- দে । শ
- আগস্ট ১১, ২০২৬
জমি বিরোধকে কেন্দ্র করে অসম–অরুণাচল সীমান্তে গোলাগুলি, আহত ১২
অসম–অরুণাচল সীমান্তে আবার উত্তেজনা। জমি বিবাদকে কেন্দ্র করে গুলির লড়াই। এ ঘটনায় অন্তত ১২ জন আহত হয়েছেন। সোমবার, অসমের ধেমাজি জেলায় অসম–অরুণাচল প্রদেশ সীমান্তের কাছে ঘটনাটি ঘটেছে। পুলিশ জানিয়েছে, অরুণাচল প্রদেশের কিছু লোক অসমের গ্রামবাসীদের ওপর নির্বিচারে গুলি চালায়। এক ঊর্ধ্বতন পুলিশ কর্মকর্তা জানান, ঘটনাটি মিংমাং বসতিতে ঘটেছে। প্রাথমিক তথ্য অনুযায়ী, অরুণাচল প্রদেশের কিছু লোকের অসমের জমি দখলের অভিযোগ নিয়ে দুই পক্ষের মধ্যে বিবাদ চলছিল। বিবাদটি পরে হিংসার রূপ নেয়। অসমের মুখ্যমন্ত্রী হিমন্ত বিশ্ব শর্মা বলেছেন, পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনা হয়েছে, উত্তেজনা প্রশমিত হয়েছে।
অসম ও অরুণাচল প্রদেশের মধ্যে ৮০৪.১ কিলোমিটার দীর্ঘ সীমান্ত রয়েছে। রাজ্য দু–টির মধ্যে ১২০০টি বিতর্কিত স্থান আছে। যেগুলি নিয়ে দুই রাজ্যের মধ্যে প্রায়শই বিবাদ বাধে। এদিনের ঘটনাটি সকালে গেরুকামুখ থানার অন্তর্গত গোগামুখ রাজস্ব সার্কেলের অসম-অরুণাচল প্রদেশ সীমান্তে মিংমাং বস্তিতে ঘটেছে। পুলিশ জানিয়েছে, অসমের জমিতে অরুণাচল প্রদেশের লোকজনের অবৈধ দখল নিয়ে বিবাদের জেরে সংঘর্ষের সূত্রপাত হয়। ওই কর্মকর্তা জানান, প্রাথমিক তথ্য অনুযায়ী, সীমান্তের ওপার থেকে আসা দুষ্কৃতকারীরা অসমের বাসিন্দাদের লক্ষ্য করে নির্বিচারে গুলি চালায়।
এই গুলিবর্ষণে আটজন আহত হয়েছেন। আহতরা হলেন, দুর্গেশ্বর পাতির, রোহিত দোলে, নাগরাজ দোলে, বিগেশ্বর পাতির, পামে পেগু, সঞ্জয় তায়ুং, উৎপল দোলে এবং জান দোলে। ঘটনার পর আহত সকলকে চিকিৎসার জন্য গোগামুখ গ্রামীণ হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়। এদের মধ্যে ৭ জনের অবস্থা আশঙ্কাজনক। গুরুতর আহত ৭ জনকে উন্নত চিকিৎসার জন্য পরে ধেমাজি সিভিল হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে। ৪ জনকে অসম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে।
গোলাগুলির ঘটনার পর এলাকার উত্তপ্ত পরিস্থিতির পরিপ্রেক্ষিতে নিরাপত্তা জোরদার করা হয়েছে। একজন ঊর্ধ্বতন পুলিশ কর্মকর্তা জানিয়েছেন যে, অসম–অরুণাচল সীমান্ত এলাকায় অতিরিক্ত নিরাপত্তা বাহিনী মোতায়েন করা হয়েছে। পুলিশ পুরো বিষয়টি তদন্ত করছে। প্রাথমিকভাবে, জমি দখলের অভিযোগকেই এই বিবাদের কারণ হিসেবে উল্লেখ করা হচ্ছে। কর্মকর্তারা বলছেন, এই ঘটনা সম্পর্কিত অন্যান্য তথ্যও তদন্ত করা হচ্ছে।
