Advertisement
  • দে । শ প্রচ্ছদ রচনা
  • অক্টোবর ৭, ২০২৬

দিল্লিতে ফের বহুতল ধস! ধ্বংসস্তূপের নিচে অনেকের আটকে থাকার আশঙ্কা, চলছে উদ্ধারকাজ

আরম্ভ ওয়েব ডেস্ক
দিল্লিতে ফের  বহুতল ধস! ধ্বংসস্তূপের নিচে অনেকের আটকে থাকার আশঙ্কা, চলছে উদ্ধারকাজ

সত্য নিকেতনের স্মৃতি এখনো টাটকা। তার মধ্যেই ফের বহুতল বাড়ি ভেঙে পড়ল দিল্লিতে। বুধবার বিকেলে উত্তর-পূর্ব দিল্লির সীমাপুরী এলাকায় আচমকাই একটি চারতলা বাড়ির সামনের অংশ হুড়মুড়িয়ে ভেঙে পড়ে। ধ্বংসস্তূপের নীচে বেশ কয়েক জন আটকে থাকতে পারেন বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে। ইতিমধ্যেই স্থানীয় বাসিন্দাদের তৎপরতায় কয়েক জনকে উদ্ধার করে হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে। ঘটনাস্থলে পৌঁছে উদ্ধারকাজ শুরু করেছে দমকল, পুলিশ এবং বিপর্যয় মোকাবিলা দল। তবে ঠিক কত জন এখনও ধ্বংসস্তূপের নীচে আটকে রয়েছেন, তা এখনো পর্যন্ত স্পষ্ট নয়।

জানা যাচ্ছে, সীমাপুরীর ইদগাহ মসজিদের কাছাকাছি মাচলি মান্ডি এলাকায় বুধবার বিকেল সাড়ে ৩টে নাগাদ ঘটে দুর্ঘটনাটি। প্রত্যক্ষদর্শীদের দাবি, আচমকা বিকট শব্দে বাড়িটির একাংশ ভেঙে পড়ে। মুহূর্তের মধ্যে চারপাশ ধুলোর মেঘে ঢেকে যায়। বাড়ির ধ্বংসাবশেষ ছড়িয়ে পড়ে আশপাশেও। পাশের দুই থেকে তিনটি বাড়িও ধ্বংসস্তূপের আঘাতে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে বলে জানা গিয়েছে।  ঘটনার খবর পেয়েই দমকলের একাধিক ইঞ্জিন ঘটনাস্থলের দিকে রওনা দেয়। দমকলের কন্ট্রোল রুমে বিকেল সাড়ে ৩টে নাগাদ ফোন এসেছিল বলে সূত্রের খবর। পরে ঘটনাস্থলে পৌঁছয় দিল্লি পুলিশ, পুরসভার আধিকারিক আর সিভিল ডিফেন্সের কর্মীরাও। ধ্বংসস্তূপ সরিয়ে ভিতরে কেউ আটকে রয়েছেন কি না, তা খুঁজে দেখতে শুরু হয় তল্লাশি। উদ্ধারকাজে ব্যবহার করা হচ্ছে প্রয়োজনীয় সরঞ্জামও।

