Advertisement
  • খাস-কলম পা | র্স | পে | ক্টি | ভ
  • আগস্ট ৪, ২০২৬

ঝুঁকি নিন, নিজের দেশে ফিরুন তসলিমা

বাহার উদ্দিন
ঝুঁকি নিন, নিজের দেশে ফিরুন তসলিমা

শনিবার কলকাতায়, রবীন্দ্র সদনে, তসলিমা নাসরিনের সভায় যে অপ্রীতিকর পরিস্থিতি তৈরি হয়, তা অপ্রত্যাশিত। মঞ্চে তাঁর প্রিয় কবিকে ডেকে নিয়েছিলেন তসলিমা, সাড়া দিয়েছিলেন জয়, জয় গোস্বামী। হঠাৎ দর্শকদের একাংশ হৈচৈ বাঁধিয়ে দেন। জয় নিঃস্তব্ধ, স্তম্ভিত। মঞ্চ ছেড়ে দর্শকাসনে এসে বসে থাকলেন, তসলিমা নিশ্চুপ।

যাঁদের আমন্ত্রণে তসলিমা প্রায় কুড়ি বছর পর কলকাতায় এসেছেন, পরিস্থিতি সামাল দিতে দেখা গেল না তাঁদেরও। কিছু সংখ্যক উগ্রকে আশকারা দিলেন যেন বা। এই অভব্য, অসঙ্গত আচরণ মৌলবাদের মতোই আগ্রাসী।

প্রশাসন চুপ করে বসে থাকে নি, থাকবার কথা নয়। তসলিমা ভারতের অতিথি, কলকাতা সবসময় তাঁকে আপনজন ভেবেছে, এখনও ভাবে। তিনিও সংস্কৃতিময়, সত্তাময় মহানগরকে ভালো বেসেছেন।

তসলিমাকে এ শহরে যাঁরা আগলে রাখতেন, তাঁদের অনেকেই বেঁচে নেই, তাঁদের কেউ কেউ তসলিমার ‘মি টু’-র শিকার হলেও, কলকাতার নির্লজ্জ ও নির্বোধেরা আড়ালে বসে হাসাহাসি করেছে, আজও তাঁরা হাসছে।

বাম সরকার একসময় তসলিমাকে নিয়ে অদ্ভুত নীরবতা অবলম্বন করে বসে থাকল, তাঁর নির্বাসন দাবি করে স্বঘোষিত আলখেল্লারা উস্কানি জাগিয়ে তুলল, হুঁকা হুয়া রব তুলে এক শ্রেণীর বুজরুগ রাস্তায় দাপাদাপি শুরু করল, তাদের প্রশ্রয় দিলেন কিছু সংখ্যক নেতানেত্রী, পরে যিনি একচ্ছত্র দিদির আসনে বসলেন, ঘটনার পেছনে সেই তথাকথিত ‘জননেত্রী’-র অনুপ্রেরণা কোন খাতে বইছিল, তা হয়তো চিরদিন অজ্ঞাতই থেকে যাবে।

কলকাতায় তসলিমা ফিরতে চেয়েছিলেন, ফিরতে দেওয়া হয়নি, বাংলাদেশও তাঁকে অবাঞ্ছিত, নির্বাসিত করে রাখল। তসলিমা ফিরে যাবার ঝুঁকি নিতে পারতেন, নেন নি, দিল্লির নিরাপদ কোলে বসে থাকলেন। তাঁকে নিয়ে নানা রঙের জোব্বারা তাঁদের ভুঁড়িতে হাত বোলাচ্ছে। আরামকেদারা তসলিমার বড় প্রিয়, পুজোর আসন দাবি করতে তিনি বড্ড বেশি অভ্যস্ত।

বাংলাদেশের চিরজাগ্রত কয়েকটি প্রতিবাদের নাম আহমদ শরীফ, হুমায়ূন আজাদ, শাহরিয়ার কবীর প্রমুখ। তাঁরা দেশ ছেড়ে পালাননি, ‘মুরতাদ’ ঘোষিত হয়েও রাস্তা ছাড়েন নি এসব প্রতিভা।

জাফর ইকবালের বইপত্র আগুনের খোরাক হয়েছে, এখনো জেগে আছেন স্বদেশে। পরবাসী হননি, হতে চাননি।  এইসব বিবেকের কথা ভাবতে ভাবতে, প্রশ্ন জাগছে — কেন তসলিমা, কেন বেছে নিচ্ছেন পরাশ্রয়ী বন্দীযাপন, কেন ? কেন ? তাঁর বিবেকের, তাঁর যুক্তিময়তার, তাঁর দেশপ্রেমের চেয়ে নির্বোধের চিৎকারের ধার বুঝি বেশি? দিল্লিতে প্রাচীর ঘেরা ভবনে বসে, কার এজেন্ডা পূর্ণ করছেন দ্বিখণ্ডিত লেখক?


  • Tags:
❤ Support Us
error: Content is protected !!