Advertisement
  • এই মুহূর্তে দে । শ
  • সেপ্টেম্বর ৯, ২০২৫

পতিতালয়ে ‘গ্রাহক’ নয়, যৌনকর্মীর ‘শোষণকারী’, গুরুত্বপূর্ণ রায় কেরালা হাইকোর্টের

আরম্ভ ওয়েব ডেস্ক
পতিতালয়ে ‘গ্রাহক’ নয়, যৌনকর্মীর ‘শোষণকারী’, গুরুত্বপূর্ণ রায় কেরালা হাইকোর্টের

পতিতালয়ে গিয়ে যৌনকর্মীর পরিষেবা নেওয়া মানেই কি শুধুই ‘গ্রাহক’ হওয়া? কেরল হাই কোর্ট বলছে, তা নয়। বরং এই কাজ যৌনকর্মীদের প্রতি শোষণেরই নামান্তর। এবং তাই, ‘খদ্দের’ পরিচয়ে দায় এড়ানো যাবে না। ইমমোরাল ট্রাফিক (প্রিভেনশন) আইনে অভিযুক্ত করা যেতে পারে পতিতালয়ে যাওয়া ‘গ্রাহক’কেও। এক গুরুত্বপূর্ণ পর্যবেক্ষণে কেরালা হাইকোর্ট জানিয়েছে, ‘যৌনকর্মী কোনো পণ্য নন, যে তাঁকে লেনদেনের বস্তু হিসেবে গণ্য করা যাবে। অধিকাংশ ক্ষেত্রেই তাঁরা মানব পাচারের শিকার হয়ে অথবা সামাজিক বৈশম্যের কারণে এ পেশায় আসতে বাধ্য হন। কাজেই যিনি অর্থ দিয়ে তাঁদের দেহসেবা কেনেন, তিনি আসলে যৌন শোষণেই অংশ নিচ্ছেন।’

কেরালা হাইকোর্টের বিচারপতি ভি.জি. অরুণের বেঞ্চের এ রায় বলছে, কেবল ‘সন্তুষ্টি’র বিনিময়ে অর্থ দেওয়া হলেই কেউ গ্রাহক হয়ে যান না। বরং, সে টাকা পরোক্ষে পতিতালয়ের দালাল বা মালিকের পকেটেই ঢোকে। আবার ওই অর্থই যৌনকর্মীকে প্ররোচিত করে নিজের দেহ ব্যবহারে। এটি বাধ্য করার নৃশংস একটি মাধ্যম। আদালতের ভাষায়, ‘এই লেনদেন প্রকৃতপক্ষে পতিতাবৃত্তিতে প্ররোচনা।’ মামলার সূত্রপাত তিরুবনন্তপুরম শহরে। একটি বাড়িতে পতিতাবৃত্তি চলার খবর পেয়ে হানা দেয় পুলিশ। গ্রেপ্তার হয় এক পুরুষ ও এক নারী, সঙ্গে আরো দুইজন, যাঁদের বিরুদ্ধে পতিতালয় চালানোর অভিযোগ ওঠে। গ্রেপ্তার হওয়া ব্যক্তিটি দাবি করেন, তিনি কেবলমাত্র একজন ‘গ্রাহক’। যৌনকর্মীরা স্বইচ্ছায় পরিষেবা দিচ্ছিলেন, তিনি তা গ্রহণ করেছেন মাত্র। তাই তাঁর বিরুদ্ধে মামলা চলতে পারে না।

আদালত সে দাবি মেনে নেয়নি। ধারা ৩ ও ৪ (যা পতিতালয় চালানো বা পরিচালনার সঙ্গে যুক্ত) থেকে তাঁকে অব্যাহতি দিলেও, হাইকোর্ট স্পষ্ট জানিয়ে দেয়, ধারা ৫(১)(ডি) ও ধারা ৭ (যৌনকর্মীদের জনসমক্ষে বা গোপনে যৌন কর্মকাণ্ডে লিপ্ত করা) অনুযায়ী তাঁর বিরুদ্ধে মামলা চলবে। কারণ, ‘এই কাজকে শুধু পরিষেবা গ্রহণ বলা যাবে না, এটি এক ধরনের অংশগ্রহণ যৌন শোষণে।’ বিচারপতি অরুণ বলেন, ‘একজন যৌনকর্মীকে পণ্যের মতো ব্যবহার করা, তাঁর দেহকে লেনদেনের মাধ্যম বানানো মানবাধিকারের লঙ্ঘন। এঁরা প্রায়শই সমাজ ও অর্থনৈতিক ব্যবস্থার মার খেয়ে এখানে এসে দাঁড়ান। তাঁদের আরো অবমাননার মুখে ঠেলে দেওয়া চলতে পারে না।’ কেরালা হাইকোর্টের এই ঐতিহাসিক রায় দেশের অন্যান্য রাজ্যেও আইন প্রয়োগে প্রভাব ফেলতে পারে বলে মনে করছেন আইনি মহলের একাংশ।


  • Tags:
❤ Support Us
error: Content is protected !!