Advertisement
  • এই মুহূর্তে দে । শ
  • অক্টোবর ২, ২০২৩

বিচ্ছিন্ন হোক বরাক, দাবি উঠতেই সাম্প্রদায়িক তাস হিমন্তর: আগামী দশ বছর প্রয়োজন নেই মিঞা ভোটের

আরম্ভ ওয়েব ডেস্ক
বিচ্ছিন্ন হোক বরাক, দাবি উঠতেই সাম্প্রদায়িক তাস হিমন্তর: আগামী দশ বছর প্রয়োজন নেই মিঞা ভোটের

আসামের মুখ্যমন্ত্রী হিমন্ত বিশ্ব শর্মা রবিবার বলেছেন, বিজেপির আগামী ১০ বছরের জন্য ‘চর’  এলাকার ‘মিয়া’ জনগণের ভোটের প্রয়োজন নেই, যতক্ষণ না তারা বাল্যবিবাহের মতো প্রথাগুলিকে বাদ দিয়ে নিজেদের সংস্কার করছে।

এদিকে বরাক ডেমোক্রেটিক ফ্রন্টের প্রধান প্রদীপ দত্ত রায় আসাম থেকে বিচ্ছিন্ন হওয়ার দাবি জানিয়েছেন। বরাক ডেমোক্রেটিক ফ্রন্টের প্রধান আহ্বায়ক প্রদীপ দত্ত রায় ২৭শে সেপ্টেম্বর পৃথক বাংলাভাষী জনগোষ্ঠী সংখ্যাগরিষ্ঠ বরাক উপত্যকা অঞ্চলের দাবি পুনর্ব্যক্ত করেন এবং অভিযোগ করেন যে তারা ভাষাগত ও সাংস্কৃতিক নিরাপত্তা ও উন্নয়ন থেকে বঞ্চিত। বরাক ডেমোক্রেটিক ফ্রন্ট বা বিডিএফ একটি পৃথক  ‘পূর্বাচল’ রাজ্য চাইছে, যেখানে কাছাড়, হাইলাকান্দি এবং করিমগঞ্জ জেলার প্রায় ৪২ লক্ষ লোক বাস করে।

এদিকে আসামের মুখ্যমন্ত্রী অবশ্য বলেছিলেন যে ‘মিয়া’ লোকেরা তাঁকে, প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদিকে এবং বিজেপিকে সমর্থন করে, তবে তারা বিজেপির পক্ষে স্লোগান দিলেও বিজেপিকে ভোট দেয় না।

শর্মা সাংবাদিকদের বলেন, “বিজেপি জনকল্যাণ করবে এবং তারা আমাদের সমর্থন করবে, কিন্তু তাদের আমাদের ভোট দেওয়ার দরকার নেই। আমাদের সমর্থন না করলেও কোন ক্ষতি নেই। তবে মিয়ার আমার নামে, বিজেপির পক্ষে এবং প্রধানমন্ত্রীর নামে ‘জিন্দাবাদ’ বলে চিৎকার করুক, তাতে ক্ষতি নেই।”

মুখ্যমন্ত্রী বলেন, “নির্বাচন এলে আমি নিজে তাদের অনুরোধ করব যেন আমাদের ভোট না দেন। আপনারা যখন পরিবার পরিকল্পনা মেনে চলবেন, বাল্যবিবাহ বন্ধ করবেন এবং মৌলবাদ বন্ধ করবেন, তখন আপনারা আমাদের ভোট দেবেন। এসব কাজ  সম্পূর্ণ করতে ১০ বছর সময় লাগবে। আমরা তাই এখন নয়, ১০ বছর পর আপনাদের ভোট চাইব।”  তিনি আরও বলেন, “মিয়ার এবং বিজেপির পক্ষে যে মিয়ার ভোট দেবেন তাদের দুই বা তিনটির বেশি সন্তান থাকা উচিত নয়, তাদের মেয়েদের অবশ্যই স্কুলে পাঠাতে হবে, বাল্যবিবাহে লিপ্ত হতে পারে না এবং মৌলবাদ ত্যাগ করে সুফিবাদ গ্রহণ করতে পারে না। এই শর্তগুলো  মিয়ার পূরণ করলে আমি সাংবাদিকদের সঙ্গে নিয়ে মিয়াদের কাছে ভোট চাইতে ‘চরে’ যাব।”

প্রসঙ্গত এই  ‘চর’ এলাকা, যেখানে প্রধানত বাংলাভাষী মুসলমানরা বাস করে, সেখানে যথাযথ স্কুল নেই বলে উল্লেখ করা হলে, মুখ্যমন্ত্রী  বলেন, “এমন একটি দেখান, যেখানে স্কুলের অস্তিত্ব নেই, সেখানে অবিলম্বে স্কুল করে দেওয়া হবে।”

