- এই মুহূর্তে বি। দে । শ
- জুলাই ২৫, ২০২৬
ইরানের জলসীমায় এলপিজি ট্যাঙ্কার ‘দিশা’য় ক্ষেপনাস্ত্র হামলা, বরাত জোরে বাঁচলেন ২৮ ভারতীয় নাবিক
ইরানের জলসীমায় আক্রান্ত মোজাম্বিকের পতাকাবাহী এলপিজি ট্যাঙ্কার ‘দিশা’। এই বাণিজ্যিক জাহাজে থাকা ২৮ জন ভারতীয় নাবিকই অক্ষত। তেহরানে অবস্থিত ভারতীয় দূতাবাস তাৎক্ষণিকভাবে সাড়া দিয়ে ভারতীয় নাবিকদের পাশে দাঁড়িয়েছে। ভারতীয় দূতাবাসের পক্ষ থেকে একটা আনুষ্ঠানিক বিবৃতি জারি করে বলা হয়েছে যে, ভয়াবহ দুর্ঘটনা সত্ত্বেও জাহাজে থাকা ২৮ জন ভারতীয় নাবিকই নিরাপদে রয়েছেন।
ঘটনাটি শুক্রবার ঘটেছে। ইরানের জলসীমায় মোজাম্বিকের পতাকাবাহী এলপিজি ট্যাঙ্কার ‘দিশা’–র ওপর ক্ষেপনাত্র হামলা চালানো হয়। কারা এই ক্ষেপনাস্ত্র হামলা চালিয়েছে, এখনও নিশ্চিত নয়। জাহাজটিতে ২৮ জন ভারতীয় নাবিক ছিলেন। তেহরানে অবস্থিত ভারতীয় দূতাবাস ঘটনার কথা জানার পরপরনিশ্চিত করেছে যে, ২৮ জন ভারতীয়ই নিরাপদে আছেন। দূতাবাস জানিয়েছে যে, তারা সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের সঙ্গে সার্বক্ষণিক যোগাযোগ রাখছে এবং পুরো ঘটনাটি পর্যবেক্ষণ করছে। বর্তমানে, সকল ভারতীয় নাবিকের নিরাপদ থাকার বিষয়টি নিশ্চিত করা হয়েছে।
ভারতীয় সামুদ্রিক কর্মীদের প্রতিনিধিত্বকারী সংস্থা ফরওয়ার্ড সীমেনস ইউনিয়ন অফ ইন্ডিয়া জানিয়েছে, পারস্য উপসাগরের দিকে যাওয়ার পথে হরমুজ প্রণালীর কাছে ট্যাঙ্কারটি এক অজ্ঞাত ক্ষেপণাস্ত্রের আঘাতে আক্রান্ত হয়েছিল। এই ঘটনাটি ইরান ও ওমানের মধ্যবর্তী কৌশলগতভাবে গুরুত্বপূর্ণ জলপথে বাণিজ্যিক জাহাজ চলাচলের নিরাপত্তা নিয়ে নতুন করে উদ্বেগ সৃষ্টি করেছে। সর্বশেষ সংঘাতের আগে, হরমুজ প্রণালী বিশ্বের প্রায় এক–পঞ্চমাংশ জ্বালানি সরবরাহের জন্য একটি প্রধান ট্রানজিট রুট হিসেবে কাজ করত।
শুক্রবার উত্তর ইরাকের মার্কিন সামরিক উপস্থিতি থাকা এক শহরে বিস্ফোরক বোঝাই ড্রোন হামলা চালানো হয়, অন্যদিকে বাহরিন থেকে সাইরেনের শব্দ শোনা যায়। মার্কিন সামরিক বাহিনী ইরানের বিরুদ্ধে টানা ১৩তম রাতের মতো হামলা চালানোর ঘোষণা দেওয়ার কয়েক ঘণ্টা পরেই এই ঘটনাগুলো ঘটে। গত সপ্তাহে উত্তেজনা আবারও বেড়ে যায়। মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ইরানের ওপর হামলা চালায়, অন্যদিকে তেহরান হরমুজ প্রণালীতে জাহাজে হামলা চালায় এবং এই অঞ্চলে মার্কিন সম্পদ ও মিত্রদের লক্ষ্যবস্তু বানায়।
হরমুজ প্রণালী বিশ্বব্যাপী জ্বালানি সরবরাহের একটি গুরুত্বপূর্ণ পথ এবং সাম্প্রতিক সংঘাতের কেন্দ্রবিন্দু। ইরানের হামলা এই জলপথটি বন্ধ করে দিতে পারে, যার ফলে বিশ্বজুড়ে জ্বালানির দাম তীব্রভাবে বেড়ে যাবে এবং ব্যাপক অর্থনৈতিক বিশৃঙ্খলা দেখা দেবে।
চলতি সপ্তাহে, ইরান সমর্থিত হুথি বিদ্রোহীরা লোহিত সাগরে দুটি সৌদি আরবীয় ট্যাঙ্কারকে লক্ষ্য করে হামলা চালিয়ে চাপ আরও বাড়িয়েছে এবং এই অঞ্চল থেকে তেল পরিবহনের একটি বিকল্প পথ বন্ধ করে দেওয়ার হুমকি বাস্তবায়ন করেছে। এই যুদ্ধ ইরান এবং বিশ্ব অর্থনীতির ওপর ব্যাপক ক্ষতিসাধন করলেও, এই নতুন দফার লড়াইয়ের কোনো সুস্পষ্ট সমাধান দেখা যাচ্ছে না। ইরানের স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় জানিয়েছে যে, সাম্প্রতিক সপ্তাহগুলোতে হামলায় ৫৫ জন নিহত এবং ৬০০ জনেরও বেশি আহত হয়েছেন।
❤ Support Us







