Advertisement
  • বি। দে । শ
  • সেপ্টেম্বর ৫, ২০২৬

‘মার্কেটর’ নয়, ‘ইকুয়াল আর্থ’ : পৃথিবীর মানচিত্রে আয়তনের নতুন হিসাবের প্রস্তাব পাস রাষ্ট্রপুঞ্জে

আরম্ভ ওয়েব ডেস্ক
‘মার্কেটর’ নয়, ‘ইকুয়াল আর্থ’ : পৃথিবীর মানচিত্রে আয়তনের নতুন হিসাবের প্রস্তাব পাস রাষ্ট্রপুঞ্জে

প্রায় ৫০০ বছর ধরে ব্যবহৃত হয়ে আসা ‘মার্কেটর প্রজেকশন’-এর বিকল্প হিসেবে পৃথিবীর মহাদেশগুলির প্রকৃত আয়তন তুলনামূলকভাবে আরও নির্ভুলভাবে তুলে ধরতে নতুন মানচিত্র ব্যবহারের পক্ষে প্রস্তাব পাস করল রাষ্ট্রপুঞ্জের সাধারণ সভা। শনিবার, এ সংক্রান্ত প্রস্তাবের উপর ভোটাভুটিতে ‘ইকুয়াল আর্থ’ প্রজেকশন ব্যবহারের পক্ষে বিপুল সমর্থন মিলেছে।

প্রথাগত ‘মার্কেটর মানচিত্র’-এ মহাদেশগুলির প্রকৃত আয়তনের তুলনামূলক ভারসাম্য অনেকটাই বদলে যায়। বিশেষ করে উত্তর ও দক্ষিণ মেরুর কাছাকাছি থাকা ভূখণ্ডগুলি বাস্তবের তুলনায় অনেক বড়ো দেখায়। এর সবচেয়ে উল্লেখযোগ্য উদাহরণ আফ্রিকা ও গ্রিনল্যান্ড। মার্কেটর প্রজেকশনে গ্রিনল্যান্ডকে প্রায় আফ্রিকার সমান আয়তনের বলে মনে হতে পারে। কিন্তু বাস্তবে আফ্রিকা গ্রিনল্যান্ডের চেয়ে প্রায় ১৪ গুণ বড়ো।

অন্যদিকে, ‘ইকুয়াল আর্থ’ প্রজেকশনের মূল লক্ষ্যই হলো মানচিত্রে বিভিন্ন মহাদেশ ও ভূখণ্ডের তুলনামূলক আয়তনকে বাস্তবের কাছাকাছি তুলে ধরা। ফলে এই মানচিত্রে আফ্রিকার বিশাল আয়তন এবং অন্যান্য মহাদেশের সঙ্গে তার প্রকৃত আকারের পার্থক্য আরও স্পষ্টভাবে বোঝা যায়।

প্রসঙ্গত, ফ্লেমিশ— অর্থাৎ বর্তমান বেলজিয়াম-জার্মান ভূগোলবিদ ও মানচিত্রবিদ জেরার্ডাস মার্কেটর ১৫৬৯ সালে তাঁর বিখ্যাত মানচিত্র বা ‘মার্কেটর প্রজেকশন’ তৈরি করেছিলেন। নৌ-পরিবহণ ও দিক নির্ণয়ের ক্ষেত্রে এই প্রজেকশন দীর্ঘদিন অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ হলেও মহাদেশগুলির প্রকৃত আয়তন দেখানোর ক্ষেত্রে এর সীমাবদ্ধতা রয়েছে।

রাষ্ট্রপুঞ্জের সাধারণ সভায় শনিবার মোট ১৭১টি সদস্যরাষ্ট্র ভোটাভুটিতে অংশ নেয়। তাদের মধ্যে ভারত-সহ ১৬৪টি দেশ মার্কেটর প্রজেকশনের পরিবর্তে পৃথিবীর প্রকৃত আয়তন তুলনামূলকভাবে সঠিকভাবে তুলে ধরে— এমন মানচিত্র, বিশেষ করে ‘ইকুয়াল আর্থ’ প্রজেকশন ব্যবহারের পক্ষে সমর্থন জানায়। তবে এই প্রস্তাবের বিরোধিতা করেছে আমেরিকা। আরও ৬টি দেশ ভোটদানে বিরত ছিল। ‘কারেক্ট দ্য ম্যাপ’ নামে মানচিত্র পরিবর্তনের এই প্রস্তাবটি রাষ্ট্রপুঞ্জে পেশ করেছিল আফ্রিকার দেশ টোগো।

ওয়াশিংটনের বক্তব্য, আন্তর্জাতিক শান্তি, সমৃদ্ধি এবং দেশগুলির মধ্যে কূটনৈতিক সুসম্পর্কের মতো ‘প্রকৃত সমস্যা’ থেকে মানুষের মনোযোগ সরাতেই মানচিত্র নিয়ে এই ধরনের অপ্রয়োজনীয় বিতর্ক তৈরি করা হচ্ছে। তবে রাষ্ট্রপুঞ্জের সাধারণ সভায় প্রস্তাবটি পাস হলেও এই দফায় সদস্যরাষ্ট্রগুলির জন্য ‘ইকুয়াল আর্থ’ প্রজেকশন ব্যবহার বাধ্যতামূলক করা হয়নি। অর্থাৎ, পৃথিবীর মানচিত্রের আয়তনগত ভুল ধারণা সংশোধনের পক্ষে রাষ্ট্রপুঞ্জের রাজনৈতিক সমর্থন মিললেও, এখনই সব দেশের মানচিত্র বদলে ফেলার কোনও বাধ্যবাধকতা তৈরি হয়নি।


  • Tags:
❤ Support Us
error: Content is protected !!