- এই মুহূর্তে দে । শ
- অক্টোবর ৯, ২০২৫
দিল্লি-কলকাতা জাতীয় সড়কে বিভীষিকা ! ৪ দিন ধরে ৬৫ কিমি জুড়ে যানজট, বৃষ্টিতে নাকাল বিহার
টানা বৃষ্টিতে জলমগ্ন রাস্তাঘাট, উপুড় গাড়ির লাইন, মাঝরাস্তায় আটকে পড়া যাত্রী, খাবার নেই, জল নেই—এ যেন নরককুন্ড! বিহারের রোহতাস থেকে ঔরঙ্গাবাদ পর্যন্ত দিল্লি-কলকাতা জাতীয় সড়কের প্রায় ৬৫ কিলোমিটার জুড়ে এমনই বিভীষিকাময় চিত্র ধরা পড়ছে বিগত ৪ দিন ধরে। সোশ্যাল মিডিয়ায় ইতিমধ্যেই ছড়িয়ে পড়েছে ভয়াবহ যানজটের ছবি ও ভিডিও। সাধারণ মানুষ মুখ খুলেছেন প্রশাসনের নিষ্ক্রিয়তা নিয়ে।
গত শুক্রবার থেকে লাগাতার ভারী বর্ষণে ওই অঞ্চলে জল জমে বিপজ্জনক অবস্থা তৈরি হয়েছে। একের পর এক গর্তে ভরা সড়ক, সঙ্গে জলাবদ্ধতা। সব মিলিয়ে পরিস্থিতি দাঁড়িয়েছে রীতিমতো অচলাবস্থায়। ট্রাক, বাস, প্রাইভেট গাড়ি— সবই দাঁড়িয়ে পড়েছে কয়েক কিলোমিটার জুড়ে। গাড়ির মধ্যে দিন কাটাচ্ছেন বহু মানুষ, শিশুসহ বৃদ্ধ, বাধ্য হয়ে রাস্তাকেই তাঁরা বেছে নিয়েছেন আশ্রয় হিসেবে। স্থানীয় প্রশাসনের তরফে এ পর্যন্ত কোনো কার্যকরী হস্তক্ষেপের চিহ্ন দেখা যায়নি। জাতীয় সড়ক পর্ষদ এবং সংশ্লিষ্ট নির্মাণ সংস্থা— দুই পক্ষেরই নীরব ভূমিকা নিয়ে উঠছে প্রশ্ন। রাস্তার অবস্থা এমনই যে, সামান্য এগোতে গেলেই গাড়ি পিচ্ছিল রাস্তায় দুলে পড়ছে সংলগ্ন খাদে। পথে আটকে পড়া গাড়ির চালকদের কেউ কেউ সংবাদমাধ্যমকে জানিয়েছেন, ‘৪ দিন ধরে এখানেই পড়ে আছি। খাবার ফুরিয়েছে, জলও নেই। প্রশাসনের কোনলো লোক চোখে পড়েনি। ফোন করেও কোনো লাভ হয়নি।’ আটকে পড়া বাসের এক যাত্রী জানিয়েছেন, ‘আমরা বাড়ি ফিরছিলাম পূজা শেষে। এখন মনে হচ্ছে, কখন ফিরতে পারব তার ঠিক নেই। অসুস্থ লোকও আছে বাসে।’
রোহতাস জেলা প্রশাসন ইতিমধ্যেই সতর্কবার্তা জারি করে বলেছে, আগামী দিনে পরিস্থিতি আররো খারাপের দিকে যেতে পারে, ফলে সাধারণ মানুষকে বাড়ির বাইরে না বেরোনোর পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। এদিকে, আবহাওয়া দফতর বুধবার বিহারের ২৬টি জেলায় জারি করেছে ‘হলুদ অ্যালার্ট’। সতর্কবার্তায় জানানো হয়েছে, আগামী কয়েক দিন ধরে বিহারে হালকা থেকে মাঝারি বৃষ্টি চলবে, সঙ্গে বজ্রপাত এবং ঝোড়ো হাওয়া বইতে পারে। খোলা জায়গায় কাজ করা থেকে বিরত থাকতে বলা হয়েছে কৃষক এবং নির্মাণ শ্রমিকদের।
❤ Support Us







