- এই মুহূর্তে দে । শ
- অক্টোবর ৫, ২০২৬
কেবল নজরদারি নয়, দরকার পড়াশোনার সুষ্ঠু পরিবেশ আর আইনশৃঙ্খলা : বিশ্ববিদ্যালয়গুলোকে বার্তা হাই কোর্টের
রাজ্যের বিশ্ববিদ্যালয় ও উচ্চশিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলিতে পড়ুয়াদের নিরাপত্তা নিয়ে এবার আরও কড়া বার্তা দিল কলকাতা হাই কোর্ট। ক্যাম্পাসে নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে শুধু সিসিটিভি ক্যামেরা বসানো যথেষ্ট নয় — শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের ভিতরে স্বাভাবিক আইনশৃঙ্খলা বজায় রাখা এবং পড়াশোনার উপযুক্ত পরিবেশ নিশ্চিত করার উপরও গুরুত্ব দিয়েছে আদালত।
সোমবার এই সংক্রান্ত একটি জনস্বার্থ মামলার শুনানি হয় কলকাতা হাই কোর্টে। প্রধান বিচারপতি রবীন্দ্র ভি ঘুগে এবং বিচারপতি ওম নারায়ণ রাইয়ের ডিভিশন বেঞ্চে রাজ্যের বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয় ও শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে পড়ুয়াদের নিরাপত্তা নিয়ে জমা পড়া রিপোর্টগুলি খতিয়ে দেখা হয়। যাদবপুর বিশ্ববিদ্যালয়-সহ একাধিক প্রতিষ্ঠান ক্যাম্পাসের নিরাপত্তা সংক্রান্ত পদক্ষেপের বিস্তারিত তথ্য আদালতে জানিয়েছে। বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়ের রিপোর্ট অনুযায়ী, ক্যাম্পাসে বহিরাগতদের প্রবেশ নিয়ন্ত্রণে একাধিক ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। পাশাপাশি নজরদারি বাড়াতে বসানো হয়েছে সিসিটিভি ক্যামেরা। তবে এই ব্যবস্থাগুলি দেখার পর আদালত স্পষ্ট করে দিয়েছে, প্রযুক্তিনির্ভর নজরদারি একাই নিরাপত্তার সম্পূর্ণ সমাধান নয়। ক্যাম্পাসে যাতে কোনো ধরনের বিশৃঙ্খলা বা অরাজকতা তৈরি না হয়, সেই বিষয়টিও কর্তৃপক্ষ ও রাজ্য সরকারকে নিশ্চিত করতে হবে।
আদালতের পর্যবেক্ষণ, বিশ্ববিদ্যালয় এমন একটি জায়গা যেখানে পড়ুয়া ও শিক্ষকরা নিরাপদ ও স্বাভাবিক পরিবেশে শিক্ষা এবং গবেষণার কাজ করতে পারেন। তাই নিরাপত্তার পাশাপাশি ক্যাম্পাসের সামগ্রিক পরিবেশ শান্তিপূর্ণ রাখার দায়িত্বও সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের। এ মামলায় বিশেষ ভাবে নজরে এসেছে ডায়মন্ড হারবার মহিলা বিশ্ববিদ্যালয়। ওই প্রতিষ্ঠানের নিরাপত্তা ব্যবস্থায় যাতে কোনও ফাঁক না থাকে, সে বিষয়ে বিশেষ গুরুত্ব দিয়েছে আদালত। মহিলা বিশ্ববিদ্যালয় হওয়ায় সেখানে পড়ুয়াদের নিরাপত্তার ক্ষেত্রে অতিরিক্ত সতর্কতা প্রয়োজন বলে পর্যবেক্ষণ করা হয়েছে।
সম্প্রতি কলকাতার সত্যজিৎ রায় ফিল্ম অ্যান্ড টেলিভিশন ইনস্টিটিউট (এসআরএফটিআই)-কে ঘিরে একাধিক অশান্তির অভিযোগ সামনে এসেছে। এক সপ্তাহের মধ্যে পর পর দু’বার ক্যাম্পাসে উত্তেজনা ছড়ানোর ঘটনা ঘটে বলে অভিযোগ। রবিবার বিক্ষোভকারীদের একাংশ ক্যাম্পাসে ঢুকে পড়ুয়াদের সঙ্গে সংঘাতে জড়িয়ে পড়েন বলে অভিযোগ ওঠে। এর আগে যাদবপুর বিশ্ববিদ্যালয়েও বামপন্থী ছাত্র সংগঠন এবং এবিভিপির সদস্যদের মধ্যে সংঘর্ষকে কেন্দ্র করে উত্তেজনা তৈরি হয়েছিল। রাজ্যের একাধিক নামী শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে পর পর অশান্তির ঘটনায় উদ্বেগের আবহ তৈরি হয়েছে। এই পরিস্থিতিতে দ্রুত নিরাপত্তা ব্যবস্থা কার্যকর করার উপর জোর দিয়েছে হাই কোর্ট। বিশ্ববিদ্যালয়গুলির নিরাপত্তা সংক্রান্ত বাকি রিপোর্টও আদালতে জমা দিতে বলা হয়েছে। আগামী ১০ ডিসেম্বর মামলাটির পরবর্তী শুনানি। ওই দিন বাকি বিশ্ববিদ্যালয় ও শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলির কাছ থেকেও নিরাপত্তা সংক্রান্ত রিপোর্ট চেয়েছে আদালত।
❤ Support Us






