Advertisement
  • এই মুহূর্তে দে । শ
  • আগস্ট ২৫, ২০২৫

মঙ্গলে বর্ধমান সফরে মুখ্যমন্ত্রী, প্রশাসনিক বৈঠক, পরিষেবা বিলি ও প্রকল্পের শিলান্যাস। তৎপর প্রশাসন, আঁটোসাটো নিরাপত্তা

আরম্ভ ওয়েব ডেস্ক
মঙ্গলে বর্ধমান সফরে মুখ্যমন্ত্রী, প্রশাসনিক বৈঠক, পরিষেবা বিলি ও প্রকল্পের শিলান্যাস। তৎপর প্রশাসন, আঁটোসাটো নিরাপত্তা

বৃষ্টিভেজা শহর। জল জমেছে বহু জায়গায়। রাস্তাঘাটের বেহাল অবস্থা। তার মধ্যেই মঙ্গলবার পূর্ব বর্ধমান সফরে আসছেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। প্রশাসনিক পর্যালোচনা বৈঠক থেকে শুরু করে সরকারি পরিষেবা বিলি ও প্রকল্প শিলান্যাস সরকারি পরিষেবা প্রদান—সব মিলিয়ে এক ব্যস্ত দিন কাটাতে চলেছেন তিনি। জেলাজুড়ে তারই প্রস্তুতি চলছে যুদ্ধকালীন তৎপরতায়। এরকই মধ্যে জামালপুরের তৃণমূল নেতার বিরুদ্ধে পুলিশের কাছে জমা পড়েছে অভিযোগের পাহার, সে বিষয়েও পদক্ষেপ নেবেন মূখ্যমন্ত্রী?

পূর্ব বর্ধমান জেলাশাসক দফতর সূত্রে জানা গিয়েছে, মুখ্যমন্ত্রীর সভাস্থল হিসেবে বেছে নেওয়া হয়েছে শহরের প্রাণকেন্দ্র কার্জন গেট সংলগ্ন বর্ধমান মিউনিসিপ্যাল বয়েজ হাইস্কুল মাঠ। সভার পর তিনি জি টি রোড ধরে পদযাত্রা করে পুলিশ লাইনের দিকে যেতে পারেন বলেও অনুমান। মুখ্যমন্ত্রীর সফর ঘিরে ইতিমধ্যেই দুই বর্ধমানেই তুঙ্গে প্রস্তুতি। জেলা প্রশাসন থেকে পুলিশ, পুরসভা সেচ দফতর, সকলেই এ মুহূর্তে মুখ্যমন্ত্রীর সফর নির্বিঘ্ন করতে তুমুল ব্যস্ত। শহরের জল জমা রাস্তায় চলছে মেরামতির কাজ। জোর দেওয়া হয়েছে নিরাপত্তা ব্যবস্থাতেও। সূত্রের খবর, এদিন পূর্ব ও পশ্চিম বর্ধমানের আধিকারিকদের সঙ্গে একাধিক গুরুত্বপূর্ণ বিষয়ে আলোচনা করবেন মুখ্যমন্ত্রী। উন্নয়নমূলক প্রকল্পের অগ্রগতি, সমস্যা ও পরিকল্পনা নিয়ে বিশদে পর্যালোচনা হবে ওই সভায়। উপস্থিত থাকবেন দুই জেলার জেলা শাসক, পুলিশ সুপার, তৃণমূলের জেলা পরিষদের সভাধিপতি শ্যামাপ্রসন্ন লোহার সহ প্রশাসনের শীর্ষকর্তারা।

এদিন, সভামঞ্চ থেকেই বিভিন্ন সরকারি প্রকল্পের সুবিধাভোগীদের হাতে সরাসরি পরিষেবা তুলে দেবেন মুখ্যমন্ত্রী। জমির পাট্টা প্রদান, আর্থিক অনুদান বিলি, শ্রমশ্রী প্রকল্পের উপভোক্তাদের সহায়তা, সবই রয়েছে মুখ্যমন্ত্রীর কর্মসূচিতে। পাশাপাশি, এদিন তিনি শিক্ষা, স্বাস্থ্য, কৃষি, সেচ, রাস্তাঘাট ইত্যাদি ক্ষেত্রে একাধিক প্রকল্পের শিলান্যাস ও উদ্বোধনও করতে পারেন। তবে কোন কোন প্রকল্পগুলির শিলান্যাস বা উদ্বোধন হবে, তার চূড়ান্ত তালিকা এখনো প্রকাশ হয়নি। এ প্রসঙ্গে জেলা পরিষদের সভাধিপতি শ্যামাপ্রসন্ন লোহার বলেছেন, ‘মুখ্যমন্ত্রীর সফর ঘিরে সমস্ত দফতরে তৎপরতা চলছে। মুখ্যমন্ত্রীর হাত ধরেই নতুন কিছু প্রকল্পের সূচনা হতে পারে। তবে তালিকা এখনো চূড়ান্ত হয়নি।’

