- বি। দে । শ
- আগস্ট ১০, ২০২৬
প্রতিরক্ষা চুক্তির পরই সৌদির তেল শোধনাগারে হাউথির ড্রোন হামলা! প্রশ্নের মুখে নয়া জোটের কার্যকারিতা
সদ্য গঠিত তথাকথিত ‘মুসলিম ন্যাটো’-র কার্যকারিতা নিয়ে প্রশ্ন তুলে দিল ইয়েমেনের সশস্ত্র সংগঠন হাউথিদের ড্রোন হামলা। সৌদি আরব, পাকিস্তান ও তুরস্কের মধ্যে প্রতিরক্ষা চুক্তি সম্পন্ন হওয়ার মাত্র একদিনের মধ্যেই সৌদি আরবের একটি তেল শোধনাগারে ভয়ংকর হামলা চালাল হাউথিরা। হামলায় ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে বলে জানা গিয়েছে। যদিও সৌদি কর্তৃপক্ষের দাবি, হামলায় কোনো হতাহতের ঘটনা ঘটেনি এবং আগুন দ্রুত নিয়ন্ত্রণে আনা সম্ভব হয়েছে।
জানা গিয়েছে, সৌদি আরবের জিজান অঞ্চলে রাষ্ট্রায়ত্ত তেল সংস্থা সৌদি আরামকোর একটি তেল শোধনাগারকে লক্ষ্য করে ড্রোন হামলা চালানো হয়। হামলার পরই শোধনাগারে আগুন ধরে যায়। ঘটনার দায় স্বীকার করেছে হাউথি সংগঠন। রবিবার সৌদির জ্বালানি মন্ত্রকের পক্ষ থেকে হামলার কথা স্বীকার করা হয়। মন্ত্রকের বিবৃতিতে জানানো হয়েছে, ড্রোন হামলার জেরে শোধনাগারে আগুন লাগলেও অল্প সময়ের মধ্যেই তা নিয়ন্ত্রণে আনা সম্ভব হয়েছে। ঘটনায় কোনো হতাহতের খবর নেই বলেও জানানো হয়েছে।
অন্যদিকে, ইয়েমেনের সামরিক মুখপাত্র ইয়াহিয়া সারি সোশাল মিডিয়ায় দাবি করেছেন, জিজানের ওই তেল শোধনাগার লক্ষ্য করে ড্রোন হামলা চালানো হয়েছে। তাঁর বক্তব্য, ইয়েমেনের আকাশসীমায় সৌদি আরবের ড্রোন অনুপ্রবেশের জবাব হিসেবেই এই হামলা চালানো হয়েছে। সম্প্রতি হাউথিদের সঙ্গে সৌদি আরবের সংঘাতও নতুন করে তীব্র হয়েছে। ইরানের সঙ্গে চলমান সংঘাতের আবহেই গত মাসে লোহিত সাগরে সৌদি আরবের বিরুদ্ধে নৌ অবরোধ শুরু করার কথা জানিয়েছিল হাউথিরা। তাদের অভিযোগ ছিল, সৌদি আরবই প্রথম তাদের বিরুদ্ধে অবরোধ আরোপ করেছিল। তারই পালটা পদক্ষেপ হিসেবে লোহিত সাগরে নৌ অবরোধ শুরু করা হয় বলে দাবি হাউথিদের। এবার সৌদি ড্রোনের ইয়েমেনের আকাশসীমায় প্রবেশের পাল্টা হিসেবে জিজানের তেল শোধনাগারে হামলা চালানোর দাবি করল তারা।
হামলার সময়টিই সবচেয়ে বেশি তাৎপর্যপূর্ণ। কারণ, এর ঠিক আগেই সৌদি আরব, পাকিস্তান ও তুরস্ক একটি প্রতিরক্ষা চুক্তিতে সই করেছে। তিন দেশের যৌথ সাংবাদিক সম্মেলনে জানানো হয়েছিল, তাদের কোনও একটি দেশের উপর শত্রুপক্ষ হামলা চালালে সেটিকে বাকি দুই দেশ নিজেদের উপর হামলা হিসেবেই বিবেচনা করবে। অর্থাৎ, একটি দেশ আক্রান্ত হলে অন্য দুই দেশ তার পাশে দাঁড়াবে—এমনই বার্তা দেওয়া হয়েছিল এই প্রতিরক্ষা সমঝোতার মাধ্যমে। কিন্তু প্রতিরক্ষা চুক্তি সম্পন্ন হওয়ার মাত্র কয়েক ঘণ্টা পরেই সৌদি ভূখণ্ডে হাউথিদের ড্রোন হামলা নতুন করে প্রশ্ন তুলে দিয়েছে এই জোটের বাস্তব সক্ষমতা নিয়ে। সমালোচকদের একাংশের মতে, তিন দেশের ঘোষিত সামরিক সমঝোতার কার্যকারিতা নিয়ে যে প্রশ্ন আগে থেকেই ছিল, হাউথিদের এই হামলা তা আরও সামনে এনে দিয়েছে।
সৌদি আরব, পাকিস্তান ও তুরস্কের এই নতুন সামরিক জোটকে ইতিমধ্যেই অনেকে ‘মুসলিম ন্যাটো’ বলে অভিহিত করছেন। চুক্তির মূল লক্ষ্য যদি হয়— এক দেশের উপর হামলাকে তিন দেশের উপর হামলা হিসেবে দেখা এবং প্রয়োজনে সম্মিলিতভাবে প্রতিরোধ গড়ে তোলা— তাহলে সৌদির মাটিতে হাউথিদের এ হামলা সে প্রতিশ্রুতির প্রথম বড়ো পরীক্ষাগুলির একটি। ফলে প্রশ্ন উঠছে, নয়া ‘জোট’ কি বাস্তবে একে অপরের নিরাপত্তার গ্যারান্টি দিতে পারবে, না কি প্রতিরক্ষা চুক্তি শেষ পর্যন্ত কাগজেই সীমাবদ্ধ থাকবে?
❤ Support Us








