- খাস-কলম প্রচ্ছদ রচনা
- নভেম্বর ১১, ২০২২
বাংলাদেশে ভোটের একবছর আগেই ভয়ঙ্করের পদধ্বনি। ফরিদপুরে নামছে বিএনপি। প্রতিস্পর্ধার মহাসবাবেশ আওয়ামী লিগের
২০২৩ সালে, বাংলাদেশের সাধারণ নির্বাচন। প্রায় একবছর পর। তার আগেই উত্তাল হয়ে উঠতে পারে দক্ষিণপূর্ব এশিয়ার অন্যতম উন্নয়নশীল দেশটি। তাদরকি সরকারের অধীনে নির্বাচন করতে হবে, এই দাবিতে রাস্তায় নেমে পড়েছে বিএনপি। বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ শহরে আন্দোলনের নামে বিশৃঙ্খল পরিস্থিতি তৈরি করে সরকারকে চ্যালেঞ্জের মুখে দাঁড় করিয়ে দিয়েছে। উদ্বিগ্ন নাগরিক সামাজের একাংশ। আরেক অংশ নিঃশব্দে সমর্থন করছে ক্ষমতাহীন বিরোধী দলকে। আগামী ১২ নভেম্বরে ফরিদপুরের মহাসমাবেশের ডাক দিয়েছে বিএনপি। দাবি, তদারকি সরকার গঠন আর আওয়ামী লিগের অপশাসনের অবসান। ঢাকা ডিভিশনের ফরিদপুর শহরের আব্দুল আজিজ ইন্সটিটিউট মাঠে তাদের মহাসভা হবে। বিএনপিকে কোনঠাসা করতে প্রতিস্পর্ধায় সরব আওয়ামি লিগ। বিএনপির মহাসমাবেশের একদিন আগে, ১১ নভেম্বর ফরিদপুর শহরে মহামিছিল আর মহাসমাবেশের ডাক দিয়েছে ক্ষমতাসীন শাসক গোষ্ঠী। পরিস্থিতি উদ্বেগজনক। গ্রামে গ্রামে প্রচার চলছে। পাল্লা দিয়ে চলছে অপপ্রচার আর উসকানি। জামাত-এ-ইসলামী নীরব। তাদের সঙ্গে বিএনপির জোট ভেঙ্গে গেছে। ভোটের আগে তাদের অভিমুখ কোনদিকে মোড় নেবে, তা দেখার বিষয়। আওয়ামি লিগের বিরুদ্ধে ময়দানে নামবেই। তলে তলে বিএনপির সঙ্গে আঁতাত গড়ে তুলতে চাইছে। একা লড়াই করার শক্তি নেই। প্রয়াত হুসেইন মহম্মদ এরশাদের জাতীয় পার্টি জামাত বিএনপি থেকে দূরত্ব বজায রাখবে। শান্তিপূর্ণ ভােট অসম্ভব। বিএনপি প্রতিষ্ঠান বিরোধী মনোভাবকে প্রয়োগ করবে। তবে নাগরিক মধ্যবিত্ত, নব প্রজন্ম এবং শ্রমিক শ্রেণীর সমর্থন কতটা অর্জন করবে,তা অনিশ্চিত। বিএনপির দাবি, তদারকি সরকারের স্বচ্ছ ভোট হলে তারা জিতবে। তদারকি সরকারের দাবি অগ্রাহ্য হলে নির্বাচনে অংশগ্রহন নাও করতে পারে।
স্বচ্ছ, নিরপেক্ষ ভোট হলেও বিএনপির ক্ষমতায় ফেরা দুস্কর। তাদের নিয়ে বাংলাদেশের অভিজ্ঞতা বড়ো তিক্ত।দুর্নীতি, মৌলবাদীদের সঙ্গে সহবাস এবং সন্ত্রাসবাদকে প্রশ্রয় ইত্যাদি অভিযোগ এখনও বেগম জিয়ার দলকে তাড়া করছে।কৌশল প্রিয় শেখ হাসিনাকে দুর্নীতি ছুঁতে পারেনি। মুক্তিযুদ্ধ বিরোধী শক্তিকেও বরদাস্ত করেনি তাঁর সরকার। উন্নয়নও তাঁর দলের সামাজিক সমর্থনের ভিত্তি। প্রতিবেশী ভারত, নেপাল, ভুটান আওয়ামি লিগের ক্ষমতায় ফিরে আসা প্রত্যাশা করছে। ইউরোপীয় ইউনিয়ন, ব্রিটেন যথাসম্ভব নিরপেক্ষ থাকবে। আমেরিকার মনোভাব স্পষ্ট নয়। ভারত আর রুশ বন্ধু বাংলাদেশ মার্কিন শাসকদের কাম্য নাও হতে পারে। জো বাইডেন ঝামেলায় জড়াতে চাইবেন না। অভ্যন্তরীন সমস্যা, মন্দা, তাঁকে ধাওয়া করছে। চিনের ভূমিকা সন্দেহজনক হলেও গত কয়েক বছরে শেখ হাসিনার সঙ্গে তাদের হৃদ্যতা বেড়েছে। বাইরের হস্তক্ষেপ বাংলাদেশের আগামী নির্বাচনকে খুব একটা প্রভাবিত করবে না। সমস্যা হয়ে উঠবে অভ্যন্তরীন রাজনীতির পারস্পরিক বৈরিতা। বাংলাদেশের নাগরিক বুদ্ধিজীবীদের বড় অংশই রাজনৈতিক স্থিতি দাবি করবেন। তাঁদের আশঙ্কা, বিএনপির প্রত্যাবর্তন মানেই মৌলবাদ, সন্ত্রাস আর অনাচারের বাড়াবাড়ি। যদি স্বচ্ছ ভোট হয়, তাহলে সংসদে বিএনপির পুনরুত্থান অবশ্যম্ভাবী।ক্ষমতায় নাও যদি আসে, তাদের বহু আসন জয়ের সম্ভাবনা নাকচ করা অসম্ভব। আন্দোলনহীন, ক্ষমতাহীন দলটির কোমরে নবশক্তির জোড় কোথায় ? নেত্রী অসুস্থ, নেত্রীপুত্র তারেক রহমান লন্ডনে। ওখান থেকেই দরজা খোলার চাবি ঘোরাচ্ছেন। যাঁর দেশে ফেরার সহস নেই, তাঁর পক্ষে নড়বড়ে সংগঠনকে তরতাজা করে তোলা কতটা সম্ভব? সম্ভবত তাঁরই প্রবাসীকন্ঠের নির্দেশে, ভোটের একবছর আগেই ময়দানে নেমে শক্তি পরীক্ষায় অবতীর্ন হতে চাইছেন জিয়াউর রহমানের হাতে গড়া দলের প্রবীন নেতারা।
❤ Support Us







