Advertisement
  • এই মুহূর্তে দে । শ
  • জুলাই ২৮, ২০২৬

মিড-ডে মিলের বরাদ্দে দেরি, আর্থিক সংকটে রাজ্যের বহু স্কুল। ধার করে চলছে পড়ুয়াদের দুপুরের খাবার

আরম্ভ ওয়েব ডেস্ক
মিড-ডে মিলের বরাদ্দে দেরি, আর্থিক সংকটে রাজ্যের বহু স্কুল। ধার করে চলছে পড়ুয়াদের দুপুরের খাবার

মিড-ডে মিল বা পিএম পোষণ প্রকল্পের অর্থ বরাদ্দ না আসায় রাজ্যের একাধিক স্কুলে চরম আর্থিক সংকট তৈরি হয়েছে। পড়ুয়াদের দুপুরের খাবার বন্ধ করা সম্ভব নয় বলে বহু স্কুল কর্তৃপক্ষ স্থানীয় দোকানদারদের কাছ থেকে ধার নিয়ে কোনও রকমে এই পরিষেবা চালিয়ে যাচ্ছে। ফলে একদিকে যেমন শিক্ষকদের উপর বাড়ছে আর্থিক চাপ, অন্যদিকে দোকানিদের কাছে বকেয়া টাকা নিয়ে তৈরি হচ্ছে অস্বস্তিকর পরিস্থিতি।

হাওড়া জেলার বেশ কয়েকটি স্কুলে বর্তমানে এমনই পরিস্থিতি দেখা দিয়েছে। জানা গিয়েছে, চলতি বছরের মার্চ মাসের পর থেকে অনেক স্কুলে পিএম পোষণ প্রকল্পের বরাদ্দ পৌঁছয়নি। কিন্তু পড়ুয়াদের খাবার সরবরাহ বন্ধ রাখা যায় না। বাধ্য হয়ে গত কয়েক মাস ধরে অনেক স্কুল স্থানীয় বাজারের দোকান থেকে বাকিতে চাল, ডাল, তেল ও অন্যান্য প্রয়োজনীয় সামগ্রী কিনে মিড-ডে মিল চালিয়ে যাচ্ছে। হাওড়ার একটি ব্লকের একাধিক স্কুলে এই সমস্যার কথা সামনে আসার পর বিষয়টি নিয়ে আলোচনা শুরু হয়েছে। তবে সমস্যা শুধু একটি ব্লক বা জেলার মধ্যে সীমাবদ্ধ নয়। রাজ্যের বিভিন্ন জেলার বহু স্কুলেই একই ধরনের আর্থিক টানাপড়েনের খবর পাওয়া যাচ্ছে।

বিকাশ ভবন সূত্রে জানা গিয়েছে, ২০২৬-২৭ অর্থবর্ষে পিএম পোষণ প্রকল্পের জন্য রাজ্য বাজেটে প্রায় ১,৮০০ কোটি টাকা বরাদ্দ করা হয়েছে। গত জুন মাসের শুরুতেই কেন্দ্রের কাছে ওই অর্থের জন্য আবেদন জানানো হয়। কিন্তু মঙ্গলবার পর্যন্ত কেন্দ্রের কাছ থেকে ওই খাতে কোনও অর্থ রাজ্যের হাতে এসে পৌঁছয়নি। এর ফলে বহু স্কুলের সঞ্চিত অর্থও প্রায় শেষ হয়ে এসেছে। দ্রুত অর্থ বরাদ্দ না হলে পরিস্থিতি আরও জটিল হতে পারে বলে আশঙ্কা তৈরি হয়েছে।

