Advertisement
  • দে । শ
  • আগস্ট ২২, ২০২৬

টিসি দেওয়া নিয়ে বচসা, স্টাফ রুমে মহিলা কর্মীকে মারধরের অভিযোগ, মালদহের স্কুলে উত্তেজনা

আরম্ভ ওয়েব ডেস্ক
টিসি দেওয়া নিয়ে বচসা, স্টাফ রুমে মহিলা কর্মীকে মারধরের অভিযোগ, মালদহের স্কুলে উত্তেজনা

মালদহের বামনগোলার জগদলা হাই স্কুলে এক মহিলা অশিক্ষক কর্মীকে ছাত্রছাত্রীদের একাংশ মারধর করেছে বলে অভিযোগ উঠেছে । শুক্রবার এক প্রাক্তন ছাত্রকে ট্রান্সফার সার্টিফিকেট (টিসি) দেওয়া নিয়ে বচসার সূত্রপাত । অভিযোগ, পরবর্তী সময়ে কয়েক জন ছাত্রছাত্রী স্কুলের শিক্ষক-শিক্ষিকা ও শিক্ষাকর্মীদের বসার ঘর বা স্টাফ রুমে ঢুকে ওই মহিলা কর্মীকে মারধর করেন । ঘটনার একটি ভিডিয়োও সমাজমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়েছে ।

ঘটনায় ওই মহিলা কর্মীও কয়েক জন ছাত্রছাত্রীকে মারধর করেছেন বলে অভিযোগ রয়েছে । গোটা ঘটনায় স্কুলের ভারপ্রাপ্ত প্রধানশিক্ষক তথা টিচার-ইন-চার্জ (টিআইসি) অমিত হালদার এবং আরও কয়েক জন শিক্ষকের বিরুদ্ধে ইন্ধন ও উস্কানি দেওয়ার অভিযোগ তুলেছেন আক্রান্ত মহিলা । তিনি বামনগোলা থানায় লিখিত অভিযোগও দায়ের করেছেন ।

প্রায় দেড় বছর আগে জগদলা হাই স্কুলে অশিক্ষক কর্মী হিসেবে যোগ দেন ওই মহিলা । তাঁর দাবি, শুক্রবার এক প্রাক্তন ছাত্রের টিসি দেওয়ার বিষয়টি নিয়ে সমস্যা তৈরি হয় । স্কুলের নথিতে ওই ছাত্রের নামের বানান ভুল থাকায় তিনি টিসি দিতে পারবেন না বলে জানান । অভিযোগ, এই বিষয়কে কেন্দ্র করেই তাঁর সঙ্গে বচসা শুরু হয় এবং পরে ছাত্রছাত্রীদের একাংশ স্টাফ রুমে ঢুকে তাঁকে মারধর করেন ।

মহিলার অভিযোগ, শুধু টিসি-সংক্রান্ত বিষয় নয়, এর আগেও টিআইসি অমিত হালদার তাঁকে দিয়ে জোর করে অনৈতিক কাজ করানোর চেষ্টা করেছেন এবং তাঁর গায়ে হাত তুলেছেন । এমনকি ছাত্রছাত্রীদের দিয়েও তাঁকে মারধর করানো হয়েছে বলে তাঁর দাবি । তিনি বলেন, ছাত্রছাত্রীরা স্টাফ রুমে ঢুকে একজন শিক্ষক বা শিক্ষাকর্মীর গায়ে হাত তোলার সাহস কী ভাবে পেলেন, তার তদন্ত হওয়া প্রয়োজন ।

মহিলা আরও অভিযোগ করেছেন, স্কুলে মিড-ডে মিল-সহ বিভিন্ন বিষয়ে অনিয়ম ও দুর্নীতি হয়েছে । তাঁর দাবি, টিআইসি এবং কয়েক জন শিক্ষক দীর্ঘদিন ধরে প্রভাবশালী হওয়ায় তাঁদের বিরুদ্ধে অভিযোগ থাকা সত্ত্বেও প্রশাসনের তরফে যথাযথ ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি । এর আগেও তিনি টিআইসির বিরুদ্ধে শ্লীলতাহানি এবং কুপ্রস্তাব দেওয়ার অভিযোগ করেছিলেন বলে জানিয়েছেন। ঘটনায় টিআইসি অমিত হালদারের পাশাপাশি দুই শিক্ষক ননী রায় ও বিমান পালের বিরুদ্ধেও থানায় অভিযোগ করেছেন তিনি।
অন্য দিকে, তাঁর বিরুদ্ধে ওঠা সমস্ত অভিযোগ ভিত্তিহীন বলে দাবি করেছেন অমিত হালদার । তাঁর বক্তব্য, জগদলা হাই স্কুলে তিনি প্রায় ১৮ বছর ধরে কর্মরত এবং গত দু’বছর ধরে টিআইসির দায়িত্বে রয়েছেন । তাঁর দাবি, দেড় বছর আগে ওই মহিলা কাজে যোগ দেওয়ার পর থেকে তিনি নিয়মমাফিক কাজ করেননি ।

