- দে । শ প্রচ্ছদ রচনা
- জুলাই ১০, ২০২৩
পঞ্চায়েত ভোটের হিংসা দেখে লজ্জা করে, “পরিবর্তনের পরিবর্তন”-এর ডাক দিলেন শুভাপ্রসন্ন
২০১১ তে বাংলায় মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের শাসন ক্ষমতা কায়েম করার পিছনে রাজ্যের বুদ্দিজীবীদের একটা বড় অংশের সক্রিয় অংশগ্রহণ ছিল। এই বুদ্ধিজীবীদের তালিকায় যার নাম প্রথম থাকতো তিনি হলেন শুভাপ্রসন্ন। বদল চাই-এর ব্যানারেও জ্বলজ্বল করতো শুভাপ্রসন্নর ছবি। ২০১১-র বিধানসভা নির্বাচনের আগে বেশ কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ বৈঠক নিজের বাড়িতে করেছেন শুভাপ্রসন্ন, যেখানে তিনি বাংলার “এলিট ক্লাস”-এর প্রতিনিধিদের সঙ্গে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে পরিচয় করিয়ে দিয়েছেন। সেই শুভপ্রসন্ন এবার পঞ্চায়েত ভোটের হিংসা দেখে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় সরকারের বিরুদ্ধে মুখ খুললেন।
শুভাপ্রসন্ন সোমবার সংবাদমাধ্যমকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে রাজ্যে ভোট হিংসার সংস্কৃতি বদলে মুক্তমনা ও বুদ্ধিজীবীদের পথে নামার আহ্বান জানান। শুভাপ্রসন্ন বলেন, “যে ভোট গণতন্ত্রের উৎসব সেখানে যদি এত প্রাণ যায় মানুষের, এই সংস্কৃতির যদি বদল দরকার, এখানে যা হয় সারা দেশে কোথাও হয় না।”
শিল্পী শুভাপ্রসন্নর প্রশ্ন, “এত প্রাণ কেন যাবে? রামমোহন, বিদ্যাসাগর, নেতাজি, রবীন্দ্রনাথ, যারা সারা পৃথিবীকে পথ দেখিয়েছেন সেখানে এই সংস্কৃতি আমরা চাই না।”
শুভাপ্রসন্নের আহ্বান, “সময় এসেছে, মুক্তমনা, বুদ্ধিজীবী মানুষ জোট বেঁধে পথে নামুক এই আহ্বান করতে পারি। আমার বিশ্বাস হাজার হাজার মানুষ তাতে যোগ দেবেন। আমরা আবার মিছিল করতে পারি, যে মিছিল আমরা করেছিলাম, সংস্কৃতি বদলের মিছিল।”
রাজ্যে পঞ্চায়েত নির্বাচনে এত মানুষের মৃত্যুতে কি তিনি লজ্জিত? জবাবে শুভাপ্রসন্ন বলেন, “লজ্জা করে। যে গর্বের মানুষরা পথ দেখিয়েছেন সেই পরম্পরার প্রতিনিধি ভাবতে ঘৃণা হচ্ছে। ভারতে কোথাও এটা হয় না। এর পরিবর্তন চাই, পরিবর্তন করতে হবে।”
২০২৩-এর চলতি বছর ফেব্রুয়ারিতে ভাষা দিবসের অনুষ্ঠান থেকে তৃণমূলের সঙ্গে দূরত্ব শুরু শুভাপ্রসন্নের। এর পর শাসকদল ও তার নেত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের বিরুদ্ধে একাধিক বিস্ফোরক মন্তব্য করেছেন একদা মমতা পন্থী এই শিল্পী। এমনকী “মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে আমরা মুখ্যমন্ত্রী বানিয়েছি বলেও মন্তব্য করেন তিনি।” এবার আবার পরিবর্তনের পরিবর্তন করার ডাক দিলেন সেই শুভাপ্রসন্ন।
❤ Support Us





