরাই তাঁদের লক্ষ্য। রসিকতার সুরে বলেন, যে করেই হোক তিনি ২০ জুলাই পর্যন্ত বেঁচে থাকবেন, আর যদি সে দিনের কর্মসূচি সফল না হয়, তবে ‘ভূত হয়ে ফিরে আসবেন’।
এদিকে আন্দোলনের অন্য মঞ্চে অনির্দিষ্টকালের অনশনে থাকা ‘অল ইন্ডিয়া স্টুডেন্টস অ্যাসোসিয়েশন’ (আইসা)-র সদস্যদের শারীরিক অবস্থাও উদ্বেগ বাড়াচ্ছে। সংগঠন জানিয়েছে, তাদের সদস্য নেহা, মনীশ এবং আমিনের শারীরিক পরিস্থিতির দ্রুত অবনতি ঘটছে। জলশূন্যতার কারণে আমিন হাইপোভোলেমিক শকের ঝুঁকিতে রয়েছেন। নেহার র্যান্ডম ব্লাড সুগারের মাত্রা নেমে এসেছে মাত্র ৪৯ মিলিগ্রাম প্রতি ডেসিলিটারে। অন্যদিকে মনীশ ইতিমধ্যেই নিজের মোট শারীরিক ওজনের ১০ শতাংশেরও বেশি হারিয়েছেন। তা সত্ত্বেও আন্দোলন থেকে সরে আসার কোনো প্রশ্নই নেই বলে জানিয়েছে আইসা। সংগঠনের বক্তব্য, সরকারের ‘অপরাধের জবাবদিহি’ না হওয়া পর্যন্ত ছাত্রছাত্রীরা সোনম ওয়াংচুকের প্রতি সংহতি জানিয়ে অনশন চালিয়ে যেতে বদ্ধপরিকর।
উল্লেখ্য, গত ২৮ জুন থেকে দিল্লির যন্তর মন্তরে আমরণ অনশনে বসেছেন সোনম ওয়াংচুক-সহ বহু ছাত্রযুব। দেশজুড়ে বিভিন্ন প্রতিযোগিতামূলক পরীক্ষায় প্রশ্নফাঁসের অভিযোগ, পরীক্ষা ব্যবস্থার সংস্কার এবং কেন্দ্রীয় শিক্ষামন্ত্রীর পদত্যাগের দাবিতেই তিনি এই আন্দোলন শুরু করেন। তবে এখনও পর্যন্ত তাঁর দাবিগুলি নিয়ে কেন্দ্র সরকারের পক্ষ থেকে কোনও আনুষ্ঠানিক প্রতিক্রিয়া জানানো হয়নি।
❤ Support Us