অমিতের বক্তব্য অনুযায়ী, এক ছাত্রের টিসি দেওয়া নিয়ে ওই মহিলা কর্মীর সঙ্গে তাঁর বচসা হয়। তাঁকে স্কুলের নথিতে থাকা তথ্য অনুযায়ী প্রয়োজনীয় বিষয় লিখে দিতে বলা হলেও তিনি তা করতে অস্বীকার করেন । উল্টে তাঁকে অকথ্য ভাষায় গালিগালাজ করা হয় বলে অমিতের দাবি । তিনি বলেন, ‘‘আমি কিছু বলার পর ঘুরে এসে আমাকে চড় মারেন । আমি মানসম্মান বজায় রেখে নিজের চেয়ারে বসে পড়ি। বাইরে কী হয়েছে, আর কিছুই জানি না ।’’

অমিত আরও দাবি করেন, পরে কয়েক জন পড়ুয়া তাঁকে জানায় যে তাঁদের মারধর করা হয়েছে । পুলিশ-প্রশাসনের পরামর্শে তিনি মেডিক্যাল পরীক্ষার জন্য হাসপাতালে যান । তাঁর অভিযোগ, সেখানেই ওই মহিলা কর্মী এবং তাঁর স্বামী তাঁকে মারধর করেন এবং মারতে মারতে রাস্তায় ফেলে দেওয়া হয় ।

স্কুলের ঘটনায় রাজনৈতিক প্রভাব খাটানোর অভিযোগও উঠেছে । মহিলা কর্মীর দাবি, টিআইসি এবং অন্য কয়েক জন শিক্ষক দীর্ঘদিন ধরে তৃণমূলের আমল থেকে প্রভাবশালী । যদিও অমিত হালদার এই অভিযোগও অস্বীকার করেছেন । তাঁর বক্তব্য, ‘‘এটা শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান। তৃণমূল-বিজেপির কোনও ব্যাপার নেই ।’’

ঘটনার নিন্দা করেছে বিজেপি। দক্ষিণ মালদহ বিজেপির সাধারণ সম্পাদক বিশ্বজিৎ রায় বলেন, স্কুলের মহিলা কর্মীকে যে ভাবে মারধর করা হয়েছে, তা নিয়ে পুলিশ-প্রশাসনের তদন্ত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া উচিত । একই সঙ্গে মহিলার বিরুদ্ধে ওঠা কুপ্রস্তাবের অভিযোগও খতিয়ে দেখার দাবি জানিয়েছেন তিনি । স্কুলে কোনও ধরনের রাজনৈতিক হস্তক্ষেপ বরদাস্ত করা হবে না বলেও মন্তব্য করেন তিনি ।

তৃণমূল নেতা বিশ্বজিৎ ঘোষও ঘটনার নিরপেক্ষ তদন্তের দাবি জানিয়েছেন । তাঁর বক্তব্য, তদন্তে যিনি দোষী প্রমাণিত হবেন, তাঁর বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া উচিত । একই সঙ্গে গোটা ঘটনার সঙ্গে দলের কোনও যোগ নেই বলেও দাবি করেছেন তিনি ।
টিসি দেওয়া নিয়ে শুরু হওয়া বচসা কী ভাবে স্কুলের স্টাফ রুমে মারধর এবং পরস্পরের বিরুদ্ধে অভিযোগ-পাল্টা অভিযোগে গড়াল, তা নিয়ে এখন তদন্তের দিকেই তাকিয়ে সংশ্লিষ্ট সকলে । বিষয়টি ইতিমধ্যেই থানায় গড়ানোয় পুলিশি তদন্তে প্রকৃত ঘটনা এবং অভিযোগগুলির সত্যতা কতটা, তা স্পষ্ট হওয়ার অপেক্ষা ।


  • Tags:
❤ Support Us
error: Content is protected !!