Advertisement
  • এই মুহূর্তে দে । শ
  • আগস্ট ২৫, ২০২৫

প্রধানমন্ত্রীর ডিগ্রি সংক্রান্ত তথ্য প্রকাশে সিআইসি-র নির্দেশ বাতিল করল দিল্লি হাইকোর্ট

আরম্ভ ওয়েব ডেস্ক
প্রধানমন্ত্রীর ডিগ্রি সংক্রান্ত তথ্য প্রকাশে সিআইসি-র নির্দেশ বাতিল করল দিল্লি হাইকোর্ট

প্রধানমন্ত্রীর ডিগ্রি সংক্রান্ত তথ্য প্রকাশে দিল্লি বিশ্ববিদ্যালয়ের আবেদন মঞ্জুর করে, সিআইসি (সেন্ট্রাল ইনফরমেশন কমিশন)-এর আদেশ বাতিল করল দিল্লি হাইকোর্টের বিচারপতি সচিন দত্তর বেঞ্চ। সিআইসি-র আদেশে বলা হয়েছিল, ১৯৭৮ সালের ব্যাচের ছাত্র-ছাত্রীদের নাম, রোল নম্বর, মার্কসসহ ফলাফল প্রকাশ করতে হবে। আদেশে যেসব পড়ুয়াদের মধ্যে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির নামও ছিল, সে তথ্য প্রকাশের পথে একধাপ এগিয়ে দিয়েছিল সিআইসি। কিন্তু আজ ওই আদেশ বাতিলের উপর সিলমোহর দিল দিল্লি হাইকোর্ট।

২০১৭ সালের জানুয়ারিতে দিল্লি বিশ্ববিদ্যালয় যখন সিআইসি আদেশের বিরুদ্ধে উচ্চ আদালতে আপিল করে, সেই শুনানিতেই আদেশ স্থগিত হয়েছিল। দীর্ঘ ৮ বছরের লড়াই শেষে সোমবার সেই মামলা নিষ্পত্তি করল হাইকোর্ট। ‘সিআইসি-র আদেশ বাতিল’ এদিন স্পষ্ট জানিয়ে দিলেন বিচারপতি। বিশ্ববিদ্যালয়ের পক্ষে সলিসিটর জেনারেল তুষার মেহতা যুক্তি দেন, ‘শুধুমাত্র কৌতূহল মেটাতে বা রাজনৈতিক উদ্দেশ্যে তথ্য চাওয়া হলে তা আরটিআই আইনের আওতায় পড়ে না। ছাত্রদের ব্যক্তিগত তথ্য সংবেদনশীলতার সঙ্গে সংরক্ষিত বিশ্ববিদ্যালয়ের কর্তব্য, সাধারণ মানুষের জন্য উন্মুক্ত করার কথা নয়।’ তিনি আরো বলেন, ‘আইনে সবার জানার অধিকার সীমিত, তাই ব্যক্তিগত তথ্য প্রকাশে বিধিনিষেধ আছে।’

অন্যদিকে, আরটিআই আবেদনকারী নীরজ কুমারের পক্ষে আইনজীবী সঞ্জয় হেগড়ের যুক্তি, ‘যে কোনো বিশ্ববিদ্যালয়ই সাধারণত পরীক্ষার ফলাফল, পাশের তথ্য প্রকাশ করে থাকে। শিক্ষাগত যোগ্যতা যেমন ভোটারের জন্য গুরুত্বপূর্ণ তথ্য, তাই তা গোপন রাখা উচিত নয়। বিশ্ববিদ্যাল ‘বিশ্বাসের অধীনে পরিচালিত’ দাবিও যুক্তিহীন।’

প্রসঙ্গত, ২০১৬ সালে দিল্লির তৎকালীন মুখ্যমন্ত্রী অরবিন্দ কেজরিওয়ালের বিস্ফোরক মন্তব্যের পর যাবতীয় বিতর্ক শুরু হয়েছিল। তিনি দাবি করেছিলেন, প্রধানমন্ত্রী মোদির শিক্ষাগত যোগ্যতার ব্যাপারে ‘স্বচ্ছতা’ থাকা দরকার। মোদি তাঁর নির্বাচনী হলফনামায় উল্লেখ করেছিলেন, তিনি ১৯৭৮ সালে দিল্লি বিশ্ববিদ্যালয় থেকে বি.এ পাস করেছেন। সেসময়, বিশ্ববিদ্যালয় জানিয়েছিল, ব্যাচের ছাত্রদের ব্যক্তিগত তথ্য প্রকাশ করাটা আইন ও গোপনীয়তার জন্য সম্ভব নয়। সিআইসি সে যুক্তি না মেনে আদেশ দিয়েছিল তথ্য প্রকাশের। কিন্তু আজ সেই আদেশকে বাতিল করলেন হাইকোর্ট। এই রায়ের ফলে ব্যক্তিগত শিক্ষাগত তথ্য জনসাধারণের জন্য স্বয়ংক্রিয়ভাবে উন্মুক্ত হবে না বলেই মনে করছে সংশ্লিষ্ট মহল। আরটিআই আইন এবং গোপনীয়তার মধ্যে ভারসাম্য রক্ষা করতেই আজকের রায় বলেছে। দিল্লি বিশ্ববিদ্যালয় জানিয়েছে, তারা কোর্টের নির্দেশ অনুযায়ী প্রয়োজনীয় তথ্য আদালতকে দেখাতে প্রস্তুত আছে, তবে তা ‘সাধারণ জনতার জন্য উন্মুক্ত’ করা হবে না।


  • Tags:
❤ Support Us
error: Content is protected !!