- এই মুহূর্তে দে । শ
- জুলাই ৫, ২০২৩
হাঁটুতে অস্ত্রপচার, বৃহস্পতিবার এসএসকেএমএ ভর্তি হতে পারেন মুখ্যমন্ত্রী
ফাইল চিত্র
বৃহস্পতিবার মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় এসএসকেএম হাসপাতালে ভর্তি হতে পারেন। মুখ্যমন্ত্রীর হাঁটুতে জল জমেছে। তাঁকে ফিজিওথেরাপি করা হচ্ছে। হাঁটুতে জল জমার জন্য মুখ্যমন্ত্রীর বাঁ হাঁটুতে একটি ছোট্ট অস্ত্রপচার হতে পারে বলে এসএসকেএম হাসপাতাল সূত্রে জানান হয়েছে। এখন মুখ্যমন্ত্রী বাড়িতেই চিকিৎসকদের পরামর্শে রয়েছেন, বাড়িতেই তাঁর ফিজিওথেরাপি চলছে।
গত ২৭ জুন, হঠাৎ করে কপ্টার বিপর্যয়ে পড়ে রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় আহত হন দুপুরেই। জলপাইগুড়ি থেকে কপ্টারে বাগডোগরা যাওয়ার পথে বৈকুণ্ঠপুরে জঙ্গলের ওপর প্রাকৃতিক বিপর্যয়ে পড়ে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের কপ্টার। সেবক এয়ার বেসে মুখ্যমন্ত্রীর কপ্টার জরুরি অবতরণ করে। সেই সময় কপ্টার থেকে নামতে গিয়ে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের বাঁ পায়ের হাঁটুতে ও বাঁ দিকের হিপ জয়েন্টের লিগামেন্টে ছোট লাগে। অবশেষে সেবক থেকে সড়ক পথে বাগডোগরা এসে মুখ্যমন্ত্রী বিমানে কলকাতা বিমান বন্দরে ফেরেন। বিমান বন্দরে নেমেই সোজা এসএাকেএম হাসপাতালে চলে যান মুখ্যমন্ত্রী। ওই দিনই এমআরআই করে এসএসকেএম হাসপাতাল থেকে জানিয়ে দেওয়া হয়, বাম হাঁটুর লিগামেন্টে ও বাঁ দিকের হিপ জয়েন্টে চোট আছে মুখ্যমন্ত্রীর। মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের এমআরআই করার পর তাঁর শারীরিক অবস্থা সম্পর্কে এমনটাই সেদিন জানান এসএসকেএম হাসপাতালের অধ্যক্ষ মণিময় বন্দ্যোপাধ্যায় । তিনি সেদিন জানিয়েছিলেন, মুখ্যমন্ত্রীকে হাসপাতালে থেকে চিকিৎসার পরামর্শ দেওয়া হয়েছিল। তবে মুখ্যমন্ত্রী হাসপাতাল কর্তৃপক্ষকে জানিয়েছেন, তিনি চিকিৎসকদের পরামর্শ মেনেই চলবেন, তিনি হাসপাতালে থাকবেন না, বাড়িতেই থেকে চিকিৎসকের পরামর্শ মেনে বিশ্রামে থাকবেন।
২৭ জুন, মঙ্গলবার দুপুরে ১২টা ৫০ নাগাদ খারাপ আবহাওয়া থাকার পর হেলিকপ্টারে বাগডোগরা যাওয়ার পথে খারাপ থাকায় সেবক এয়ারবেসে জরুরি অবতরণ করে মুখ্যমন্ত্রীর হেলিকপ্টার। ওই ঘটনায় পা এবং কোমরে চোট পান মুখ্যমন্ত্রী । এর পর বাগডোগরা থেকে বিমানে কলকাতা পৌঁছে সোজা এসএসকেএমে আসেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। সেখানে তাঁর এমআরআই পরীক্ষা করা হয়। সেই পরীক্ষাতেই জানা যায়, মুখ্যমন্ত্রীর বাম হাঁটুর লিগামেন্টে চোট লেগেছে। চোট লেগেছে বাম দিকের হিপ জয়েন্টের লিগামেন্টেও।
বিমান বন্দর থেকে গাড়িতে করে এসএসকেএম হাসপাতালে আসেন মুখ্যমন্ত্রী। হুইল চেয়ারে না উঠে খুঁড়িয়ে হাসপাতালের ভিতরে ঢোকেন তিনি। তাঁর হাঁটা দেখে তখনই বোঝা যাচ্ছিল, তাঁর হাঁটতে ব্যথা হচ্ছে।
ওই দিন মুখ্যমন্ত্রী এসএসকেএম হাসপাতালে পৌঁছনোর আগেই সেখানে পৌঁছে যান রাজ্যের মুখ্যসচিব হরিকৃষ্ণ দ্বিবেদী, স্বরাষ্ট্রসচিব বিপি গোপালিকা,স্বাস্থ্যসচিব নারায়ণস্বরূপ নিগম এবং বিধানসভার স্পিকার বিমান বন্দ্যোপাধ্যায়। মমতার চোট কতটা তা পরীক্ষানিরীক্ষা করে দেখার জন্য এসএসকেএমের ফিজিক্যাল মেডিসিন, নিউরোলজি, রেডিওলজির বিভাগীয় প্রধান উপস্থিত ছিলেন। তাঁর পরেই এমআরআই পরীক্ষা করা হয়। হাসপাতাল সূত্রে জানা গিয়েছে, মুখ্যমন্ত্রীর জন্য তৈরি রাখা ছিল উডবার্ন ওয়ার্ডের সাড়ে ১২ নম্বর কেবিন। সন্ধ্যা ৭টা নাগাদ দেখা যায়, হুইলচেয়ারে বসিয়ে মুখ্যমন্ত্রীকে এসএসকেএমের এক বিভাগ থেকে অন্য বিভাগে নিয়ে যাওয়া হচ্ছে। পরে মণিময় জানান, মুখ্যমন্ত্রী ভর্তি হতে সম্মত হননি। চিকিৎসকদের সমস্ত পরামর্শ তিনি বাড়িতে থেকেই মেনে চলবেন। তার পর থেকে বাড়িতেও মুখ্যমন্ত্রীর ফিজিওথেরাপি চলছে। এখন চিকিৎসকরা বলছেন, মুখ্যমন্ত্রীর বাঁ হাঁটুতে জল জমার কারণে তাঁর ছোট্ট একটি অপারেশন করতে হবে, তাই মুখ্যমন্ত্রী বৃহস্পতিবার হাসপাতালে ভর্তি হতে পারেন বলে জানা যাচ্ছে হাসপাতাল সূত্রে।
❤ Support Us








