- দে । শ
- জুন ৬, ২০২৬
নদিয়ায় গ্রামীণ চিকিৎসকের অ্যাকাউন্টে ‘অন্নপূর্ণা যোজনা’-র টাকা, বিতর্ক এলাকায়
রাজ্য সরকারের নতুন সামাজিক সুরক্ষা প্রকল্প ‘অন্নপূর্ণা যোজনা’ নিয়ে যখন জেলায় জেলায় উৎসাহ তুঙ্গে, ঠিক সেই সময় নদিয়ায় সামনে এল এক বিস্ময়কর ঘটনা। মহিলাদের জন্য নির্ধারিত এই প্রকল্পের টাকা এক পুরুষের ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্টে জমা পড়ায় শুরু হয়েছে জোর চর্চা। স্থানীয়দের একাংশ ইতিমধ্যেই ঘটনাটিকে ‘পুরুষ অন্নপূর্ণা’র উদাহরণ হিসেবে উল্লেখ করতে শুরু করেছেন।
ঘটনাটি নদিয়ার ভীমপুর থানার চাঁদপুর গ্রামের। সঞ্জিত বিশ্বাস নামে এক ব্যক্তি, যিনি পেশায় গ্রামীণ চিকিৎসক এবং সরকারি বৃদ্ধভাতার সুবিধাভোগী, নিয়মমাফিক নিজের ভাতার টাকা তুলতে স্থানীয় ব্যাঙ্কের গ্রাহক পরিষেবা কেন্দ্রে যান। সেখানেই তিনি জানতে পারেন, তাঁর অ্যাকাউন্টে বৃদ্ধভাতার পাশাপাশি ‘অন্নপূর্ণা যোজনা’ খাতে অতিরিক্ত ৩ হাজার টাকা জমা হয়েছে।
অপ্রত্যাশিত এই তথ্য শুনে হতবাক হয়ে যান সঞ্জিতবাবু। তাঁর দাবি, তিনি কখনও অন্নপূর্ণা যোজনার জন্য আবেদন করেননি এবং এই প্রকল্পের সুবিধাভোগী হওয়ার যোগ্যতাও তাঁর নেই। ফলে কীভাবে তাঁর ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্টে এই টাকা জমা পড়ল, তা নিয়ে তিনি সম্পূর্ণ অন্ধকারে।
সঞ্জিত বিশ্বাস বলেন, “আমি বৃদ্ধভাতার টাকা তুলতে গিয়েছিলাম। তখন জানতে পারি আমার অ্যাকাউন্টে অন্নপূর্ণা যোজনার ৩ হাজার টাকা এসেছে। আমি বুঝতে পারছি না এই টাকা কীভাবে এল। তাই ওই টাকা আমি তুলিনি। শুধু আমার প্রাপ্য বৃদ্ধভাতার টাকাই তুলেছি।”
তিনি আরও জানান, বিষয়টি তিনি স্থানীয় পঞ্চায়েত সদস্য ও গ্রাম পঞ্চায়েত প্রধানের নজরে আনবেন। পাশাপাশি সরকারি নিয়ম মেনে যদি প্রমাণিত হয় যে ভুলবশত তাঁর অ্যাকাউন্টে টাকা এসেছে, তাহলে সেই অর্থ সরকারি কোষাগারে ফেরত দেওয়ার জন্য প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ করবেন।
উল্লেখ্য, সম্প্রতি জেলার বিভিন্ন প্রান্ত থেকে একাধিক পুরুষের ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্টে মহিলাদের জন্য নির্ধারিত সরকারি প্রকল্পের টাকা জমা পড়ার অভিযোগ সামনে এসেছে। স্থানীয়দের একাংশের মতে, তথ্যভাণ্ডারের ত্রুটি, ভুল তথ্য সংযুক্তিকরণ কিংবা ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্ট লিঙ্কিংয়ের সমস্যার কারণেই এমন ঘটনা ঘটতে পারে।
যদিও এই বিষয়ে প্রশাসনের পক্ষ থেকে এখনও পর্যন্ত কোনও আনুষ্ঠানিক প্রতিক্রিয়া পাওয়া যায়নি। তবে একজন পুরুষের অ্যাকাউন্টে মহিলাদের জন্য নির্ধারিত প্রকল্পের টাকা জমা পড়ার ঘটনায় এলাকায় ব্যাপক আলোচনা শুরু হয়েছে। এটি নিছক প্রযুক্তিগত ত্রুটি, নাকি এর নেপথ্যে অন্য কোনও কারণ রয়েছে, তা খতিয়ে দেখার দাবি তুলেছেন স্থানীয় বাসিন্দারা। প্রশাসনিক তদন্তের পরই পুরো বিষয়টি স্পষ্ট হবে বলে মনে করা হচ্ছে।
❤ Support Us






