- দে । শ
- জানুয়ারি ৩০, ২০২৫
আবাস যোজনার টাকা ঢুকেছে বাবলুর অ্যাকাউন্টে, হয়রানিতে জেরবার অন্য বাবলু
২০২০—২১ অর্থবর্ষে আবাস যোজনায় প্রথম কিস্তির টাকা কাগজে-কলমে পেয়েছেন পূর্বস্থলী ১নং ব্লকের শ্যামপুরের বাসিন্দা বাবলু মল্লিক। আদতে ওই টাকা গিয়েছে অন্য বাবলুর অ্যাকাউন্টে। কিন্তু দুর্ভোগ পোয়াতে হচ্ছে শ্যামপুরের বাবলুকে। সরকারি অর্থ পাওয়া সত্ত্বেও কেন বাড়ি তৈরি করেননি বাবলু— আধিকারিকদের কাছে এই প্রশ্নের জবাব দিতে কালঘাম ছুটে যাচ্ছে খেতমজুরি করে কোনওরকমে দিন গুজরান করা বাবলুর। এমনকী এই প্রশ্নের জবাব চাইতে পুলিশ পর্যন্ত বাবলুর টালির ছাউনি দেওয়া ভাঙাচোরা মাটির বাড়িতে হানা দিয়েছে। বাবলুর কথায়, ‘অফিসাররা আমাকে বলে গিয়েছেন, সরকারি অর্থ তছরুপের দায়ে আমার বিরুদ্ধে আইন মোতাবেক ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’ গোটা ঘটনাটি সংশ্লিষ্ট পূর্বস্থলী ১নং পঞ্চায়েত সমিতির নজরে এনে বিহিত চেয়েছেন বাবলু। বাবলু ভেবে পাচ্ছেন না, ‘একই নামের আরেক বাসিন্দার অ্যাকাউন্টে টাকা ঢুকেছে। কিন্তু বাবার নামতো ভিন্ন। তাহলে কেন এমনটা হবে? টাকাতো পেলাম না। অথচ কেন আমাকে এভাবে হয়রানির শিকার হতে হচ্ছে?’ পঞ্চায়েত সমিতির সভাপতি দিলীপ মল্লিক জানান, ‘বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে খতিয়ে দেখা হচ্ছে।’ বিষয়টি জেনে কালনার মহকুমাশাসক শুভম আগরওয়ালও বিডিওকে ‘তদন্ত করে দেখতে’ বলেছেন। ব্যাঙ্কও বিষয়টি সম্পর্কে পরিষ্কার হতে ২ বাবলুকে তলব করেছে।
এলাকায় গিয়ে দেখা গেল, বসবাসের অযোগ্য একটি বাড়ি বাবলুর মাথা গোঁজার ঠাঁই। বর্ষার জল আটকাতে টালির চালের বিভিন্ন জায়গায় পলিথিন খাটানো রয়েছে। ধারদেনা করে বিয়ে দিয়েছেন মেয়ের। ২ পুত্র আর স্ত্রীকে নিয়ে বাস করেন বাবলু। স্বাভাবিকভাবেই আবাস যোজনার প্রকৃত উপভোক্তা হিসেবে বাবলুর নাম ওঠে। ২০২২ সালের ২১ এপ্রিল পঞ্চায়েত সমিতির নির্বাহী আধিকারিক স্বাক্ষরিত চিঠিতে বাবলু জানতে পারেন, তিনি আবাস যোজনার উপভোক্তা তালিকাভুক্ত হয়েছেন ও প্রথম কিস্তির ৬০ হাজার টাকা পেয়ে গিয়েছেন। চিঠি পেয়ে মাথায় হাত পড়ার জোগাড় হয় বাবলুর। ছোটেন ব্যাঙ্কে। দেখেন, তার অ্যাকাউন্টে একটা কানাকড়িও ঢোকেনি। পরের সপ্তাহেই জানতে চাওয়া হয়, বাড়ি তৈরির কাজ কতটা এগিয়েছে? তারপর থেকে এখনও পর্যন্ত ‘টাকা পেয়েও কেন বাড়ি তৈরি করেননি’, তার কৈফিয়ৎ দিতে দিতে ‘ক্লান্ত’ বাবলু। বাবলু জানান, ‘আমি পঞ্চায়েত সমিতিকে লিখিতভাবে জানিয়েছি, ব্যাঙ্কে গিয়ে জেনেছি, আমার নামেই একজনের অ্যাকাউন্ট আছে। দুজনেরই অ্যাকাউন্ট নম্বরই এক। বিষয়টি জেনে ব্যাঙ্ক আমার অ্যাকাউন্ট নম্বর বদলে অন্য একটি নম্বরে পাশবই করে দেয়। তবু বারেবারে আমাকে জবাবদিহি করতে হচ্ছে। চাই, ব্যাঙ্ক ও প্রশাসন দ্রুত বিষয়টির নিষ্পত্তি করুক।’
❤ Support Us





