Advertisement
  • প্রচ্ছদ রচনা বি। দে । শ
  • ফেব্রুয়ারি ২৮, ২০২৫

বাংলাদেশে ছাত্রদের নতুন রাজনৈতিক দল ‘জাতীয় নাগরিক পার্টি’র আত্মপ্রকাশ। শীর্ষপদে নাহিদ, সরজিস, হাসনাতরা

আরম্ভ ওয়েব ডেস্ক
বাংলাদেশে ছাত্রদের নতুন রাজনৈতিক দল ‘জাতীয় নাগরিক পার্টি’র আত্মপ্রকাশ। শীর্ষপদে নাহিদ, সরজিস, হাসনাতরা

বাংলাদেশে বৈষম্যবিরোধী আন্দোলনের ছাত্রনেতারা নতুন রাজনৈতিক দলের আত্মপ্রকাশ করতে চলেছেন, এ নিয়ে সে দেশের রাজনৈতিক মহলে তীব্র জল্পনা চলছিল। গত ২৫ ফেব্রুয়ারি অন্তর্বর্তী সরকারের উপদেষ্টা পদ থেকে ছাত্রনেতা নাহিদ ইসলামের পদত্যাগের পর, প্রশ্ন উঠেছিল কবে নতুন দল রাজনীতির মাঠে নাববার ঘোষণা দেবে। কী নাম হবে, দলের মাথায় কে কে থাকবেন, সে নিয়ে চলছিল আলোচনা। সমস্ত জল্পনার অবসান ঘটিয়ে এবার ঘোষণা করা হল ছাত্রদের নতুন রাজনৈতিক দলের নাম। বৃহস্পতিবার যৌথ কমিটির কয়েক দফা আলোচনার পর সংগঠনের নেতারা নতুন দলের নাম ঠিক করেন ‘জাতীয় নাগরিক পার্টি’। জাতীয় নাগরিক কমিটির সদস্য সচিব আখতার হোসেন বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। কমিটির ফেসবুক পেজ থেকেও নতুন দলের নাম পোস্ট করা হয়েছে। শুক্রবার বিকেলে বাংলাদেশের রাজধানী ঢাকায় লক্ষ মানুষের সমাগমে হতে চলেছে জাতীয় নাগরিক পার্টি’র আত্মপ্রকাশ অনুষ্ঠান। নতুন দলে আহ্বায়ক কমিটির শীর্ষপদে থাকবেন ছাত্র আন্দোলনের পরিচিত মুখ নাহিদ, সরজিস, হাসনাতরা।

বাংলাদেশে গতবছর জুলাই-আগষ্টে বৈষম্যবিরোধী আন্দোলন ক্রমেই সরকারবিরোধী আন্দোলনে রূপান্তরিত হয়। পতন ঘটে শেখ হাসিনার আওয়ামী লীগ সরকারের। দেশ ছেড়ে ভারতে আশ্রয় নেন মুজিবকন্যা। ড.ইউনূসের নেতৃত্বাধীন অন্তর্বর্তী সরকার বাংলাদেশের শাসনভার পরিচালনার দায়িত্ব গ্রহণ করে। কিন্তু একাধিক ঘটনার প্রেক্ষিতে ছাত্রনেতাদের তরফে বারবার নতুন রাজনৈতিক দলের প্রয়োজনীয়তার কথা উঠে আসে। শুরু হয় আলোচনা। দেশের জেলা ও উপজেলায় সংগঠন তৈরি করতে মাঠে নামেন বৈষম্যবিরোধী ও নাগরিক কমিটির নেতারা।

জাতীয় নাগরিক কমিটির মুখপাত্র সামান্তা শারমিন সংবাদবাদমাধ্যমকে জানিয়েছে, জুলাই-আগষ্টের ‘গণঅভ্যুত্থানের পর বাংলাদেশের মানূষের মনে নতুন আশা ও ভরসা তৈরি হয়েছে। নতুন বাংলাদেশ গঠনের সূচনা হয়েছে। আমরা মানুষের সেই বিশ্বাস, আশা, ভরসার মর্যাদা দিতে নতুন রাজনৈতিক দল গঠন করছি। বর্তমান রাজনৈতিক দলগুলি মুদ্রার এপিট-ওপিট, তারা মানুষের প্রতিনিধিত্ব করে না। আমরা বাংলাদেশকে উন্নত, আধুনিক, গুরুত্বপূর্ণ দেশ হিসাবে তুলে ধরবোই।’

জানা যাচ্ছে, ছাত্র-নাগরিক দলের বর্তমান কমিটিতে নেই, এমন ৩০ শতাংশ নতুন মুখকে যুক্ত করে প্রায় ১৫০ থেকে ২০০ জনের একটি আহ্বায়ক কমিটির মাধ্যমে গোড়াপত্তন করা হবে নয়া রাজনৈতিক দলের। ধীরে ধীরে আরো মানুষকে যুক্ত করা হবে। একইসঙ্গে জেলা ও গ্রামীণস্তরে সংগঠন মজবুত করবার কাজ চালাবেন শীর্ষনেতারা। ইতিমধ্যে দলের পতাকা ও প্রতীক, গঠনতন্ত্র, আদর্শ, ঘোষণাপত্র, চূড়ান্ত করতে চলছে তৎপরতা। প্রধান আহ্বায়ক হিসাবে নাহিদ ইসলামের নাম ঘোষণা হতে পারে আজ। হাসিনা বিরোধী আন্দোলনের মাঠে নেতৃত্বের সামনের সারিতে ছিলেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সমাজবিজ্ঞান বিভাগের প্রাক্তন ছাত্র নাহিদ। আন্দোলন চলাকালীন আওয়ামী সরকার তাঁকে বিতর্কিত ‘আয়নাঘর’-এ বন্দী করেছিল বলে অভিযোগ। এছাড়াও সদস্য সচিব পদে আখতার হোসেন, মুখ্য সংগঠক হিসাবে সারজিস আলম ও হাসনাত আব্দুল্লাহ, মুখ্য সমন্বয়ক নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী ও যুগ্ম সমন্বয়ক পদে হান্নান মাসুদের নাম চূড়ান্ত হয়েছে বলে জানা যাচ্ছে।

শুক্রবার আত্মপ্রকাশ অনুষ্ঠানে বিপুল জমায়েতের চেষ্টা চালাচ্ছে উদ্যোক্তারা। ঢাকার বাইরে থেকেও নেতাকর্মীরা এই বর্ণাঢ্য সমাবেশে যোগ দেবেন বলে খবর। আমন্ত্রণ পেয়েছেন বিএনপি, জামায়াতে ইসলামী সহ ছাত্র-জনতা অভ্যুথানের শরিক ৩৬টি রাজনৈতিক দলের নেতারা। আমন্ত্রণ জানানো হয়েছে বাংলাদেশের রাজধানীতে নিযুক্ত ৫১টি দেশের রাষ্ট্রদূত, হাই-কমিশনার ও কূটনীতিকদের। তবে বাদ পড়েছেন ক্ষমতাচ্যুত আওয়ামী লীগ ও তাদের সহযোগী দলগুলি ও জাতীয় লীগ। আজকের সমাবেশে মুহাম্মদ ইউনূস যোগ দেবেন কি না, তা জানা যায়নি।


  • Tags:
❤ Support Us
error: Content is protected !!