Advertisement
  • প্রচ্ছদ রচনা
  • ডিসেম্বর ১০, ২০২২

ক্রোয়েশিয়ার কাছে টাইব্রেকারে হেরে বিশ্বকাপ থেকে বিদায় ব্রাজিলের

আরম্ভ ওয়েব ডেস্ক
ক্রোয়েশিয়ার কাছে টাইব্রেকারে হেরে বিশ্বকাপ থেকে বিদায় ব্রাজিলের

কোয়ার্টার ফাইনাল থেকেই বিদায় নিতে হল ব্রাজিলকে। আবারও ইউরোপিয়ান দলের সামনে এসে থমকে দাঁড়াতে হল। ২০০৬ বিশ্বকাপ থেকে শুরু, এ নিয়ে পঞ্চমবার নকআউটে এসে ইউরোপিয়ান দলের কাছে হারতে হল লাতিন আমেরিকান পাওয়ার হাউস ব্রাজিলকে। এর মধ্যে চারবারই কোয়ার্টার ফাইনালে। যে ক্রোয়েশিয়া এর আগে কখনোই ব্রাজিলকে হারাতে পারেনি, এবার তারা এসে বিশ্বকাপের নকআউটে হারিয়ে দিল সেলেসাওদের। নির্ধারিত সময়ে ম্যাচ ছিল গোলশূন্য। অতিরিক্ত সময়ে ১–১ থাকার পর ম্যাচ গড়ায় টাইব্রেকারে। টাইব্রেকারে ৪–২ ব্যবধানে জিতে সেমিফাইনালে ক্রোয়েশিয়া। নিঃসন্দেহে ক্রোটদের জয়ের নায়ক গোলকিপার লিভাকোভিচ। টানা ১২০ মিনিটে বেশ কয়েকবার ব্রাজিলকে গোল পাওয়া থেকে বঞ্চিত করেছেন তিনি। টাইব্রেকারে এসেও শুরুতে রড্রিগোর শট আটকে ব্রাজিলের বিদায়ঘণ্টা বাজিয়ে দেন তিনি।

এদিন, ম্যাচের প্রথম সুযোগটা এসেছিল ক্রোয়েশিয়ার সামনে। ১৩ মিনিটে দারুণ প্রতি আক্রমণ তুলে নিয়ে এসে ডানপ্রান্ত থেকে জুরানোভিচ বল বাড়ান। ৬ গজ বক্সের ভেতর পা লাগানোর চেষ্টা করেন প্যালাসিচ ও পেরিসিচ। কিন্তু কেউ বলে পা ছোঁয়াতে পারেননি। ব্রাজিলের সামনে প্রথম সুযোগ আসে ২০ মিনিটে। ভিনিসিয়াস জুনিয়র নেইমারের সঙ্গে ওয়াল খেলে বক্সের ভেতর ঢুকে শট নেন। ক্রোয়েশিয়ার এক ডিফেন্ডারের গায়ে লেগে বল যায় নেইমারের কাছে।  ফিরতি বল ধরে নেইমার তিন–চারজনকে কাটিয়ে শট নেন। সরাসরি চলে যায় ক্রোট গোলকিপার লিভাকোভিচের কাছে। ২২ মিনিটে ক্যাসেমিরোর দুর্দান্ত শট কর্নারের বিনিময়ে বাঁচান লিভাকোভিচ। ৩০ মিনিটে ব্রাজিলের বক্সের সামনে থেকে দুর পাল্লার শট নেন জুরানোভিচ। বল পোস্টের বারে দিয়ে চলে যায়। ৪০ মিনিটে নেইমারের দুরন্ত ফ্রিকিক সরাসরি চলে যায় ক্রোট গোলকিপারের হাতে।

দ্বিতীয়ার্ধের শুরু থেকেই ব্রাজিল আক্রমণে ঝড় তুলবে এটা প্রত্যাশিতই ছিল। ৪৭ মিনিটেই তার প্রমাণ পাওয়া গিয়েছিল। ডানপ্রান্ত থেকে উঠে এসে মিলিতাও নিচু সেন্টার করেছিলেন। রিচার্লিসনের শট কোনও রকমে বাঁচান ক্রোয়েশিয়া গোলকিপার লিভাকোভিচ। পরের মিনিটেই নেইমারের গোলমুখী শট আটকে দেন গারডিওল। ৫৫ মিনিটে রিচার্লিসনের কাছ থেকে থ্রু বল পেয়ে শট নিয়েছিলেন নেইমার। এগিয়ে এসে দারুণ দক্ষতার সঙ্গে বাঁচান ক্রোট গোলকিপার। ৬৬ মিনিটে পাকেতার ফ্লিক বাঁহাতে বাঁচিয়ে আবার দলের নিশ্চিত পতন রোধ করেন লিভাকোভিচ। ৭৬ মিনিটে আবার লিভাকোভিচের কাছে আটকে যান নেইমার। রিচার্লিসনের কাছ থেকে বল পেয়ে বক্সে ঢুকে শট নিয়েছিলেন। গোল ছেড়ে বেরিয়ে এসে গোলমুখ ছোট করে কর্ণারের বিনিময়ে বাঁচান লিভাকোভিচ। শেষ দিকে আক্রমণে চাপ থাকলেও ক্রোয়েশিয়ার রক্ষণ ও গোলকিপার লিভাকোভিচের কাছে আটকে যায় যাবতীয় আক্রমণ। ফলে নির্ধারিত সময় গোলশূন্য থেকে যায়।

ম্যাচের অতিরিক্ত সময়েও চাপ ছিল ব্রাজিলের। অন্যদিকে ক্রোয়েশিয়ার লক্ষ্য ছিল ম্যাচটা টাইব্রেকারের দিকে নিয়ে যাওয়ার। অতিরিক্ত সময়ের ইনজুরি সময়ে অবশেষে লিভাকোভিচকে পরাস্ত করতে সমর্থ হন নেইমার। পাকেতার কাছ থেকে বল পেয়ে বক্সের মধ্যে ঢুকে লিভাকোভিচকে কাটিয়ে ডানপায়ের শটে জালে জড়িয়ে দেন। শেষ দিকে ম্যাচে নাটকীয় পরিস্থিতি তৈরি হয়। ১১৬ মিনিটে গোল করে সমতা ফেরান পেটকোভিচ। ম্যাচ গড়ায় টাইব্রেকারে।

প্রথম শটে গোল করেন ক্রোয়েশিয়ার প্ল্যাসেচ। ব্রাজিলের হয়ে প্রথম শট মারেন রড্রিগো। তার শট আটকে দেন লিভাকোভিচ। ক্রোয়েশিয়ার হয়ে দ্বিতীয় শট মারেন লোগো মায়ার। ব্রাজিলের ক্যাসেমিরো গোল করে ২–১ করেন। ক্রোয়েশিয়ার লুকা মড্রিচ দারুণ শটে ৩–১ করেন। ব্রাজিলের হয়ে ৩–২ করেন পেড্রো। ক্রোয়েশিয়াকে ৪–২ ব্যবধানে এগিয়ে দেন ওরসিচ। মার্কুইহোসের শট পোস্টে লেগে ফিরতেই ৪–২ ব্যবধানে জিতে সেমিফাইনালে পৌঁছে যায় ক্রোয়েশিয়া।


  • Tags:
❤ Support Us
error: Content is protected !!