Advertisement
  • খাস-কলম প্রচ্ছদ রচনা
  • নভেম্বর ২১, ২০২২

বাংলায় আবার ‘বঙ্গভঙ্গ’! প্রেতাত্মার প্রত্যাবর্তনে গর্জনের পূর্বাভাস

সামনে পঞ্চায়েত ভোটের কথা মাথায় রেখে এইভূমি সেই ভূমি, এই ল্যান্ড সেই ল্যান্ডের দাবি উঠতে শুরু করেছে । নতুন তরজায় মেতে উঠছে বিভিন্ন রাজনৈতিক সংগঠন

বাহার উদ্দিন
বাংলায় আবার ‘বঙ্গভঙ্গ’! প্রেতাত্মার প্রত্যাবর্তনে গর্জনের পূর্বাভাস

প্রায়ই কখনও উত্তরবঙ্গ, কখনও বাঁকুড়া, পুরুলিয়া সহ পাঁচ জেলা নিয়ে স্বতন্ত্র রাজ্য গঠনের দাবি তুলছেন রাজনীতির বিচ্ছিন্নতাবাদীরা । গোর্খাল্যান্ড আন্দোলনের সময় থেকে পাহাড়ে আলাদা রাজ্যের দাবি উঠেছিল । দাবিটি স্তিমিত হয়ে পড়ে পরে । সিপিএম বেঙ্গলি লাইন গ্রহন করে পাহাড়ের বিভিন্ন দাবি দাওয়াকে গুরুত্ব দিয়ে আঞ্চলিক রাজনীতির বিচ্ছিন্নতাকে সামলে নেয় । পরে বিজেপি গোর্খাল্যান্ডের দাবিকে উসকে দেওয়ার চেষ্টা করে । স্বতন্ত্র উত্তরবঙ্গের দাবি তোলে । তৃণমূলের কৌশলে দাবিটি মুখ থুবড়ে পড়ে । স্বতন্ত্রবাদী নেতারা বুঝতে পারেন, এরকম অসাড় দাবির ভবিষ্যত নেই । তবু স্বতন্ত্র উত্তরবঙ্গ এর স্বপ্ন দেখাতে থাকে গেরুয়া শিবির । তাদের উসকানির পরস্পর বিরোধিতাও সামনে চলে আসে কখনও কখনও । চাপে পড়লেই কেন্দ্রীয় শাসকদলের রাজনীতিকরা সাফাই গাইতে থাকেন, স্বতন্ত্র উত্তরবঙ্গ নয়, আমরাও বাংলার রাজনৈতিক ও ভৌগলিক ঐক্য চাই ।

বামপন্থীরা গোড়ার দিকে বিষয়টিকে আলাদা গুরুত্ব দেননি । রাজনৈতিক সঙ্কট দেখা দিলে সমাধানের চেষ্টা করেননি, তা নয় । ২০১১ সালে, তৃণমূল ক্ষমতায় আসার পর, মমতা বৈষম্যের ভিত্কে দুর্বল করে তোলার চেষ্টা শুরু করেন ।

উত্তরবঙ্গ ৮ জেলা খানিকটা অবহেলিত, উন্নয়ন থেকে কিছুটা দূরে পড়ে আছে, এই গল্প বহু পুরনো । ভৌগলিক অবস্থানের জন্য, উন্নয়ণের মানচিত্রে বাংলার উত্তর ও দক্ষিণের মধ্যে দূরত্ব অনস্বীকার্য । দেশভাগের পর তা বেড়ে যায় । বামপন্থীরা গোড়ার দিকে বিষয়টিকে আলাদা গুরুত্ব দেননি । রাজনৈতিক সঙ্কট দেখা দিলে সমাধানের চেষ্টা করেননি, তা নয় । ২০১১ সালে, তৃণমূল ক্ষমতায় আসার পর, মমতা বৈষম্যের ভিত্কে দুর্বল করে তোলার চেষ্টা শুরু করেন । বারবার উত্তরবঙ্গে সফর করে বুঝিয়ে দিতে চান, একই বঙ্গে উত্তর নেই, থাকা উচিত নয় । একথাও স্মরণ করিয়ে দিতে ভোলেননি যে, উত্তরবঙ্গকে কেন্দ্র করে কেন্দ্র শাসিত অঞ্চল গঠনের ভৌতিক দাবিকে আবার ফিরিয়ে আনার চেষ্টা শুরু হয়েছে ।

দিন কয়েক আগে, আলাদা কোচবিহার গঠনের দাবিতে স্বরাষ্ট্র দফতরের অন্যতম মন্ত্রী নীশিথ প্রামানিকের সঙ্গে দেখা করার পর বৃহত্তর কোচরাজ্যের প্রবক্তা অনন্ত রাই বলেছেন, আমি মনে করি কেন্দ্র শাসিত কোচবিহার অবশ্যম্ভাবী । অনন্ত রাই এর দাবি নিয়ে নিশীথ প্রামাণিক বলেছেন, যথাসময়ে আমি এব্যপারে মন্তব্য করব ।
ইতিমধ্যে রাঢ়বঙ্গের দাবি তুলেছেন বিজেপি বিধায়ক অমরনাথ শাখা । বলেছেন, রাঢ়বঙ্গের মানুষ বারবার বঞ্চিত । আমরা পাঁচ জেলা নিয়ে রাঢ়বঙ্গ গঠনের দাবি জানাব কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীকে । বিধায়কের এই দাবিকে উড়িয়ে দিয়েছেন বিজেপির সর্বভারতীয় সহ সভাপতি দিলীপ ঘোষ ।

আলাদা উত্তরবঙ্গ, কেন্দ্রশাসিত কোচবিহার অথবা হঠাৎ উদিত রাড়বঙ্গ গঠনের দাবিতে বিজেপি বিরোধিতার নতুন ইস্যু খুঁজে পেয়েছে তৃণমূল । রাজ্যের শাসক দল উদ্ভূত দাবিগুলিতে বঙ্গভাগের চক্রান্ত দেখছে । আজই উত্তরবঙ্গ জুড়ে রাস্তায় নেমেছেন তৃণমূল কর্মীরা । রাজ্যের হাইপ্রোফাইল মন্ত্রী ফিরহাদ হাকিম বারবার বলেছেন, রক্ত দিয়ে বাংলাভাগের চক্রান্ত আমারা রুখব । রাঢ়বঙ্গ ঘঠনের উদ্ভট দাবিকে পাগলের প্রলাপ বলে মন্তব্য করেছেন, তৃণমূলের বাকুড়া জেলার সাংগঠনিক সভাপতি দিব্যেন্দু সিং মহাপাত্র ।
কৌতুকের বিষয়, সামনে পঞ্চায়েত ভোটের কথা মাথায় রেখে এইভূমি সেই ভূমি, এই ল্যান্ড সেই ল্যান্ডের দাবি উঠতে শুরু করেছে । নতুন তরজায় মেতে উঠছে বিভিন্ন রাজনৈতিক সংগঠন । স্বতন্ত্র রাজ্য গঠন বা কেন্দ্র শাসিত অঞ্চল গড়ার খেলো আর হাস্যকর দাবিকে উড়িয়ে দিচ্ছে সাধারণ মানুষের প্রতিক্রিয়াহীন নৈশব্দ্য ।


  • Tags:
❤ Support Us
error: Content is protected !!