একদিকে যখন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের সফরকে কেন্দ্র করে বর্ধমান জুড়ে সাজো সাজো রব, তখনই জামালপুরের দোর্দণ্ডপ্রতাপ তৃণমূল নেতার বিরুদ্ধের অভিযোগের পাহাড়। সন্দেশখালির শাহজাহানের শেখের সঙ্গে তুলনা টানছেন এলাকাবাসীরা। অভিযোগের তীর তৃণমূল নেতা শেখ ফিরোজের দিকে। জমি দখল, মারধর, মসজিদের জমিতে জিম নির্মাণ, নানাবিধ অভিযোগ উঠেছে তাঁর বিরুদ্ধে। তাঁর বিরুদ্ধে ফুঁসছে চক্ষণজাদি, শম্ভুপুর, চককৃষ্ণপুর ও জামুদহ-সহ একাধিক গ্রামের হাজার হাজার মানুষ। গ্রামবাসীদের অভিযোগ, ফিরোজ শেখের স্ত্রী হাসনারা বেগম ২০১৮ সাল থেকে বেরুগ্রাম পঞ্চায়েতের প্রধান। সে ‘ক্ষমতার ছাতা’ মাথায় নিয়েই এলাকায় একপ্রকার ‘সন্ত্রাসের রাজত্ব’ কায়েম করেছেন ফিরোজ। গায়ের জোরে জমি দখল, চাষিদের জমিতে জবরদখল, এমনকি মসজিদের জমিতে জিম বানানোর মতো গুরুতর অভিযোগ উঠেছে তাঁর বিরুদ্ধে। গ্রামবাসীরা বলছেন, ‘ও তো শাহজাহানের থেকেও এক কাঠি সরেস। মসজিদের জমিও ছাড়েনি!’ রফিউদ্দিন মল্লিক নামক এক বাসিন্দার অভিযোগ, ‘আমাদের পৈতৃক জমি দখল করে নিয়েছে। কোণ অনুরোধেই কাজ হয়নি। উলটে হুমকি দিয়েছে।’ তবে সমস্ত অভিযোগ অস্বীকার ফিরোজের দাবি, ‘এসব পরিকল্পিত ষড়যন্ত্র। তৃণমূলের অঞ্চল সভাপতি দানি (শেখ সাহাবুদ্দিন) বেআইনি খাদ চালিয়ে, জমি দখল করে টাকা রোজগার করছে। আমি তার বিরোধিতা করেছিলাম। সে কারণেই এ চক্রান্ত।’

তবে ফিরোজের সাফাই কার্যত নস্যাৎ করে, প্রতিবাদে সরব হয়ে এলাকার বাসিন্দারা পুলিশ সুপারের কাছে লিখিত অভিযোগও জমা দিয়েছেন মাস পিটিশনের মাধ্যমে। যদিও পুলিশের পক্ষ থেকে এখনো পর্যন্ত কোনও দৃশ্যমান ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি বলেই জানা যাচ্ছে। মুখ্যমন্ত্রীর সফরের আগে, বিজেপি এই ঘটনায় সরব হয়েছে। বিজেপি নেতা মৃত্যুঞ্জয় চন্দ্র বলেন, ‘বাংলায় এখন প্রতি জেলাতেই এক-একজন শাহজাহান তৈরি হচ্ছে। এটা বিচ্ছিন্ন ঘটনা নয়।’ তৃণমূলের জেলা সভাপতি রবীন্দ্রনাথ চট্টোপাধ্যায় বলেন, ‘ঘটনার কথা আমার জানা নেই। খোঁজ নিয়ে দেখছি। অভিযোগ সত্যি হলে দল অবশ্যই ব্যবস্থা নেবে।’

অর্থাৎ, মুখ্যমন্ত্রীর বর্ধমান সফর এমন সময়েই হচ্ছে, যখন জেলারই একাধিক গ্রাম থেকে তৃণমূল নেতার বিরুদ্ধে এ ধরনের অভিযোগ উঠে আসছে। প্রশাসনিক পর্যালোচনা সভায় কী সেসব অভিযোগের প্রসঙ্গ উঠবে, নজর থাকবে সেদিকেও। বিধানসভা নির্বাচনের আগে, যেখানে তৃণমূল যে কোনও রকম দুর্নীতির বিষয়ে ‘শূন্য সহনশীলতা’র নীতি নিতে চাইছে, তার প্রয়োগ কী জেলাজুড়ে হবে? মঙ্গলবার মুখ্যমন্ত্রীর সফরকালে এমনই বহু অভিযোগ ঘিরে দলের অন্দরে রাজনৈতিক চাপানউতোরে বাড়তে পারে, মনে করছে ওয়াকিবহাল মহল।


  • Tags:
❤ Support Us
error: Content is protected !!