- এই মুহূর্তে দে । শ
- আগস্ট ২৫, ২০২৫
“মনমোহন সিংয়ের অর্ডিন্যান্স ছিঁড়ে ফেলেছিলেন কেন ?”: রাহুল গান্ধিকে বিঁধলেন শাহ
লোকসভার বিরোধী দলনেতা এবং কংগ্রেস সাংসদ রাহুল গান্ধীর নৈতিক অবস্থান নিয়ে প্রশ্ন তুললেন কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ। তিনি জানতে চাইলেন, টানা তিনটি নির্বাচনে পরাজয়ের পর কি রাহুলের নৈতিকতার মানদণ্ড বদলে গেছে?
২০১৩ সালের সেই ঘটনার উল্লেখ করে, যখন রাহুল গান্ধী তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী মনমোহন সিংয়ের আনা একটি অর্ডিন্যান্স প্রকাশ্যেই ছিঁড়ে ফেলেছিলেন—যা আরজেডি নেতা লালু প্রসাদ যাদবকে রক্ষা করার উদ্দেশ্যে আনা হয়েছিল—অমিত শাহ বর্তমানের একটি প্রস্তাবিত বিল নিয়ে রাহুলের বিরোধিতার সঙ্গে এই ঘটনার সাযুজ্য টানেন।
একটি সংবাদ সংস্থাকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে অমিত শাহ বলেন, “রাহুলজি সেই সময় মনমোহনজির আনা অর্ডিন্যান্স ছিঁড়ে ফেলেছিলেন, যেটা লালুজিকে রক্ষা করার জন্য ছিল। তাহলে সেদিন যদি নৈতিকতা ছিল, আজ তাহলে তাঁর কী হয়েছে? শুধু তিনবার পরাজিত হয়েছেন বলেই? নৈতিকতার মানদণ্ড জয়-পরাজয়ের ওপর নির্ভর করে না। নৈতিকতা বিষয়টি সূর্য-চন্দ্রের মতো অটল-অবিচল হওয়া উচিত।”
উল্লেখযোগ্যভাবে, ওই অর্ডিন্যান্সের মাধ্যমে দণ্ডপ্রাপ্ত সাংসদদের তিন মাস সময় দেওয়া হয়েছিল তাঁদের আসন ধরে রাখার জন্য, যা সুপ্রিম কোর্টের রায়ের বিরোধিতা করে। পরবর্তীতে সেটি প্রত্যাহার করে নেওয়া হয়।
অমিত শাহ বলেন, সংবিধান (১৩০তম সংশোধনী) বিল, ২০২৫ অনুসারে, যেকোনও প্রধানমন্ত্রী, মুখ্যমন্ত্রী বা মন্ত্রী যদি ধারাবাহিকভাবে ৩০ দিন জেলে থাকেন, তবে তাঁর পদ অপসারিত হবে।
শাহ বলেন, “এই দেশে এখন এনডিএ-র মুখ্যমন্ত্রীদের সংখ্যাই বেশি। প্রধানমন্ত্রীও এনডিএ-র। তাই এই বিল শুধু বিরোধীদের জন্য নয়, আমাদের জন্যও প্রশ্ন তোলে। যদি কাউকে মিথ্যা মামলায় ফাঁসানো হয়, তাহলে দেশের হাইকোর্ট বা সুপ্রিম কোর্ট কি চুপ করে বসে থাকবে? তারা তো জামিন দিতে পারে। যদি জামিন না মেলে, তাহলে আপনাকে পদ ছাড়তেই হবে। আমি দেশের মানুষ ও বিরোধীদের জিজ্ঞাসা করতে চাই—একজন মুখ্যমন্ত্রী বা প্রধানমন্ত্রী কি জেল থেকে সরকার চালাতে পারেন? এটা কি দেশের গণতন্ত্রের পক্ষে উপযুক্ত?”
