- দে । শ
- আগস্ট ২২, ২০২৬
মালদার রসিকচন্দ্রের সুপ্রিম স্বস্তি, শতক পেড়িয়ে মকুব সাজা
প্রায় চার দশক ধরে চলা আইনি লড়াইয়ের অবশেষে ইতি । ১০৫ বছর বয়সে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড থেকে মুক্তি পেলেন মালদার রসিকচন্দ্র মণ্ডল। বয়স ও শারীরিক অবস্থার কথা বিবেচনা করে তাঁর বাকি সাজা মকুব করে দিয়েছে সুপ্রিম কোর্ট । একই সঙ্গে মামলাটিরও চূড়ান্ত নিষ্পত্তি করেছে শীর্ষ আদালত । আদালত জানিয়েছে, এবার থেকে রসিকচন্দ্র একজন স্বাধীন নাগরিকের মতো জীবন কাটাতে পারবেন ।
ঘটনার সূত্রপাত ১৯৮৮ সালে । সম্পত্তি নিয়ে বিবাদের জেরে নিজের ভাই সুরেশ মণ্ডলকে খুনের অভিযোগ ওঠে রসিকচন্দ্রের বিরুদ্ধে । দীর্ঘ বিচারপ্রক্রিয়ার পর ১৯৯৪ সালে মালদহের নিম্ন আদালত তাঁকে দোষী সাব্যস্ত করে যাবজ্জীবন কারাদণ্ডের সাজা দেয় । সেই সময় রসিকচন্দ্রের বয়স ছিল ৭৪ বছর ।
নিম্ন আদালতের রায়ের বিরুদ্ধে পরে কলকাতা হাইকোর্টের দ্বারস্থ হন তিনি । দীর্ঘদিন জেলে থাকার পর করা সেই আবেদনও ২০১৮ সালে খারিজ হয়ে যায় । এরপর সুপ্রিম কোর্টে আবেদন করেন রসিকচন্দ্র। সেখানেও প্রথম দিকে কোনও সুরাহা মেলেনি ।
এরপর ২০২০ সালে, ৯৯ বছর বয়সে, জেল থেকে মুক্তির দাবিতে ফের সুপ্রিম কোর্টে আবেদন করেন তিনি । তাঁর আইনজীবীরা আদালতে জানান, রসিকচন্দ্র অত্যন্ত বৃদ্ধ এবং একাধিক বার্ধক্যজনিত শারীরিক সমস্যায় ভুগছেন । এই পরিস্থিতিতে তাঁকে কারামুক্ত করার আবেদন জানানো হয় ।
সেই আবেদনের ভিত্তিতে ২০২১ সালের মে মাসে পশ্চিমবঙ্গ সরকারের কাছে মামলাটি নিয়ে মতামত জানতে চায় সুপ্রিম কোর্ট। দীর্ঘ অপেক্ষার পর ২০২৪ সালের নভেম্বরে শীর্ষ আদালত তাঁকে অন্তর্বর্তী জামিনে মুক্তি দেয়। তারপর থেকে জেলের বাইরে ছিলেন রসিকচন্দ্র । শুক্রবার মামলার চূড়ান্ত শুনানিতে প্রধান বিচারপতি সূর্য কান্ত, বিচারপতি জয়মাল্য বাগচী এবং বিচারপতি ভি. মোহনার ডিভিশন বেঞ্চ রসিকচন্দ্রের বয়স ও শারীরিক অবস্থার কথা বিবেচনা করে তাঁর বাকি সাজা মকুবের নির্দেশ দেয়। একই সঙ্গে মামলাটিরও চূড়ান্ত নিষ্পত্তি করা হয়।
শুনানির সময় রসিকচন্দ্রের বয়স নিয়েও বিস্ময় প্রকাশ করেন বিচারপতিরা । ১০৫ বছর বয়সেও তিনি নিজের মামলার বিষয়ে আইনজীবীদের প্রয়োজনীয় নির্দেশ দিচ্ছেন — এই বিষয়টি শুনে তাঁরা অবাক হন ।
১৯৮৮ সালের একটি খুনের অভিযোগ থেকে শুরু করে ১৯৯৪ সালের যাবজ্জীবন সাজা, ২০১৮ সালে হাইকোর্টে আবেদন খারিজ, এরপর সুপ্রিম কোর্টে দীর্ঘ আইনি লড়াই—সব মিলিয়ে প্রায় ৪০ বছর ধরে আইনের জটিলতার মধ্যে ছিলেন রসিকচন্দ্র। অবশেষে ১০৫ বছর বয়সে সেই আইনি লড়াইয়ের পরিসমাপ্তি ঘটল। কারাগারের গণ্ডি পেরিয়ে জীবনের শেষ পর্বে পরিবারের সান্নিধ্যে স্বাধীনভাবে থাকার সুযোগ পেলেন তিনি।
❤ Support Us