বিডিএফ-এর  প্রধান আহ্বায়ক প্রদীপ দত্ত রায় কলকাতায় সাংবাদিক সম্মেলন করে বলেন,  “আমাদের বরাক উপত্যকাকে প্রথক করার দাবি করছি, বাঙালি রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠার দাবি এটা নয়। যদিও উপত্যকায় বাঙালিরা সংখ্যাগরিষ্ঠ, সেখানে চা উপজাতি, ডিমসা, মণিপুরী, বিষ্ণুপ্রিয়া, খাসি এবং কুকির মতো আরও অনেক সম্প্রদায় রয়েছে এবং তারা সবাই আর্থ-সামাজিক বঞ্চনার শিকার।”

মুখ্যমন্ত্রী হিমন্ত বিশ্ব শর্মার পক্ষ থেকে যখন একসাথে থাকার দাবি এসেছে, তার ঠিক কয়েক সপ্তাহ পরে বিডিএফ-এর এই দাবি প্রকাশ্যে এসেছে। তবে মুখ্যমন্ত্রী বলেছেন, উপত্যকার মানুষ চাইলে তাঁর সরকার রাজ্যের মধ্যে আলাদা বরাক উপত্যকার প্রস্তাব নিয়ে আলোচনা করতে প্রস্তুত।

বিডিএফ দাবি করেছে যে ক্ষমতাসীন বিজেপি সহ এই অঞ্চলের ১৫ জন বিধায়ক আলাদা রাজ্যের পক্ষে রয়েছেন। কংগ্রেস অবশ্য এই দাবির নিন্দা করে বলেছে যে আসাম ইতিমধ্যে বেশ কয়েকটি বিভাজনের সম্মুখীন হয়েছে যার ফলে বেশ কয়েকটি রাজ্য তৈরি হয়েছে, যদিও গেরুয়া শিবির এই বিষয়ে মন্তব্য করতে অস্বীকার করেছে।

বিডিএফ-এর  প্রধান আহ্বায়ক প্রদীপ দত্ত রায়-র দাবি, “আমরা বিভিন্নভাবে বৈষম্যের শিকার। আমরা সরকারি চাকরি পাই না, আমাদের মাতৃভাষা সরকারি ভাষা হিসেবে স্বীকৃতি পায় না। আমাদের কাগজকল ও চিনিকল বন্ধ হয়ে গেছে। সরকারি উদাসীনতার কারণে আমাদের চা বাগানগুলো ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে।”

ডিলিমিটেশনের পরে ৪২ লক্ষ জনসংখ্যা সহ বরাক উপত্যকায় বিধানসভা আসনের সংখ্যা ১৫ থেকে কমিয়ে ১৩ করা হয়েছিল, যখন উপজাতীয় সংখ্যাগরিষ্ঠ বড়োল্যান্ড এলাকায়, একই সংখ্যা ১২ থেকে বৃদ্ধি করে ১৫ করা হয়েছিল যদিও সেখানে জনসংখ্যা মাত্র ২৪ লক্ষ, এমনই দাবি করেন বিডিএফ নেতা।

প্রদীপ দত্ত রায় বলেন, “বরাক উপত্যকায় প্রাকৃতিক ও মানব সম্পদের অভাব নেই। এখানে ১২৫ টি চা বাগান রয়েছে। সাম্প্রতিক সফরে কেন্দ্রীয় পেট্রোলিয়াম মন্ত্রী বলেছেন যে এই উপত্যকা প্রাকৃতিক গ্যাসের উপর ভাসছে। এই বিশাল রিজার্ভকে সঠিকভাবে ব্যবহার করা হলে, এটি অবশ্যই স্থানীয় শিল্পকে উৎসাহিত করবে এবং কর্মসংস্থান হবে। এছাড়াও, বাংলাদেশ, মায়ানমার ইত্যাদি প্রতিবেশী দেশগুলিতে পেট্রোলিয়াম গ্যাস রপ্তানির পূর্ণ সম্ভাবনা রয়েছে। এছাড়া এই উপত্যকার ভৌগলিক অবস্থান ‘অ্যাক্ট ইস্ট পলিসি’ বাস্তবায়নের জন্য আদর্শ এবং এই জায়গাটি  হবে সবচেয়ে বিশিষ্ট। যথাযথ সরকারি উদ্যোগ নিলে আন্তর্জাতিক বাণিজ্যের কেন্দ্র হবে বরাক উপত্যকা, মেধাবী ও উজ্জ্বল যুবক-যুবতীরা এই উপত্যকার আরেকটি সম্পদ যারা জাতীয় ও আন্তর্জাতিক পর্যায়ে তাদের নিজ নিজ ক্ষেত্রে দক্ষতা অর্জন করে চলেছে। এই ধরনের সম্ভাবনার পূর্ণ বিকাশ কেবলমাত্র আত্মনিয়ন্ত্রণের অধিকারের মাধ্যমেই সম্ভব।”


  • Tags:
❤ Support Us
error: Content is protected !!