Advertisement
  • দে । শ
  • জুলাই ২৭, ২০২৬

অসমে বন্যা পরিস্থিতির আরও অবনতি, বন্যা কবলিত ৫.২৪ লক্ষ মানুষ

আরম্ভ ওয়েব ডেস্ক
অসমে বন্যা পরিস্থিতির আরও অবনতি, বন্যা কবলিত ৫.২৪ লক্ষ মানুষ

অসমে বন্যা পরিস্থিতির আরও অবনতি। মৃতের সংখ্যা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৬৮ জনে। সরকারি তথ্য অনুযায়ী, পাঁচটি জেলায় ৫২ লক্ষ ৪০ হাজারেরও বেশি মানুষ এখনও বন্যায় ক্ষতিগ্রস্ত। অসম রাজ্য দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে,  চরাইদেও, গোলাঘাট, জোরহাট, নগাঁও এবং শিবসাগর জেলায় ৫ লক্ষ ২৪ হাজার ৭০০ জনেরও বেশি মানুষ বন্যা কবলিত। রবিবার গভীর রাতে জারি করা বুলেটিনে বলা হয়েছে, গত ২৪ ঘণ্টায় চরাইদেও জেলায় বন্যার জলে ডুবে দুজনের মৃত্যু হয়েছে।

সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে চরাইদেও, যেখানে প্রায় ১.৯ লক্ষ মানুষ ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছেন। এর পরেই রয়েছে শিবসাগর, যেখানে ১.৫ লক্ষেরও বেশি মানুষ ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছেন এবং জোরহাটে প্রায় ১.৪ লক্ষ মানুষ ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছেন। শনিবারের তুলনায় পরিস্থিতি উন্নতি হচ্ছে। শনিবার পর্যন্ত ৬টি জেলায় প্রায় ৬৫.৫ লক্ষ মানুষ ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছিলেন। অসম রাজ্য দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা কর্তৃপক্ষর তথ্য অনুযায়ী, কর্মকর্তারা চারটি জেলায় ৩৫৪টি ত্রাণ শিবির ও ত্রাণ বিতরণ কেন্দ্র পরিচালনা করছেন, যেখানে ৩৭৭২৪ জন গৃহহীন মানুষকে আশ্রয় দেওয়া হচ্ছে। সেনাবাহিনী, এনডিআরএফ, এসডিআরএফ, ফায়ার অ্যান্ড ইমার্জেন্সি সার্ভিস এবং পুলিশ উচ্চ আসামের বিভিন্ন অংশ থেকে বহু মানুষকে উদ্ধার করেছে।

বুলেটিনে জানানো হয়েছে যে, সেনাবাহিনী, এনডিআরএফ, এসডিআরএফ, দমকল ও জরুরি পরিষেবা এবং পুলিশ উচ্চ আসামের বিভিন্ন অংশে উদ্ধার অভিযান চালাচ্ছে। বর্তমানে রাজ্যজুড়ে ৭৬৩টি গ্রাম বন্যার জলে ডুবে গেছে এবং ৪৮৭৪২.০৯ হেক্টরেরও বেশি কৃষি জমি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। অসম রাজ্য দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে যে, বেশ কয়েকটি জেলায় বাঁধ, রাস্তা, সেতু এবং অন্যান্য সরকারি অবকাঠামোও ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। এতে আরও বলা হয়েছে যে, নুমালিগড়ে ধানসিড়ি নদী এখনও বিপদসীমার উপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে। বুলেটিনে বলা হয়েছে যে, এই ভয়াবহ বন্যায় আসাম জুড়ে ৮৮,২৪০টি গৃহপালিত পশু ও হাঁস-মুরগি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।

মুখ্যমন্ত্রী হিমন্ত বিশ্ব শর্মার মতে, ভারতীয় বিমান বাহিনী এ পর্যন্ত ২৯টি উড়ান পরিচালনা করেছে এবং আটকে পড়া জনগোষ্ঠীর জন্য আকাশ থেকে ৪১০০টিরও বেশি ত্রাণ সামগ্রী ফেলেছে। ২৫০ জন এনডিআরএফ কর্মীর সহায়তায় উদ্ধার ও ত্রাণ কার্যক্রম চলছে। তাঁদের সহায়তা করছে ৩৬টি এনডিআরএফ বোট, ৬৫টি এসডিআরএফ ও ফায়ার অ্যান্ড ইমার্জেন্সি সার্ভিসের বোট, ভারতীয় সেনাবাহিনীর তিনটি বোট এবং মাজুলি ও তার আশপাশের এলাকা থেকে আনা ৮২টি দেশীয় বোট।


  • Tags:
❤ Support Us
error: Content is protected !!