Advertisement
  • এই মুহূর্তে দে । শ
  • অক্টোবর ৬, ২০২৫

বঙ্গ জুড়ে ‘ম্যান মেড বন্যা’— বিষ্ফোরক অভিযোগ মুখ্যমন্ত্রীর। মৃতদের পরিবারকে ৫ লক্ষ টাকা ক্ষতিপূরণ ও চাকরির ঘোষণা

আরম্ভ ওয়েব ডেস্ক
বঙ্গ জুড়ে ‘ম্যান মেড বন্যা’— বিষ্ফোরক অভিযোগ মুখ্যমন্ত্রীর। মৃতদের পরিবারকে ৫ লক্ষ টাকা ক্ষতিপূরণ ও চাকরির ঘোষণা

উত্তরবঙ্গে প্রবল বৃষ্টিপাত ও ভূমিধসে প্রাণ হারিয়েছেন অন্তত ২৩ জন। ডায়মন্ড হারবারের বাসিন্দা যাদবপুরের এক পড়ুয়া পর্যটক এখনো নিখোঁজ বলে জানা যাচ্ছে। বিপর্যস্ত মানুষের পাশে দাঁড়াতে, পরিস্থিতি সরেজমিনে খতিয়ে দেখতে সোমবার উত্তরবঙ্গের উদ্দেশে রওনা হওয়ার আগে কলকাতা বিমানবন্দরে দাঁড়িয়ে একগুচ্ছ ঘোষণা করলেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। মুখ্যমন্ত্রী জানান, বন্যা ও ভূমিধসে মৃতদের পরিবার পিছু ৫ লক্ষ টাকা করে আর্থিক সাহায্য দেবে রাজ্য সরকার। শুধু তাই নয়, ওই পরিবারগুলির একজন করে সদস্যকে দেওয়া হবে হোম গার্ডের চাকরি। মমতার কথায়, ‘জীবনের কোনও বিকল্প হয় না। ৫ লক্ষ টাকা বা একটি চাকরি তার ক্ষতিপূরণ হতে পারে না। তবে এটা রাজ্য সরকারের তরফ থেকে একটি সামাজিক দায়বদ্ধতা।’

মুখ্যমন্ত্রী আরো জানান, মৃতদের মধ্যে সবচেয়ে বেশি ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে মিরিক ও কালিম্পং এলাকায়। সরকারি হিসাবে এখনো পর্যন্ত মিরিকে ১৮ জন এবং নাগরাকাটায় ৫ জনের মৃত্যু হয়েছে। তিনি জানান, উত্তরবঙ্গ সফরের সময় হাসিমারা, নাগরাকাটা ও মিরিকে ক্ষতিগ্রস্তদের সঙ্গে কথা বলবেন এবং দফতরগুলির আধিকারিকদের সঙ্গে বৈঠকে জরুরি সাহায্যের বিষয়েও সিদ্ধান্ত নেওয়া হতে পারে। পাশাপাশি তিনি অভিযোগ করেছেন, ‘১২ ঘণ্টায় টানা ৩০০ মিলিমিটার বৃষ্টি হয়েছে। তবে এই বন্যা সম্পূর্ণভাবে ম্যান-মেড। এত জল যাবে কোথায়? আমরা বিহার, উত্তরপ্রদেশ, ঝাড়খণ্ডের জল সহ্য করি। আর কত করব? ভুটান থেকে জল ছাড়ায় উত্তরবঙ্গে এবং মাইথন, পাঞ্চেত থেকে জল ছাড়ার কারণে দক্ষিণবঙ্গে একইসঙ্গে ভয়াবহ পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে। এই ধরনের জলছাড়া কোনও পরিকল্পনা ছাড়াই হয়েছে। এর দায় নিতে হবে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে।’

