- প্রচ্ছদ রচনা বি। দে । শ
- আগস্ট ৮, ২০২৫
সমুদ্র গিলে ফেলছে আস্ত দেশ, অস্ট্রেলিয়ায় ঘর বাঁধছেন তুভালুর বাসিন্দারা
ক্রমশ চড়ছে সমুদ্রের লোনা জল। আর তার সঙ্গে ধীরে ধীরে ডুবছে আস্ত এক দেশ। বাড়ি, জমি, স্কুল, খেলার মাঠ, সবই হারিয়ে যাচ্ছে। তাই দেশ ছেড়ে ভিনভূমিতে ঘর বাঁধার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন তুভালুর বাসিন্দারা। সমুদ্রের গ্রাস থেকে রক্ষা পেতে পুরো দেশের জনগণকে সরিয়ে নেওয়ার পরিকল্পনা, ইতিহাসে এই প্রথমবার।
প্রশান্ত মহাসাগরের বুকে ছোট্ট দ্বীপরাষ্ট্র তুভালু। ৯টি নিম্নভূমির প্রবাল দ্বীপ নিয়ে গঠিত সে দেশে মাত্র ১১ হাজার মানুষের বসবাস। কিন্তু এ দেশই এখন বিশ্বজুড়ে জলবায়ু উদ্বাস্তুদের প্রতীক। সমুদ্রপৃষ্ঠ থেকে গড়ে ২ মিটার উচ্চতায় থাকা তুভালুর উপর ঝুলছে চরম বিপদের ছায়া। নাসার ‘সি লেভেল চেঞ্জ টিম’ -এর হিসেব বলছে, গত ৩০ বছরে তুভালুর আশপাশে সমুদ্রস্তর বেড়েছে অন্তত ১৫ সেন্টিমিটার। ইতিমধ্যেই ৯টির মধ্যে ২টি প্রবাল দ্বীপ পুরোপুরি চলে গিয়েছে জলের নিচে। বিজ্ঞানীদের আশঙ্কা, জলস্তর বৃদ্ধির এ গতি বজায় থাকলে ২০৫০ সালের মধ্যেই দেশের বেশিরভাগ অংশই সমুদ্রের অতলে ডুবে যাবে। আর আগামী ৮০ বছরের মধ্যে পুরো দেশটাই হয়ে উঠবে মানুষের পক্ষে বসবাসের অযোগ্য।
এরকম আশঙ্কাজনক পরিস্থিতিতে তুভালু ও অস্ট্রেলিয়ার মধ্যে সম্প্রতি স্বাক্ষরিত হয়েছে এক ঐতিহাসিক চুক্তি— ‘ফালেপিলি ইউনিয়ন ট্রিটি’। চুক্তি অনুযায়ী, প্রতি বছর তুভালুর ২৮০ জন নাগরিককে স্থায়ীভাবে অস্ট্রেলিয়ায় বসবাসের অনুমতি দেওয়া হবে। থাকবে স্বাস্থ্য, শিক্ষা, কর্মসংস্থান, আবাসন-সহ সমস্ত নাগরিক সুবিধা। এবছর ১৬ জুন থেকে ১৮ জুলাই পর্যন্ত চলেছে প্রথম দফার আবেদনপর্ব। অভূতপূর্ব সাড়া। আবেদন জমা পড়েছে ৮,৭৫০টি, যা দেশটির প্রায় ৮০ শতাংশ জনসংখ্যার কাছাকাছি। ২৫ জুলাই লটারির মাধ্যমে নির্বাচিত করা হয়েছে প্রথম ২৮০ জনকে। অস্ট্রেলিয়ার পররাষ্ট্রমন্ত্রী পেনি ওয়ং বলছেন, ‘এই চুক্তি তুভালুর মানুষকে মর্যাদা নিয়ে নতুন জীবন শুরু করার পথ দেখাবে।’ অন্যদিকে, তুভালুর প্রধানমন্ত্রী ফেলেটি তে বিশ্ব নেতাদের কাছে আবেদন জানিয়ে বলেছেন, ‘সময় এসেছে আন্তর্জাতিক স্তরে একটি নতুন চুক্তির, যেখানে সমুদ্রপৃষ্ঠের বৃদ্ধির হুমকিতে থাকা জাতিগুলির অধিকার ও অস্তিত্ব রক্ষা করা হবে।’
অভিবাসন আইন ও জলবায়ু উদ্বাস্তু বিষয়ের গবেষক, অধ্যাপক জেন ম্যাকআডামের মতে, অস্ট্রেলিয়া ও নিউজিল্যান্ডের বিভিন্ন অভিবাসন নীতির সুযোগে প্রতি বছর তুভালুর প্রায় ৪ শতাংশ নাগরিক দেশ ছাড়তে পারেন। ফলে আগামী ১০ বছরে ৪০ শতাংশ নাগরিক তুভালু ছেড়ে চলে যেতে পারেন বিদেশে। অনেকেই হয়তো পারিবারিক ও সাংস্কৃতিক কারণে ফেরতও আসতে পারেন বা যাতায়াত করবেন। অভূতপূর্ব এ পদক্ষেপ নতুন এক বাস্তবতারও ইঙ্গিত দিচ্ছে। মনে করিয়ে দিচ্ছে, জলবায়ু সংকট এখন আর ভবিষ্যতের গল্প নয়, বাস্তবের প্রবল বিশাল রুদ্রকুঠার ধীরগতিতে নামছে। কেবল তুভালু নয় মালদ্বীপ, কিরিবাতি, মার্শাল আইল্যান্ডসের মতো অন্যান্য দ্বীপদেশগুলোর ভবিষ্যৎও প্রশ্নচিহ্নের মুখে।
❤ Support Us