যদিও স্কুলশিক্ষা দফতরের তরফে স্পষ্ট জানানো হয়েছে, কোনও অবস্থাতেই মিড-ডে মিল পরিষেবা বন্ধ করা যাবে না। একদিনের জন্যও পড়ুয়াদের খাবার বন্ধ না করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। দফতর জানিয়েছে, বরাদ্দ অনুমোদিত হয়েছে এবং রাজ্যের হাতে টাকা পৌঁছলেই এই সমস্যার সমাধান হবে। স্কুলশিক্ষা দফতর সূত্রে জানা গিয়েছে, সাধারণত মিড-ডে মিল প্রকল্পে স্কুলগুলিকে কয়েক মাসের প্রয়োজন অনুযায়ী অগ্রিম অর্থের একটি অংশ দেওয়া হয়। সেই অর্থ দিয়েই স্কুলগুলি প্রাথমিকভাবে খাবারের ব্যবস্থা করে। পরবর্তী বরাদ্দ এলে আগের খরচের ঘাটতি পূরণ করা হয়। কিন্তু অনেক স্কুলে প্রয়োজনের তুলনায় কম অর্থ পাওয়া যাওয়ায় বর্তমানে তাদের তহবিলে চাপ পড়েছে।

এক প্রধানশিক্ষক জানান, সরকারি অর্থ নির্দিষ্ট খাত ছাড়া অন্য কোনও কাজে ব্যবহার করা যায় না। ফলে স্কুলের অন্যান্য উৎস থেকে এই ঘাটতি পূরণ করাও সম্ভব হয় না। বিশেষ করে যেসব স্কুলে পড়ুয়ার সংখ্যা কম, তাদের নিজস্ব তহবিল প্রায় থাকে না বললেই চলে। নদিয়ার একটি স্কুলের প্রধানশিক্ষক বলেন, কোনও কোনও স্কুলে পড়ুয়ার সংখ্যা বেশি হওয়ায় বরাদ্দও বেশি আসে। যেমন, ৮০০ পড়ুয়ার একটি স্কুল যদি পুরসভা থেকে ১ লক্ষ ৩০ হাজার টাকা পায় এবং খরচ হয় ১ লক্ষ টাকা, তাহলে সেখানে কিছু অর্থ জমে থাকতে পারে। কিন্তু সব স্কুলের ক্ষেত্রে এমন পরিস্থিতি নয়। কম পড়ুয়ার স্কুলগুলিতে বরাদ্দ কম হওয়ায় আর্থিক সংকট বেশি দেখা দিচ্ছে।

হাওড়ার বালি-জগাছা ব্লকের একটি স্কুলের প্রধানশিক্ষক জানিয়েছেন, মার্চ মাসে শেষবারের মতো টাকা পাওয়া গিয়েছিল। তারপর আর কোনও বরাদ্দ আসেনি। বর্তমানে স্থানীয় মুদির দোকানে প্রায় ৫০ হাজার টাকা বকেয়া হয়ে গিয়েছে। দোকানদারের সামনে পড়লেই অস্বস্তিতে পড়তে হচ্ছে বলে জানান তিনি। কতদিন এভাবে ধার করে পরিষেবা চালানো সম্ভব হবে, তা নিয়েও উদ্বেগ রয়েছে। মুর্শিদাবাদের একটি স্কুলের প্রধানশিক্ষক জানান, তিনি জুন মাসে শেষবার অর্থ পেয়েছেন এবং জুলাই পর্যন্ত অগ্রিম অর্থ রয়েছে। তবে পরবর্তী সময়ে টাকা না এলে সমস্যায় পড়তে হবে।

স্কুলশিক্ষা দফতরের এক আধিকারিক জানিয়েছেন, রাজ্যের বহু স্কুলেই একই ধরনের সমস্যা রয়েছে। বিষয়টি নিয়ে ইতিমধ্যেই প্রতিটি জেলার পিএম পোষণ প্রকল্পের দায়িত্বপ্রাপ্ত আধিকারিক, জেলাশাসক এবং জেলা স্কুল পরিদর্শকদের সঙ্গে বৈঠক করা হয়েছে। দফতরের আশা, কেন্দ্রীয় বরাদ্দ দ্রুত পৌঁছলে রাজ্যের স্কুলগুলির এই আর্থিক সংকট কাটিয়ে ওঠা সম্ভব হবে।


  • Tags:
❤ Support Us
error: Content is protected !!