- এই মুহূর্তে দে । শ
- সেপ্টেম্বর ২৭, ২০২৫
মণিপুর, নাগাল্যান্ড, অরুণাচল প্রদেশের কিছু অংশে আরও ৬ মাস AFSPA–র মেয়াদ বাড়ালো কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রক
মণিপুরে সশস্ত্র বাহিনী বিশেষ ক্ষমতা আইনের (AFSPA) মেয়াদ আরও ৬ বাড়ানো হল। শুক্রবরাই এই সিদ্ধান্তের কথা জানিয়েছে কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্র মন্ত্রক। শুধু মণিপুরই নয়, নাগাল্যান্ড ও অরুণাচল প্রদেশের বেশকিছু এলাকায় আইনশৃঙ্খলার পরিস্থিতি বিবেচনা করে AFSPA–র মেয়াদ বাড়ানো হয়েছে।
শুক্রবার কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্র মন্ত্রকের পক্ষ থেকে এক বিজ্ঞপ্তি জারি করা হয়েছে। বিজ্ঞপ্তি অনুসারে মণিপুরের ৫টি জেলার ১৩টি থানা বাদ দিয়ে গোটা রাজ্য, নাগাল্যান্ডের ৯টি জেলার সমগ্র এবং আরও পাঁচটি জেলার ২১টি থানা এলাকায় ৬ মাসের জন্য মেয়াদ বাড়ানো হয়েছে। সাম্প্রতিক আইনশৃঙ্খলার পরিস্থিতি বিবেচনা অরুণাচল প্রদেশের তিরাপ, চাংলাং এবং লংডিং জেলা এবং আসামের সীমান্তবর্তী নামসাই জেলার তিনটি থানা এলাকায়ও AFSPA সম্প্রসারিত করা হয়েছে। এই তিনটি রাজ্যের নির্দিষ্ট এলাকায় ১ অক্টোবর থেকে AFSPA ৬ মাসের জন্য কার্যকর হবে। AFSPA কঠোর আইন হিসেবে বিবেচিত হয়। অশান্ত এলাকায় তল্লাশি, গ্রেফতার এবং প্রয়োজন মনে করলে নিরাপত্তা বাহিনীকে গুলি চালানোর ক্ষমতা দেয় এই আইন।
কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্র মন্ত্রকের জারি করা মণিপুর সংক্রান্ত বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়েছে, ‘মণিপুর রাজ্যের আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির আরও পর্যালোচনা করা হয়েছে। আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি পর্যালোচনা করে ৫টি জেলার ১৩ টি থানার আওতাধীন এলাকাগুলি বাদ দিয়ে সমগ্র মণিপুর রাজ্যকে ১ অক্টোবর থেকে ৬ মাসের জন্য অশান্ত এলাকা হিসাবে ঘোষণা করা হচ্ছে এবং AFSPA–র মেয়াদ বৃদ্ধি করা হচ্ছে।’ মণিপুরে যে সকল থানা এলাকায় AFSPA বলবৎ হবে না, সেগুলি হল, ইম্ফল, লাম্ফল, সিটি, সিংজামেই, পাটসোই, ইম্ফল পশ্চিম জেলার ওয়াঙ্গোই, পোরোম্পট, হেইনগাং, ইম্ফল পূর্ব জেলার ইরিলবুং, থৌবাল জেলার থৌবাল এবং বিষ্ণুপুর এবং কাচ্চিঙক জেলার বিষ্ণুপুর ও নাম্বোল।