তিনি আরও বলেন, “এখন নরেন্দ্র মোদী প্রধানমন্ত্রী, তাই এই প্রশ্ন আসেই না। কিন্তু যদি কোনও প্রধানমন্ত্রী জেলে যান, তাহলে কি জেল থেকেই সরকার চালানো উচিত? দেশের কি এমন অবস্থা যে ওই একজন ছাড়া দেশ চলবে না? আপনার দলে সংখ্যাগরিষ্ঠতা থাকলে অন্য কেউ দায়িত্ব নিতে পারেন। আপনি জামিন পেলে আবার ফিরে আসুন। কিন্তু কেন আমরা দুই বছর পর সংসদ সদস্যপদ হারাব? কংগ্রেস আমলে তো ছিল, সেশন কোর্ট যদি দুই বছরের বেশি কারাদণ্ড দেয়, তাহলে সদস্যপদ চলে যায়।”
নিজের উপর হওয়া সোহরাবউদ্দিন শেখ এনকাউন্টার মামলার প্রসঙ্গ টেনে অমিত শাহ বলেন, “সিবিআই যখন আমাকে তলব করেছিল, আমি পরদিনই পদত্যাগ করেছিলাম। পরে আমাকে গ্রেপ্তার করা হয়। পরে আদালত রায় দিয়েছে এটা রাজনৈতিক ষড়যন্ত্র ছিল এবং আমি সম্পূর্ণ নির্দোষ। জামিন আমি আগে পেয়েছিলাম, কিন্তু আমি কোনও সাংবিধানিক পদ গ্রহণ করিনি যতক্ষণ না সব অভিযোগ সম্পূর্ণভাবে খারিজ হয়। এখন বিরোধীরা আমাকে নৈতিকতার পাঠ পড়াবে?”
তিনি আরও বলেন, “ইন্ডিয়া জোট এই বিলের বিরুদ্ধে, কারণ তারা জেল থেকেই সরকার চালাতে চায়। ইন্দিরা গান্ধীর সময়েও প্রধানমন্ত্রীকে রক্ষার চেষ্টা করা হয়েছিল, আজও একই চেষ্টা চলছে। তারা ভাবছে জেলে গিয়েও সরকার গঠন করা যাবে। জেল হবে মুখ্যমন্ত্রীর অফিস, প্রধানমন্ত্রীর অফিস। জেল থেকেই নির্দেশ দেবে ডিজিপি, ক্যাবিনেট সচিব বা হোম সেক্রেটারি। এভাবে কি দেশ চলতে পারে?”
অমিত শাহের অভিযোগ, দিল্লির মুখ্যমন্ত্রী অরবিন্দ কেজরিওয়াল ও প্রাক্তন উপমুখ্যমন্ত্রী মনীশ সিসোদিয়া জেলে থাকলেও পদত্যাগ করেননি। তিনি বলেন, “এই নতুন ট্র্যাডিশন এক-দুই বছর আগে থেকেই শুরু হয়েছে। আগে অভিযোগ উঠলেই মন্ত্রীরা পদত্যাগ করতেন, পরে নির্দোষ প্রমাণ হলে ফিরে আসতেন। কিন্তু এখন কিছু নেতা, যেমন দিল্লি বা তামিলনাড়ুর মন্ত্রীরা, পদ ছাড়ছেন না। আমরা এরকম রাজনৈতিক ও সামাজিক নৈতিকতার অবনতির বিরোধী।”
শাহ আশাবাদী যে বিলটি সংসদে পাশ হবে। “আমি নিশ্চিত বিলটি পাশ হবে। কংগ্রেস বা বিরোধী দলেও অনেক নেতা থাকবেন, যারা নৈতিকতা রক্ষা করবেন।”
এই বাদল অধিবেশনে অমিত শাহ সংসদে যে বিলগুলো পেশ করেছেন, সেগুলো হল:
সংবিধান (১৩০তম সংশোধনী) বিল, ২০২৫
কেন্দ্রশাসিত অঞ্চল (সংশোধন) বিল, ২০২৫
জম্মু ও কাশ্মীর পুনর্গঠন আইন সংশোধনী বিল, ২০১৯
১৩০তম সংশোধনী বিল অনুসারে, যে কোনও প্রধানমন্ত্রী, মুখ্যমন্ত্রী বা মন্ত্রী যিনি ধারাবাহিকভাবে ৩০ দিন জেলে থাকবেন এবং যার বিরুদ্ধে ৫ বছর বা তার বেশি সাজাযোগ্য অপরাধের অভিযোগ রয়েছে—তাঁকে পদত্যাগ করতে হবে। না করলে ৩১তম দিনে পদটি স্বয়ংক্রিয়ভাবে শূন্য বলে গণ্য হবে। তবে মুক্তি পাওয়ার পরে পুনরায় নিয়োগের সুযোগ থাকবে।
❤ Support Us







