- দে । শ প্রচ্ছদ রচনা
- মার্চ ১০, ২০২৫
অসংগঠিত ছোট-মাঝারি উৎপাদন শিল্পের কেন্দ্রীয় সমীক্ষায় শীর্ষে বাংলা
অসংগঠিত ক্ষুদ্র, ছোট ও মাঝারি উৎপাদন শিল্পে গোটা দেশের মধ্যে শীর্ষে পশ্চিমবঙ্গ। সোমবার রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় সোশাল মিডিয়ায় এই তথ্য জানিয়েছেন। তথ্য পরিসংখ্যান দিয়ে তিনি দেখিয়েছেন, কেন্দ্রীয় পরিসংখ্যান দফতরের সাম্প্রতিক অ্যানুয়াল সার্ভে অফ আনইনকর্পোরেটেড এন্টারপ্রাইসেজের রিপোর্ট অনুযায়ী, দেশের মধ্যে একাধিক ক্ষেত্রে শীর্ষস্থান ধরে রেখেছে বাংলা । একই সঙ্গে শিল্পের এই ক্ষেত্রে মহিলাদের যোগদান উল্লেখযোগ্য বলেও জানিয়েছেন তিনি।
ক্ষুদ্র, ছোটো ও মাঝারি শিল্পের বিকাশের জন্য পদক্ষেপ নেবার কথা প্রায়শই শোনা যায় মুখ্যমন্ত্রীর মুখে। রাজ্যের প্রশাসনকে সে নিয়ে একাধিক নির্দেশ দিয়েছেন বিভিন্ন সময়ে। মহিলাদের স্বনির্ভর করতে একাধিক প্রকল্প চালু হয়েছে। শহর এবং গ্রামের মহিলারা ক্ষুদ্র ও মাঝারি শিল্পের আওতাধীন একাধিক প্রকল্পে কাজ করে স্বাবলম্বী হয়েছেন। সেই সাফল্যই ধরা পড়েছে কেন্দ্রের রিপোর্টে। রাজ্যের বাইরে থেকে অনুদান টানতে বাংলায় ‘বিজনেস সামিট’-এর মতো সম্মেলন করেছেন মুখ্যমন্ত্রী। তাতে সাফল্যও এসেছে। সরকারের সেই সব উদ্যোগের সাফল্যের কথাও পোস্টে জানিয়েছেন তিনি। রাজ্যের এই সাফল্যে উচ্ছ্বসিত মুখ্যমন্ত্রী লিখেছেন, ‘ খুশির খবর! খুবই আনন্দের সঙ্গে জানাচ্ছি যে, ভারতের কেন্দ্রীয় পরিসংখ্যান দফতরের সাম্প্রতিক বার্ষিক সমীক্ষায় আবারও প্রমাণিত হয়েছে যে, ক্ষুদ্র ও মাঝারি শিল্প বা এমএসএমই খাতে পশ্চিমবঙ্গ দেশের শীর্ষস্থান ধরে রেখেছে । পাশাপাশি, এই ক্ষেত্রে বাংলার মহিলাদের অসাধারণ অবদানও উঠে এসেছে।’ একই আন্তর্জাতিক শ্রমজীবি নারী দিবসের আবহে, শিল্পক্ষেত্রে রাজ্যের নারীদের সাফল্য অর্জনের ভূয়সী প্রশংসা করেছেন তিনি।
Happy to share that the recently published findings of the “Annual Survey of Unincorporated Sector Enterprises” conducted by the National Statistics Office, Government of India, once again establish Bengal’s top position in (MSME) manufacturing industries and, simultaneously, our…
— Mamata Banerjee (@MamataOfficial) March 10, 2025
সমীক্ষার প্রধান উল্লেখযোগ্য দিকগুলো সম্পর্কে মুখ্যমন্ত্রী জানান, ‘অসংগঠিত ক্ষেত্রের ছোট-মাঝারি উৎপাদন শিল্পে গোটা দেশে বাংলার অবদানই সবচেয়ে বেশি। মোট উৎপাদিত পণ্যের ১৬.০২ শতাংশ আসে বাংলা থেকে। যা দেশের মধ্যে সর্বোচ্চ। শুধু উৎপাদন শিল্পেই নয়, ‘অন্যান্য পরিষেবা’তেও বাংলা প্রথমে (১৩.০৯ শতাংশ)। শুধু তা-ই নয়, উৎপাদন শিল্পের সঙ্গে যুক্ত সংস্থায় শ্রমিকদের অংশগ্রহণেও বাংলা শীর্ষে। রাজ্যে শ্রমিকদের অংশগ্রহণের হার ১৩.৮১ শতাংশ, যা গোটা দেশের মধ্যে সবচেয়ে বেশি। দেশে সর্বাধিক নারী নেতৃত্বাধীন প্রতিষ্ঠানের হার (৩৬.৪%) রয়েছে পশ্চিমবঙ্গে। উৎপাদন শিল্প’ খাতে নিযুক্ত কর্মীর সংখ্যার নিরিখে (১৩.৮১%) বাংলা দেশের শীর্ষে। এছাড়াও, গোটা ভারতে ‘উৎপাদন’ (১৬.০২%) এবং ‘অন্যান্য পরিষেবা’ (১৩.০৯%) খাতে সর্বাধিক সংখ্যক সংস্থা রয়েছে পশ্চিমবঙ্গে।’ এছাড়াও, অপ্রাতিষ্ঠানিক খাতে নিযুক্ত নারী কর্মীদের সংখ্যার নিরিখেও পশ্চিমবঙ্গ প্রথম (১২.৭৩%), যা এই খাতে নিযুক্ত মোট মহিলা কর্মীদের সর্বোচ্চ শতাংশ, জানান মুখ্যমন্ত্রী।’
শিল্পোদ্যোগের ক্ষেত্রেও বাংলায় এগিয়ে নারীরা। তাঁদের নেতৃত্বে বহু অসংগঠিত ক্ষুদ্র ও মাঝারি শিল্প তৈরি হয়েছে। এই সাফল্য, রাজ্যের শক্তিশালী ‘এমএসএমই নীতি’ ও তাতে নারীদের ক্রমবর্ধমান অংশগ্রহণের প্রতিফলন বলে মনে করছেন ভারতের মহিলা মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। এই পরিসংখ্যান প্রকাশ্যে আসার পর রাজ্যের এমএসএমই শিল্পের বিকাশ নিয়ে আশাবাদী রাজ্য সরকার । মুখ্যমন্ত্রী জানিয়েছেন, বাংলা সবসময় শিল্পোন্নয়ন ও নারীশক্তির ক্ষমতায়নের পথ ধরে এগিয়ে চলছে, আগামী দিনেও তাই চলবে।
❤ Support Us