উত্তরবঙ্গের বেশ কিছু জেলায় বৃষ্টিপাত এখনো অব্যাহত। তিস্তা, মহানন্দা সহ একাধিক নদীর জলস্তর বিপদ সীমার উপরে বইছে। জলের তোড়ে ভেসে গিয়েছে ঘরবাড়ি ও কৃষিজমি। ধস নেমেছে বহু রাস্তায়। বন্ধ ১০ নাম্বার জাতীয় সড়ক। আবহাওয়া দফতর জানিয়েছে, রবিবারের তুলনায় সোমবার পরিস্থিতি কিছুটা উন্নতির দিকে। তবে আগামী ২৪ ঘণ্টায় আবারও ভারী বৃষ্টির পূর্বাভাস রয়েছে দার্জিলিং, কালিম্পং, জলপাইগুড়ি, কোচবিহার এবং আলিপুরদুয়ার জেলায়। এ অবস্থায়, প্রশাসনের তরফে খুলে দেওয়া হয়েছে একাধিক ত্রাণশিবির। পুরোদমে চলছে উদ্ধার কাজ। সিভিল ডিফেন্স এবং ব্লক প্রশাসনের কর্মীরা ২৪ ঘণ্টা কাজ করছেন। সরবরাহ করা হচ্ছে শুকনো খাবার, পানীয় জল ও ওষুধ। বেশ কিছু স্কুল বন্ধ রাখা হয়েছে, বহু এলাকায় ব্যাহত হয়েছে যান চলাচল। রবিবার নবান্ন থেকে উত্তরবঙ্গের পরিস্থিতির দিকে নজর রাখছিলেন মুখ্যমন্ত্রী। পর্যটকদের ফিরিয়ে আনার উদ্যোগ নিয়েছে প্রশাসন বলে দাবি মমতার। তিনি জানান, ৪৫টি ভলভো বাস এবং উত্তরবঙ্গ রাজ্য পরিবহণ দফতরের বাস দেওয়া হয়েছে। ২৫০ জনকে শিলিগুড়িতে রাখার ব্যবস্থা হয়েছে। পাশাপাশি, পাহাড়ে আটকে পড়া পর্যটকদের জন্য হোটেল খরচ দেবে রাজ্য, এমনই জানিয়েছেন মুখ্যমন্ত্রী।

উত্তরবঙ্গের বন্যা পরিস্থিতিকে কেন্দ্র করে রাজনৈতিক চাপানউতোরও চরমে। বিজেপির তরফ থেকে রাজ্য সরকারের ‘অযোগ্যতা’ এবং উত্তরবঙ্গ উপেক্ষার অভিযোগ তুলে একযোগে আক্রমণ শানানো হয়েছে। সোমবার সকালেই উত্তরবঙ্গের উদ্দেশে রওনা দেন রাজ্য বিজেপির সভাপতি শমীক ভট্টাচার্য। বিমানবন্দরে দাঁড়িয়ে রাজ্য সরকারকে তীব্র আক্রমণ করে তিনি বলেন, ‘এ সরকারের কাছ থেকে মানবিক মুখের আশা করা বোকামি। কলকাতায় যখন কার্নিভাল চলছে, তখন উত্তরবঙ্গবাসী ডুবে রয়েছে দুর্যোগে। এই সরকার প্রতিহিংসাপরায়ণ এবং সম্পূর্ণ ব্যর্থ।’ শমীক আরো অভিযোগ করেছেন, ‘ভুটানের মানুষ ডুয়ার্সের জঙ্গল থেকে কাঠ কেটে নিয়ে যান, নদী থেকে বালি তুলে নিয়ে যান, রাজ্য সরকার এ নিয়ে কোনো দিন কিছু বলেনি। আসলে উত্তরবঙ্গের মানুষের যন্ত্রণার প্রতি মমতা ব্যানার্জির সরকারের কোনো দায় নেই।’ রবিবার মুখ্যমন্ত্রীকে চিঠি দিয়ে উত্তরবঙ্গের বিপর্যয়কে ‘স্টেট ডিজাস্টার’ বলে ঘোষণা করার দাবি তুলেছেন দার্জিলিঙের বিজেপি সাংসদ রাজু বিস্তা। তাঁর বক্তব্য, ‘রাজ্য সরকার এই বিপর্যয়কে রাজ্য স্তরের দুর্যোগ হিসেবে ঘোষণা করলেই কেন্দ্রীয় সহায়তার রাস্তা খুলে যাবে।’


  • Tags:
❤ Support Us
error: Content is protected !!