এদিকে, অসমের মুখ্যমন্ত্রী হিমন্ত বিশ্ব শর্মা বলেছেন, পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনা হয়েছে এবং উত্তেজনা প্রশমিত হয়েছে। তিনি জানান, অরুণাচল প্রদেশ সরকারের সঙ্গে আলোচনার জন্য শিক্ষামন্ত্রী রনোজ পেগুকে দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে এবং অসমের পুলিশ মহাপরিচালক ও মুখ্য সচিব প্রতিবেশী রাজ্যের সংশ্লিষ্টদের সঙ্গে যোগাযোগ রাখছেন। হিমন্ত বিশ্ব শর্মা বলেন, ‘অসম–অরুণাচল প্রদেশ সীমান্তে ধেমাজিতে একটা ঘটনা ঘটেছে বলে খবর পাওয়া গেছে। রাজ্য পর্যায়ে তেমন কিছু করার নেই। পরিস্থিতি দ্রুত নিয়ন্ত্রণে আনা হয়েছে এবং উত্তেজনা প্রশমিত করা হয়েছে। আমাদের ডিজিপিও অরুণাচলের ডিজিপি–র সঙ্গে যোগাযোগ রাখছেন এবং শিক্ষামন্ত্রী অরুণাচল প্রদেশ সরকারের সঙ্গে যোগাযোগ করছেন।’
অসম ও অরুণাচল প্রদেশের মধ্যে ৮০৪.১ কিলোমিটার দীর্ঘ সীমান্ত রয়েছে এবং দুই রাজ্যের মধ্যে ১২০০টি বিরোধপূর্ণ স্থান আছে। অসম সরকার ২৯ জুলাই রাজ্য বিধানসভায় জানায় যে, অরুণাচল প্রদেশ ১৬১৪৪.০১ হেক্টর জমি দখল করেছে, যার মধ্যে অরুণাচল প্রদেশ ৮৫৮.৯১ বর্গ কিলোমিটার জমির মালিকানা দাবি করে। বিরোধ নিষ্পত্তির জন্য দুই রাজ্য ১২টি আঞ্চলিক কমিটি গঠন করেছে এবং তাদের সুপারিশ অনুযায়ী কাজ করছে। অরুণাচল প্রদেশের দাবি করা অসমের ১২৩টি গ্রামের মধ্যে মতপার্থক্য নিরসনের পদক্ষেপ শুরু করার জন্য ২০২২ সালের ১৫ জুলাই দুই রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রীরা একটা নামসাই ঘোষণাপত্রে স্বাক্ষর করেন।
পরবর্তীতে ২০২৩ সালের ২০ এপ্রিল দিল্লিতে দুই মুখ্যমন্ত্রীর মধ্যে একটা সমঝোতা স্মারক (মৌ) স্বাক্ষরিত হয়। কর্মকর্তারা জানান, ১২৩টি গ্রামের মধ্যে ৭১টির মতপার্থক্য নিরসন করা হয়েছে এবং বাকি ৫২টি গ্রামের জন্য প্রক্রিয়াটি চলছে। স্বাধীনতার পর অরুণাচল প্রদেশ প্রথমে কেন্দ্রশাসিত অঞ্চল ছিল। ১৯৮৭ সালে এটা পূর্ণাঙ্গ রাজ্যের মর্যাদা লাভ করে। রাজ্যের স্বীকৃতি পাওয়ার পর, একটা ত্রিপক্ষীয় কমিটি অসমের কিছু ভূখণ্ড অরুণাচল প্রদেশে হস্তান্তরের সুপারিশ করে। অসম এর বিরোধিতা করে এবং বিষয়টি এখন সুপ্রিম কোর্টে বিচারাধীন।
❤ Support Us





