Advertisement
  • এই মুহূর্তে দে । শ
  • সেপ্টেম্বর ৪, ২০২৫

বিধানসভায় ফের সাসপেনশন বিতর্ক! শুভেন্দুকে নিয়ে স্পিকারের সিদ্ধান্তে দ্বিচারিতার অভিযোগ, প্রতিবাদে প্রশ্নোত্তর পর্ব বয়কট বিজেপির

আরম্ভ ওয়েব ডেস্ক
বিধানসভায় ফের সাসপেনশন বিতর্ক! শুভেন্দুকে নিয়ে স্পিকারের সিদ্ধান্তে দ্বিচারিতার অভিযোগ, প্রতিবাদে প্রশ্নোত্তর পর্ব বয়কট বিজেপির

বিরোধী দলনেতা শুভেন্দু অধিকারীর সাসপেনশন ঘিরে ফের তুমুল বিতর্ক বিধানসভায়। প্রতিবাদে মুখ্যমন্ত্রীর ভাষণ ও প্রশ্নোত্তর পর্ব বয়কট বিজেপির। গেরুয়া শিবিরের অভিযোগ, বিধানসভার অধ্যক্ষ বিমান বন্দ্যোপাধ্যায় সভাকক্ষে একরকম ঘোষণা করেছেন, আর বাইরে গিয়ে আরেকরকম কথা বলেছেন। বিজেপির দাবি, এমন গুরুতর বিষয়ে অধ্যক্ষের দ্বৈত ভূমিকা নিয়মবহির্ভূত, লজ্জাজনক ও নজিরবিহীন।

বিজেপির বক্তব্য, মঙ্গলবার অধিবেশনের শেষ দিনে অধ্যক্ষ স্পষ্ট জানিয়েছিলেন যে, শুভেন্দুকে কেবল সে দিনের জন্যই সাসপেন্ড করা হচ্ছে। অথচ পরে সাংবাদিকদের সামনে এসে তিনি বলেন, গোটা অধিবেশন চলাকালীনই বিরোধী দলনেতাকে সাসপেন্ড করে রাখা হবে। ফলে স্পষ্টই দেখা যাচ্ছে, ভেতরে এক সিদ্ধান্ত, বাইরে আরেক ঘোষণা। সিদ্ধান্তের এই বৈপরীত্য নিয়েই প্রশ্ন তুলেছেন বিজেপি বিধায়করা। তাঁদের অভিযোগ, নিয়ম ভেঙেই শাসক দলের হয়ে পদক্ষেপ নিচ্ছেন স্পিকার । দলের মুখ্য সচেতক শঙ্কর ঘোষের দাবি, ‘মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের ভাষণ লাইভ সম্প্রচার করার দাবির জেরেই শুভেন্দু অধিকারীকে সাসপেন্ড করা হয়েছে। এর সঙ্গে বিধানসভায় শৃঙ্খলা বজায় রাখার কোনো সম্পর্ক নেই। বিমান বন্দ্যোপাধ্যায় যেভাবে তাঁর পদকে অপব্যবহার করছেন, ঐতিহ্য অবমাননা করছেন, তা ইতিহাসের পাতায় কালো অক্ষরে লেখা থাকবে।’

প্রতিবাদে মুখর বঙ্গ বিজেপির বিধায়করা, বুধবার বিধানসভার প্রশ্নোত্তর পর্ব পুরোপুরিই বয়কট করবার ঘোষণা দিয়েছেন। তাঁদের সাফ কথা, এ বিষয়ে স্বচ্ছতা না আসা পর্যন্ত তাঁরা অধিবেশন কক্ষে প্রবেশ করবেন না। বিরোধী দলনেতা শুভেন্দু অধিকারীর নেতৃত্বে বৈঠক বসে পরবর্তী কৌশল ঠিক করবেন। মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় যেদিন ভিনরাজ্যে বাংলা ভাষার উপর আক্রমণ প্রসঙ্গে বক্তব্য রাখবেন, সে আলোচনায় তাঁরা অংশ নেবেন কিনা, তা নিয়েও বিজেপি এখনো সিদ্ধান্ত নেয়নি। বিতর্কের সূত্রপাত মঙ্গলবার। রাজ্যের কৃষিমন্ত্রী শোভনদেব চট্টোপাধ্যায় বাংলা ভাষার উপর আক্রমণ নিয়ে আলোচনার প্রস্তাব তোলেন। সে আলোচনায় বক্তব্য রাখতে গিয়ে শিক্ষামন্ত্রী ব্রাত্য বসু সেনার ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন তোলেন। মেয়ো রোডে তৃণমূলের ভাষা দিবসের মঞ্চ খোলার ঘটনায় সেনার বিরুদ্ধে অভিযোগ এনে তিনি পাকিস্তানি সেনার কর্মকাণ্ডের উদাহরণ টেনে আনেন। সঙ্গে সঙ্গে তীব্র আপত্তি জানান বিরোধী দলনেতা। শুভেন্দুর অভিযোগ, ভারতীয় সেনার বিরুদ্ধে এমন মন্তব্য করা যায় না। মুহূর্তে তিনি ‘ইন্ডিয়া আর্মি জিন্দাবাদ’ স্লোগান দিতে শুরু করেন। পরিস্থিতি উত্তপ্ত হতে থাকায় অধ্যক্ষ তাঁকে একাধিকবার সতর্ক করেন। অভিযোগ, সতর্কবার্তা অগ্রাহ্য করাতেই শেষমেশ সাসপেনশনের সিদ্ধান্ত নেন অধ্যক্ষ।

কিন্তু মূল বিতর্ক এই যে, শুভেন্দু অধিকারীর সাসপেনশন কি এক দিনের জন্য, নাকি গোটা সেশনের জন্য? বিধানসভার ভেতরে ঘোষণা একরকম, বাইরে গিয়ে বক্তব্য আরেকরকম? বিজেপির তীক্ষ্ণ প্রশ্ন, অধ্যক্ষ কি কক্ষের ভেতরে নেওয়া সিদ্ধান্ত বাইরে এসে বদলাতে পারেন? এই প্রশ্নের উত্তর না মেলা পর্যন্ত বয়কটেই অনড় বিরোধীরা। এ ইস্যুতে বুধবার কার্যত মুখোমুখি শাসক–বিরোধী। আর তাতেই রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা অনুমান করছেন, গত অধিবেশনের মতো এবারো উত্তাল হতে চলেছে বিধানসভা।


  • Tags:
❤ Support Us
error: Content is protected !!