২০২৩ সালের মে মাস থেকে ২৬০ জনেরও বেশি মানুষের প্রাণহানির পর এবছর ৯ ফেব্রুয়ারি বিজেপি নেতৃত্বাধীন সরকারের নেতৃত্বাধীন মুখ্যমন্ত্রী এন বীরেন সিং পদত্যাগ করেন। বীরেন সিংয়ের পদত্যাগের পর ১৩ ফেব্রুয়ারি থেকে মণিপুরে রাষ্ট্রপতি শাসন জারি রয়েছে। ২০০৪ সাল থেকে ২০২২ সালের প্রথম দিক পর্যন্ত ইম্ফল পৌরসভা এলাকা ছাড়া সমগ্র মণিপুরকে অশান্ত এলাকা হিসেবে ঘোষণা করা হয়েছিল। ২০২২ সালের এপ্রিলে মণিপুর সরকার এক বিজ্ঞপ্তি জারি করে। সেই বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়েছিল যে, ইম্ফল পশ্চিম জেলার সাতটি থানা এলাকা, ইম্ফল পূর্ব জেলার অধীনে চারটি থানা এলাকা এবং থৌবাল, বিষ্ণুপুর, কাকচিং এবং জিরিবাম জেলায় একটা করে থানা অশান্ত এলাকা হিসেবে প্রযোজ্য হবে না।
২০২৪ সালের অক্টোবরে মণিপুর সরকার ১৯টি থানা এলাকা বাদে সমগ্র রাজ্যে পুনরায় AFSPA আরোপ করে। এক মাস পরে জিরিবাম জেলায় হিংস ছড়িয়ে পড়ার পর ১৯টি থানা এলাকার মধ্যে ছয়টিতেও AFSPA বাড়ানো হয়। ২০২৩ সালের মে মাস থেকে ইম্ফল উপত্যকাভিত্তিক মেইতে এবং পার্শ্ববর্তী পাহাড়ভিত্তিক কুকি–জো গোষ্ঠীর মধ্যে জাতিগত হিংসায় ২৬০ জনেরও বেশি মানুষ নিহত এবং হাজার হাজার গৃহহীন হয়েছে।
একটা আলাদা বিজ্ঞপ্তিতে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় জানিয়েছে যে, নাগাল্যান্ডের আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির আরও পর্যালোচনা করা হয়েছে। এরপর নাগাল্যান্ডের ডিমাপুর, নিউল্যান্ড, চুমোকেদিমা, মোন, কিফিরে, নোকলাক, ফেক, পেরেন এবং মেলুরি জেলাগুলিকে AFSPA–র অধীনে নিয়ে আসা হয়েছে। যা ১ অক্টোবর থেকে কার্যকর হবে। বিজ্ঞপ্তিতে আরও ঘোষণা করা হয়েছে যে, ১ অক্টোবর থেকে আরও ৬ মাসের জন্য, কোহিমা জেলার খুজামা, কোহিমা উত্তর, কোহিমা দক্ষিণ, জুবজা এবং কেজোচা থানার আওতাধীন এলাকা, মোকোকচুং জেলার মাংকোলেম্বা, মোকোকচুং-১, লংথো, তুলি, লংচেম এবং আনাকি ‘সি’ থানার আওতাধীন এলাকা, লংলেং জেলার ইয়াংলোক থানা, ওখা জেলার ভান্ডারি, চম্পাং এবং রালান থানা, এবং জুনহেবোটো জেলার ঘাটাশি, পুঘোবোটো, সাতখা, সুরুহুতো, জুনহেবোটো এবং আঘুনাতো থানার আওতাধীন এলাকাগুলিকে AFSPA–এর আওতাধীন অশান্ত এলাকা হিসেবে ঘোষণা করা হয়েছে।
স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের জারি করা তৃতীয় বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়েছে যে, অরুণাচল প্রদেশের আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি পর্যালোচনা করে তিরাপ, চাংলাং এবং লংডিং জেলা এবং আসামের সীমান্তবর্তী অরুণাচল প্রদেশের নামসাই জেলার নামসাই, মহাদেবপুর এবং চৌখাম থানার আওতাধীন এলাকাগুলিকে অশান্ত এলাকা হিসাবে ঘোষণা করা হয়েছে। আগামী ১ অক্টোবর থেকে ৬ মাসের জন্য এলাকাগুলিতে AFSPA বলবৎ থাকবে।
❤ Support Us






