- এই মুহূর্তে দে । শ
- সেপ্টেম্বর ২৫, ২০২৫
বিহার ‘এসআইআর’ বিতর্কে সতর্ক পদক্ষেপ। দেশের বাকি অংশে ভোটার তালিকা সংশোধনের আগে রাজনৈতিক দলগুলোর সঙ্গে আলোচনায় বসবে ইসি
বিহারে ভোটার তালিকা সংশোধন ঘিরে প্রবল বিতর্কের মুখে পড়ে শিক্ষা নিয়েছে জাতীয় নির্বাচন কমিশন। এবার আর কোনো ঝুঁকি নিতে চাইছে না তাঁরা। তাই সারা দেশে যখন নতুন করে ভোটার তালিকার নিবিড় সংশোধনের পরিকল্পনা চলছে, তখন আগেভাগে রাজনৈতিক দলগুলিকে আলোচনায় বসার ইঙ্গিত মিলেছে। বিহারে যা করা হয়নি — সে ভুল আর একবার করতে নারাজ নিস্পৃহ এই সংস্থা। সূত্রের খবর, দেশের বিভিন্ন রাজ্য ও কেন্দ্রশাসিত অঞ্চলের মুখ্য নির্বাচনী আধিকারিকদের স্পষ্ট বার্তা দেওয়া হয়েছে যে, সংশোধনী প্রক্রিয়া শুরুর আগে রাজনৈতিক দলগুলির সঙ্গে বৈঠক করতে হবে। তাতে প্রাথমিক আপত্তি, বা আইনি জটিলতার আশঙ্কা কিছুটা হলেও কমবে বলে মনে করা হচ্ছে।
চলতি বছরের ২৪ জুন বিহারে ‘এসআইআর’ প্রক্রিয়া চালু করে ইসি। পরদিন, ২৫ জুন থেকে শুরু হয় ভোটারদের তথ্য সংগ্রহের কাজ। কোনো রাজনৈতিক দলের সঙ্গে আলোচনা না করেই এ সিদ্ধান্ত কার্যকর হওয়ায় প্রবল আপত্তি তোলে বিরোধী দলগুলি। শাসক দলও অনেকক্ষেত্রে চুপ করে থাকেনি। কমিশনের নির্দেশ অনুযায়ী, বিহারের ৭.৮৯ কোটি ভোটারের প্রত্যেককেই ২৫ জুলাইয়ের মধ্যে ফর্ম পূরণ করতে বলা হয়। সেই সঙ্গে দিতে বলা হয় নাগরিকত্ব প্রমাণের নথি। সূত্রের দাবি, এই প্রক্রিয়ায় প্রায় ৬৫ লক্ষ ভোটারকে তালিকা থেকে বাদ দেওয়া হয়েছে। কারণ হিসেবে দেখানো হয়েছে — কেউ মৃত, কেউ স্থানান্তরিত, কেউ একাধিক জায়গায় নাম তুলেছেন, কেউ বা খুঁজেই পাওয়া যায়নি। তবে এখানেই শেষ নয়। জানা গিয়েছে, ২০০৩ সালের ১ জানুয়ারির পর যাঁরা ভোটার তালিকায় নাম তুলেছেন, তাঁদের প্রত্যেককেই জন্মের প্রমাণপত্র দিতে বলা হয়েছে। বিশেষ করে, ১ জুলাই ১৯৮৭ থেকে ২ ডিসেম্বর ২০০৪-এর মধ্যে জন্মানো ভোটারদের ক্ষেত্রে অভিভাবকেরও জন্ম সংক্রান্ত নথি লাগবে। ২ ডিসেম্বর ২০০৪-এর পর জন্মানোদের দিতে হবে নিজে এবং দু’জন অভিভাবকের জন্ম সংক্রান্ত নথি। সব মিলিয়ে বিরোধীদের অভিযোগ, এই প্রক্রিয়া আসলে ‘ব্যাকডোর এনআরসি’। নির্বাচন কমিশন নাগরিকত্ব যাচাইয়ের নামে কার্যত জাতীয় নাগরিক পঞ্জি চালু করছে বলেই অভিযোগ বিরোধী দলগুলির একাংশের।
ইতিমধ্যেই এই প্রক্রিয়ার বৈধতা চ্যালেঞ্জ করে একাধিক মামলা দায়ের হয়েছে সুপ্রিম কোর্টে। আবেদনের মূল ভিত্তি, নির্বাচন কমিশনের নাগরিকত্ব যাচাইয়ের অধিকার নেই। সংবিধান অনুযায়ী, নাগরিকত্ব নির্ধারণের ক্ষমতা একমাত্র সংসদের, কমিশনের নয়। জবাবে ইসি স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছে, সংবিধানের ৩২৬ অনুচ্ছেদ অনুযায়ী শুধু ভারতীয় নাগরিকরাই ভোটার তালিকায় নাম তুলতে পারেন। সে সূত্রেই নাগরিকত্ব যাচাই করাটা কমিশনের দায়িত্ব। যদিও কমিশন এটাও স্পষ্ট করেছে যে, কারও নাম তালিকা থেকে বাদ গেলেও, তার নাগরিকত্ব বাতিল হবে না। এহেন পরিস্থিতিতে বিহারে পর, সারা দেশে ‘এসআইআর’ চালু করার আগে কোমর বেঁধে নামছে নির্বাচন কমিশন। ১০ সেপ্টেম্বর দিল্লিতে মুখ্য নির্বাচনী আধিকারিকদের নিয়ে এক বৈঠকে বিহারের সিইও একটি বিশদ উপস্থাপনা দেন — কীভাবে প্রক্রিয়া চলল, কোথায় বাধা এল, কী শেখা গেল। কমিশনের তরফে বলা হয়েছে, ‘বিহারের অভিজ্ঞতা থেকেই অন্য রাজ্যগুলি শিক্ষা নেবে।’
সূত্র বলছে, কমিশনের অন্দরেই এখন জোর আলোচনা চলছে যে, আগামী দিনে যদি প্যান-ইন্ডিয়া স্তরে ভোটার তালিকা নিবিড় সংশোধন প্রক্রিয়া চালু হয়, তবে সব রাজ্যের রাজনৈতিক দলগুলিকে নিয়ে পৃথক বৈঠক করবে সংশ্লিষ্ট সিইও-রা। যাতে আগেভাগেই সমস্ত প্রশ্ন ও আপত্তির জবাব দেওয়া যায়, আদালতের দ্বারস্থ হওয়ার পরিস্থিতিও তৈরি না হয়। নির্বাচন কমিশনের এক আধিকারিক জানিয়েছেন, ‘মিশনের একমাত্র লক্ষ্য স্বচ্ছ ও যুক্তিযুক্ত ভোটার তালিকা। নাগরিকত্ব যাচাই করাটা কোনো আলাদা অভিপ্রায়ে নয়, বরং সংবিধান অনুযায়ী নাগরিকের অধিকার রক্ষা করতেই এই উদ্যোগ।’ তবে বিরোধীদের আশঙ্কা, এ ধরনের তথাকথিত যাচাই প্রক্রিয়ার আড়ালে বিশেষ সম্প্রদায় বা গোষ্ঠীকে নিশানা করা হচ্ছে । তবে নির্বাচন কমিশনের যুক্তি, ভোটার তালিকা সঠিক না থাকলে গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়াও প্রশ্নের মুখে পড়ে।
❤ Support Us








