- এই মুহূর্তে দে । শ
- আগস্ট ৬, ২০২৫
দুই বিয়ের হিসাব আলাদা! প্রথম বিয়ের ভরণপোষণের অজুহাত দিয়ে দ্বিতীয় বিচ্ছেদের অর্থচুক্তি মিটবে না: সুপ্রিম কোর্ট
একটি সম্পর্ক ভেঙে যাওয়ার পরে প্রাপ্ত ভরণপোষণ কি ভবিষ্যতের সম্পর্ক ভাঙার সময় আর্থিক সহায়তার অধিকারে প্রভাব ফেলে? এই প্রশ্নে সুপ্রিম কোর্টের সাফ জবাব— ‘না।’ প্রথম বিয়ে থেকে পাওয়া ভরণপোষণ, দ্বিতীয় বিয়ে ভাঙলে তার বিচ্ছেদে অর্থসংক্রান্ত সিদ্ধান্তে প্রাসঙ্গিক নয়। দেশের সর্বোচ্চ আদালত স্পষ্ট জানাল, ‘একটি বিচ্ছেদে পাওয়া ভরণপোষণ ভবিষ্যতে নতুন দাম্পত্যের ব্যর্থতায় বিচার্য হতে পারে না।’ বুধবার, এক দম্পতির বিবাহবিচ্ছেদের মামলায় এমনই পর্যবেক্ষণ জানিয়েছে প্রধান বিচারপতি বি আর গাভাই এবং বিচারপতি কে বিনোদ চন্দ্রনের বেঞ্চ। সংবিধানের ১৪২ অনুচ্ছেদ অনুযায়ী নিজেদের বিশেষ ক্ষমতা প্রয়োগ করে তাঁরা বিবাহবিচ্ছেদ মঞ্জুর করেছেন।
ঘটনার সূত্রপাত এক স্বামীর আবেদনে, যেখানে তিনি স্ত্রী-র বিরুদ্ধে ৪৯৮এ ধারায় (গার্হস্থ্য হিংসা) দায়ের হওয়া মামলাটি খারিজের আবেদন করেন। জানা গিয়েছে, শুরুতে দু-পক্ষই পারস্পরিক সম্মতিতে বিচ্ছেদে রাজি ছিলেন। একটি আর্থিক সমঝোতা চুক্তিও স্বাক্ষর হয়েছিল। কিন্তু পরে স্ত্রী সেই সমঝোতা থেকে সরে আসেন। স্বামী এরপর বম্বে হাই কোর্টে যান মামলাটি খারিজ করাতে, কিন্তু আদালত আবেদন খারিজ করে। তারপর তিনি সরাসরি সুপ্রিম কোর্টের দ্বারস্থ হন। সুপ্রিম আদালতে, তিনি কেবল ৪৯৮এ ধারার মামলা খারিজের আর্জিই জানাননি, ১৪২ অনুচ্ছেদের অধীনে বিবাহবিচ্ছেদেরও আবেদন জানান। সেই সঙ্গে স্ত্রীর আর্থিক সুরক্ষার জন্য নিজের ৪ কোটি টাকার ফ্ল্যাট উপহার দেওয়ার প্রস্তাব দেন। বিকল্প হিসেবে ৪ কোটি টাকা নগদ দিতেও রাজি হন।
তবে ‘স্ত্রী’ সেই প্রস্তাবে রাজি হননি। তাঁর দাবি, স্থায়ী ভরণপোষণ হিসেবে ১২ কোটি টাকা। স্ত্রী যুক্তি দেন, স্বামী উচ্চ বেতনের চাকরি করতেন এবং বর্তমানে কর্মরত আছেন। তাঁর কাজের প্রোফাইলে তা প্রমাণ রয়েছে। আদালত এ যুক্তি মানেনি। বরং আদালত বলেছে, ‘ডিজিটাল প্লাটফর্মের প্রোফাইলেই কর্মসংস্থানের নিশ্চিত প্রমাণ মেলে না।’ আদালত স্বামীর বক্তব্য গ্রহণ করেছে। যেখানে তিনি, নিজেকে বর্তমানে বেকার বলে দাবি জানিয়েছেন। জানা যাচ্ছে, ওই ব্যক্তির প্রথম পক্ষের সন্তান, বিশেষ ক্ষমতা সম্পন্ন, তাঁর যত্ন নেওয়ার জন্যই তিনি চাকরি ছেড়েছেন।
দু-পক্ষের সওয়াল-জবাব শুনে আদালত জানায়, এই দম্পতির বৈবাহিক সম্পর্ক ১ বছর ৯ মাসের মধ্যেই ভেঙে পড়েছে। দু-পক্ষের মধ্যে পুনর্মিলনের আর কোনো সম্ভাবনা নেই। এরকম পরিস্থিতিতে স্বামী যে ফ্ল্যাটটি স্ত্রীকে দিতে রাজি হয়েছেন, তার আর্থিক মূল্য যথেষ্ট। এটি স্ত্রীকে ভবিষ্যতে আর্থিক দিক থেকে সুরক্ষা দেবে। ফলে, অতিরিক্ত ভরণপোষণের দাবি ‘অযৌক্তিক’। বিচারপতিরা আরো বলেছেন, স্ত্রীর প্রথম বিবাহে প্রাপ্ত ভরণপোষণ এখানে কোনো বিষয় নয়। প্রধান বিচারপতি বলেন, ‘প্রথম বিবাহের ভরণপোষণ এই বিচ্ছেদের আর্থিক নিষ্পত্তিতে কোনো ভাবেই বিবেচ্য নয়। প্রতিটি বিবাহ ও বিচ্ছেদই স্বতন্ত্র এবং আলাদা প্রেক্ষাপটে বিচার্য।’ আদালতের পর্যবেক্ষণ, আবেদনকারী মহিলা শিক্ষিতা, তথ্যপ্রযুক্তি ক্ষেত্রে অভিজ্ঞ এবং নিজের জীবিকা নির্বাহ করার সামর্থ্য তাঁর রয়েছে। কাজেই, স্ত্রী সম্পূর্ণভাবে ভরণপোষণের উপর নির্ভরশীল এমনটা বলা যায় না। গার্হস্থ্য হিংসার মামলাটিকেও ‘অতিরঞ্জিত’, ‘অস্পষ্ট’ এবং ‘সাধারণ বৈবাহিক কলহের অতিরঞ্জিত ব্যাখ্যা’ বলে চিহ্নিত করে আদালত তা খারিজ করে দেয়। আদালতের রায় অনুযায়ী, স্বামীকে আগামী ৩০ আগস্টের মধ্যে ফ্ল্যাটটি স্ত্রীর নামে ‘উপহার’ হিসেবে রেজিস্ট্রি করতে হবে। এ কাজ সম্পন্ন হলেই বিবাহবিচ্ছেদ চূড়ান্ত বলে গণ্য হবে। মামলায় স্বামীর পক্ষে সওয়াল করেছেন সুপ্রিম কোর্টের বিশিষ্ট আইনজীবী মাধবী দিবান। অন্য দিকে, স্ত্রী নিজেই নিজের পক্ষে আদালতে সওয়াল করেন।
❤ Support Us