শাহদরার ডেপুটি কমিশনার অফ পুলিশ রাজেন্দ্র প্রসাদ মীনা জানিয়েছেন, ইতিমধ্যেই কয়েক জনকে উদ্ধার করে হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে। তবে আরও দুই থেকে তিন জন ধ্বংসস্তূপের নিচে আটকে থাকতে পারেন বলে প্রাথমিক ভাবে আশঙ্কা করা হচ্ছে। তাঁদের সঙ্গে যোগাযোগও করা যাচ্ছে বলে জানিয়েছেন তিনি। ফলে উদ্ধারকারী দলের কাছে প্রতিটি মুহূর্ত গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে।  তবে স্থানীয় বাসিন্দাদের বক্তব্যে আরও কয়েক জনের আটকে থাকার আশঙ্কা সামনে এসেছে। তাঁদের দাবি, বাড়ি ভেঙে পড়ার পর পুলিশ ও দমকল পৌঁছনোর আগেই স্থানীয়েরা নিজেরাই উদ্ধারকাজে নেমে পড়েন। হাত দিয়েই ধ্বংসস্তূপ সরানোর চেষ্টা শুরু করেন অনেকে। চার থেকে পাঁচ জনকে স্থানীয়েরাই উদ্ধার করে হাসপাতালে পাঠিয়েছেন বলে দাবি এক বাসিন্দার। এমনকি এক শিশুও এখনো ধ্বংসস্তূপের নীচে আটকে রয়েছে বলে দাবি করা হয়েছে। এক স্থানীয় বাসিন্দার দাবি, ‘পুলিশ প্রায় আধ ঘণ্টা পরে এসেছিল। একটি শিশু এখনো আটকে রয়েছে। স্থানীয়রাই কয়েক জনকে উদ্ধার করে হাসপাতালে পাঠিয়েছেন। আমি নিজে এক জনকে সিপিআর দিয়েছি।’

বাড়ি ভেঙে পড়ার কারণ নিয়েও তৈরি হয়েছে প্রশ্ন। স্থানীয়দের একাংশের দাবি, মঙ্গলবার রাতে উত্তরাখণ্ডে ভূমিকম্পের পর দিল্লি-এনসিআর এলাকায় কম্পন অনুভূত হয়েছিল। তার পর থেকেই বাড়িটিতে ফাটল দেখা গিয়েছিল বলে দাবি তাঁদের। সেই কম্পনের সঙ্গে বাড়ি ধসের কোনো যোগ রয়েছে কি না, তা অবশ্য এখনো নিশ্চিত নয়। প্রশাসনের বক্তব্য, তদন্তের পরেই বাড়ি ভেঙে পড়ার প্রকৃত কারণ জানা যাবে। এ দিকে দুর্ঘটনার জেরে সীমাপুরী এবং সংলগ্ন এলাকায় যান চলাচল কার্যত বিপর্যস্ত হয়ে পড়েছে। সীমাপুরী গোলচক্কর, ডিএলএফ ভোপুরা ওআশপাশের সংযোগকারী রাস্তাগুলিতে যানজট তৈরি হয়েছে। পরিস্থিতি সামাল দিতে দিল্লি ট্র্যাফিক পুলিশের তরফে সমাজমাধ্যমে সতর্কবার্তা জারি করা হয়েছে।

ট্র্যাফিক পুলিশের তরফে জানানো হয়েছে, সীমাপুরীতে একটি বহুতল বাড়ি ভেঙে পড়েছে এবং ঘটনাস্থলে উদ্ধারকারী দল কাজ করছে। উদ্ধারকাজ যাতে দ্রুত এগোয় এবং অ্যাম্বুল্যান্স ও বিপর্যয় মোকাবিলার গাড়িগুলি যাতে সহজে ঘটনাস্থলে পৌঁছতে পারে, সে জন্য সাধারণ মানুষকে ওই এলাকা এড়িয়ে চলতে বলা হয়েছে। দুর্ঘটনাস্থলের কাছে গাড়ি থামানো, পার্কিং করা কিংবা অযথা ভিড় না করার আবেদনও জানিয়েছে পুলিশ। এই মুহূর্তে উদ্ধারকারীদের কাছে সবচেয়ে বড়ো চ্যালেঞ্জ ধ্বংসস্তূপ দ্রুত সরিয়ে ভিতরে আটকে থাকা মানুষদের কাছে পৌঁছনো। একদিকে কংক্রিটের ভারী চাঁই, অন্য দিকে ধ্বংসস্তূপের নীচে কেউ জীবিত অবস্থায় থাকলে তাঁদের উপর অতিরিক্ত চাপ না দেওয়ার বিষয়টিও মাথায় রাখতে হচ্ছে। ফলে অত্যন্ত সতর্কতার সঙ্গে এগোতে হচ্ছে উদ্ধারকারীদের। ঘটনাস্থলে ভিড় করেছেন স্থানীয় বাসিন্দারাও। অনেকেই উদ্ধারকাজে সাহায্যের চেষ্টা করছেন। তবে ধ্বংসস্তূপের কাছে অতিরিক্ত ভিড় হলে উদ্ধারকারী দলের কাজ ব্যাহত হতে পারে বলে পুলিশ ও প্রশাসনের তরফে মানুষকে সরে যাওয়ার আবেদন জানানো হয়েছে।

