- প্রচ্ছদ রচনা
- জুলাই ১৯, ২০২২
টাকার রেকর্ড পতন, খাদ্যপণ্যের মূল্যবৃদ্ধির প্রতিবাদে ধর্ণায় বিরোধীরা
চিত্র: সংবাদ সংস্থা
ভারতীয় মুদ্রার রেকর্ড পতন । মঙ্গলবার সকালে ১ মার্কিন ডালারের দাম ভারতীয় মুদ্রায় ৮০ টাকা । এখন পর্যন্ত এটাই সর্বকালের সর্বনিম্ন রেকর্ড । মঙ্গলবার বাজার খোলার মুহূর্তে ১ মার্কিন ডলারের দাম দাড়ায় ৮০.০১৭৫ টাকা । সোমবার শেয়ার মার্কেট বন্ধের সময় বৈদেশিক মুদ্রা ডলারের নিরিখে টাকার দাম ছিল ৭৯.৯৭ টাকা ।
অর্থনৈতিক বিশেষজ্ঞরা বলছেন, রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধের প্রভাবে আন্তর্জাতিক বাজারের অস্থিরতা, অপরিশোধিত তেলের দাম বৃদ্ধির ফলে, ক্রমশই বিদেশি পুঁজি ভারতীয় শেয়ার মার্কেট থেকে তাদের বিনিয়োগ সরিয়ে নিচ্ছে। আর তারই সরাসরি প্রভাব পড়ছে ভারতীয় টাকায়। চলতি বছর মার্কিন ডলারের বিপরীতে এটি প্রায় ৭% কমেছে । লোকসভায় বাদল অধিবেশনের শুরু থেকেই বিরোধী তীরে বেসামাল গেরুয়া শিবির । লাগাতার মূল্য বৃদ্ধি, ডলারের নিরিখে ভারতীয় মুদ্রার পতন নিয়ে আগে থেকেই সরব ছিল বিরোধীরা । অধিবেশনের দ্বিতীয় দিনেই লাগাতার মূল্যবৃদ্ধি, বেকারত্বের ইস্যুতে বিরোধী প্রতিবাদে উত্তাল হল সংসদের দুই কক্ষ। মুলতুবি প্রস্তাব আনলেন কংগ্রেস সাসংদ গৌরব গগৈ । অন্যদিকে মুদ্রাস্ফীতি ও মূল্যবৃদ্ধির প্রতিবাদে গান্ধী মূর্তির পাদদেশে ধরনায় আন্দোলনে কংগ্রেস ।
১৮ জুলাই ভারতীয় মু্দ্রার বেহাল দশা প্রসঙ্গে দেশের অর্থমন্ত্রী নির্মলা সীতারামন লোকসভায় বলেন বলেন, ২০১৪ সালের ৩১ ডিসেম্বর থেকে এখনও পর্যন্ত অনেকটাই পতন হয়েছে । এইপর্বে মার্কিন ডলারের বিপরীতে প্রায় ২৫% কমেছে ভারতীয় মুদ্রার দর । রাশিয়া-ইউক্রেন দ্বন্দ্ব, অপরিশোধিত তেলের দাম বৃদ্ধি এবং বিশ্বজুড়ে আর্থিক অবস্থার প্রভাবই ভারতীয় মুদ্রার পতনের প্রধান কারণ । তিনি জানান, চলতি অর্থবর্ষে দ্রুত বেরিয়ে যাচ্ছে বিদেশি বিনিয়োগ। এখনও পর্যন্ত ভারতীয় ইকুইটি বাজার থেকে প্রায় ১৪ বিলিয়ন ডলার তুলে নিয়েছেন বিদেশি বিনিয়োগকারীরা । এটি ভারতীয় মুদ্রার দর পতনের অন্যতম কারণ বলে উল্লেখ করেন তিনি । অন্যদিকে জিএসটি কাউন্সিলের নতুন প্রস্তাব অনুসারে প্যাকেটজাত চাল, ডাল, আটা, মুড়ি, দই, লস্যির মতো খাদ্যপণ্যের দাম বেড়েছে । এরই প্রতিবাদে মঙ্গলবার সংসদের দুই কক্ষে সরকারি বিরোধী স্লোগান দেয় বিরোধীরা। মুলতুবি প্রস্তাব আনেন কংগ্রেস নেতা গৌরব গগৈ। তিনি বলেন , খাদ্যপণ্যের দাম বাড়িয়ে সরাসরি সাধারণ মানুষের রোজকার জীবন ধারনের উপর আঘাত এনেছে কেন্দ্র। অধিকাংশ নিত্যপ্রয়োজনীয় জিনিসের দাম বাড়ানো হয়েছে। কোভিডের কারণে একেই বিপর্যস্ত ছিল গরিব ও নিম্ন মধ্যবিত্তদের আর্থিক পরিস্থিতি। এবার সেই অবস্থা আরও খারাপ হবে। এদিকে মূল্যবৃদ্ধি, বেকারত্বের মতো ইস্যুতে তীব্র অশান্তি শুরু হলে দুপুর ২টো অবধি অধিবেশন মুলতুবি করে দেন স্পিকার। অন্যদিকে রাহুল গান্ধীর নেতৃত্বে সংসদ চত্বরে গান্ধী মূর্তির পাদদেশে ধরনায় অংশ নেন কংগ্রেস সাসংদরা।
উল্লেখ্য, জিএসটি কাউন্সিলের প্রস্তাবে গতকাল ৫ শতাংশ থেকে বেড়ে ১২ শতাংশ কর বসেছে ছুরি, ব্লেড, শার্পনার, চামচের। ডিম, ফল ও অন্যান্য কৃষিজ পণ্য বাছাই করার যন্ত্র শ্রেণি বিন্যাসের যন্ত্র, ছাপা, লেখা-আঁকার কালি, এলইডি আলো, আঁকার যন্ত্রপাতি, বিদ্যুৎচালিত জলের পাম্প, টেটরা প্যাকেরও।নিত্যপ্রয়োজনীয় জিনিস মহার্ঘ হওয়ায় এদিন সংসদ চত্বরে প্রতিবাদ দেখায় আম আদমি পার্টি ও টিআরএসের সাংসদরাও।
❤ Support Us