লাগাতার দুর্ঘটনার পর ফের প্রশ্ন উঠেছে রাজধানীর পুরনো ও ঝুঁকিপূর্ণ বাড়িগুলির নিরাপত্তা নিয়ে। এর আগে গত ৬ সেপ্টেম্বর দক্ষিণ দিল্লির সত্য নিকেতন এলাকায় একটি বহুতল হস্টেলবাড়ি ভেঙে পড়ে ভয়াবহ বিপর্যয় ঘটেছিল। ধ্বংসস্তূপ থেকে ১২ জনকে উদ্ধার করা হলেও তাঁদের মধ্যে ৭ জনের মৃত্যু হয়। গুরুতর আহত হন আরও ৫ জন। ওই বাড়িতে মূলত পেইং গেস্ট হিসাবে ছাত্রেরা থাকতেন বলে জানা যায়। সত্য নিকেতনের সে ঘটনায় বাড়িটির বেসমেন্টে নির্মাণকাজ চলছিল বলে জানা গিয়েছিল। তার আগে কয়েক দিন ধরে চলেছিল বৃষ্টিও। সে পরিস্থিতিতে বাড়িটির কাঠামো দুর্বল হয়ে পড়েছিল কি না, তা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছিল। ভবনটির নির্মাণ ও প্রয়োজনীয় অনুমোদন নিয়েও অভিযোগ সামনে এসেছিল। ফলে সেই ঘটনার পর রাজধানীর বহুতলগুলির নিরাপত্তা এবং নির্মাণবিধি নিয়ে নতুন করে আলোচনা শুরু হয়।

সে ঘটনার রেশ কাটার আগেই এ বার সীমাপুরীতে ফের বহুতল ধস। ফলে স্বাভাবিক ভাবেই প্রশ্ন উঠছে, রাজধানীর ঘিঞ্জি এলাকায় থাকা পুরনো এবং ঝুঁকিপূর্ণ বাড়িগুলির নিরাপত্তা কতটা নিশ্চিত? তবে সীমাপুরীর বাড়িটির ক্ষেত্রে কোনো নির্মাণগত ত্রুটি ছিল কি না, তা এখনই বলা যাচ্ছে না। তদন্তের পরেই বিষয়টি স্পষ্ট হবে। এ মুহূর্তে অবশ্য যাবতীয় নজর উদ্ধারকাজে। প্রশাসনের আশঙ্কা, ধ্বংসস্তূপের নীচে আরও কেউ আটকে থাকতে পারেন। পুলিশ, দমকল এবং বিপর্যয় মোকাবিলা দলের কর্মীরা একযোগে ধ্বংসস্তূপ সরিয়ে তল্লাশি চালাচ্ছেন। জীবিত কাউকে উদ্ধার করা যায় কি না, সেই আশাতেই চলছে অভিযান। হতাহতের প্রকৃত সংখ্যা উদ্ধারকাজ শেষ না হওয়া পর্যন্ত নিশ্চিত ভাবে বলা সম্ভব নয় বলে প্রশাসনের তরফে জানানো হয়েছে।


  • Tags:
❤ Support Us
error: Content is protected !!