Advertisement
  • এই মুহূর্তে দে । শ
  • অক্টোবর ২, ২০২৩

রাজঘাট থেকে নির্ধারিত সময়ের কিছু আগেই অভিষেক সহ তৃণমূলের নেতা-কর্মীদের বের করে দিল দিল্লি পুলিশ

আরম্ভ ওয়েব ডেস্ক
রাজঘাট থেকে নির্ধারিত সময়ের কিছু আগেই অভিষেক সহ তৃণমূলের নেতা-কর্মীদের বের করে দিল দিল্লি পুলিশ

সোমবার রাজঘাটে প্রায় ২ ঘণ্টার তৃণমূলের সত্যাগ্রহের শেষ মুহূর্তে জোর করে তৃণমূলের শান্তিপূর্ণ অবস্থানকে হঠিয়ে দিল দিল্লি পুলিশ। অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যাকে সাংবাদিক সম্মেলন শেষ করতেও দিল না দিল্লি পুলিশ। অভিষেক বলেছিলেন প্রথমে তিনি বাংলায় বলবেন, তার পর হিন্দিতে বলবেন। তবে বাংলায় বলা শেষ না হতেই অভিষেককে পুলিশ বের করে দিল রাজঘাট থেকে। অভিষেক ভাষণ শেষ বার হতেই তৃণমূল সাংসদ  কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায় রেগে গিয়ে বলেন, মোদির পুলিশ, অমিত শাহের পুলিশ অন্যায় ভাবে তৃণমূলের শান্তিপূর্ণ সত্যাগ্রহকে ছত্রভঙ্গ করে দিল। ওরা ভয় পেয়েছে। এদিকে পুলিশের পক্ষ থেকে কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায়কেও পুলিশ বের করে দেয়। রাজ্যের বকেয়া আদায়ের জন্য রাজঘাটের সত্যাগ্রহের শুরুর থেকেই পুলিশ তাহাদের হেনস্থা করে বলে অভিযোগ করেন অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়। শেষ পর্যন্ত দু’ঘণ্টার আগেই  পুলিশ প্রথমে বাঁশি বাজিয়ে তার পর জোর করে তৃণমূল কর্মী-সমর্থক-নেতা-মন্ত্রীদের রাজঘাট থেকে বের করে দেয় দিল্লি পুলিশ। শুরু থেকেই এদিন অবস্থানকারীদের কাছে পরিচয়পত্র দেখতে চান পুলিশ। দেড় থেকে দু’ঘণ্টা অবস্থান চলার পর তাদের তুলে দেওয়া হয়। রাজঘাটে নির্ধারিত সময়ের বেশি সময় তৃণমূলের নেতাকর্মীরা থাকার জন্য তাদের উঠিয়ে দেয় পুলিশ ও সিআরপিএফ, এমনটাই জানিয়েছে দিল্লি পুলিশ।

এই প্রসঙ্গে অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় বলেন, “আপনারা জানেন আজকে আমাদের কর্মসূচি ছিল রাজঘাটে। ভারতের যে সব স্মৃতি সৌধ রয়েছে তার মধ্যে অন্যতম রাজঘাট। রাজঘাটের স্মৃতিসৌধ আন্দোলন, ত্যাগের প্রতীক, গান্ধিজির ত্যাগের ও তাঁর স্বাধীনতা আন্দোলনের অবদানের প্রতীক। বিগত দু’বছরের বেশি সময় ধরে বাংলার প্রতি বঞ্চনার প্রতিবাদ করেছি শান্তিপূর্ণ ভাবে। মুখ্যমন্ত্রীও প্রধানমন্ত্রীকে বলেছেন। বাংলার ১৫ হাজার ২০০ কোটি টাকা কেন্দ্র দিচ্ছে না। এর মধ্যে  ১০০দিনের কাজ ও বাংলার আবাস যোজনার জন্য বকেয়া টাকা রয়েছে। বাঁকুড়ায়  তিনজন ছোট্ট শিশু দেওয়াল ভেঙে চাপা পরে প্রাণ হারায়। আজ এদের পাকা বাড়ি থাকলে এই ঘটনা ঘটে না। কেন্দ্রের নরেন্দ্র মোদির সরকারের ইচ্ছে তাই এদের টাকা আটকে রেখেছে। মোদির ইচ্ছেতে এদের টাকা আটকে রাখা হয়েছে। ২০২১ সাল থেকে বাড়ি, রাস্তা,জল, ১০০ দিনের টাকা বন্ধ। যারা ভারতের স্বাধীনতার জন্য প্রাণ দিয়েছেন সেই গান্ধিজির নামে এই প্রকল্প। তাঁর প্রতি শ্রদ্ধা জানিয়ে আমরা লড়াই শুরু করতে চেয়েছিলাম। আজ একটায়  রাজঘাটে পৌঁছে শান্তিপূর্ণ অবস্থান প্রতিবাদ শুরু করি। প্রতি ১০ মিনিট অন্তর মহিলাদের ও আমাদের ওপর আক্রমণ, ধস্তাধস্তি করে। তাদের জানা উচিত গান্ধিজি করোও পৈতৃক সম্পত্তি নয়। তাঁর পথকে অবলম্বন করে , তাঁর সংগ্রামকে পাঠিয়েও করে সংগ্রামকে এগিয়ে নিতে এসেছি। আমাদের তুলে দেওয়ার চেষ্টা করে পুলিশ, সিআরপিএফ, সিআইএসএফ। ২ ঘণ্টা আমরা বাংলার টাকা ছাড়তে হবে বলে প্ল্যাকার্ড নিয়ে অবস্থান করেছি। কোনও রাজনীতি স্লোগান দিইনি। আগামীকাল যন্ত্র মন্তরে বড় কর্মসূচি হবে। এখানে যাঁরা দাঁড়িয়ে আছে তাদের মধ্যে তিনজন সন্তান হারা পিত রয়েছেন। নরেন্দ্র মোদির জেদের জন্য এরা  টাকা পায়নি। ১০০দিনের টাকা কাজ করার  ১৫ দিনের মধ্যে দিতে কেন্দ্র বাধ্য, এটা আইন। সেটা দেয়নি। গত  ২৪ মাসে, ১০ পয়সা ছাড়েনি কেন্দ্র। আমরা কেন্দ্রের সরকারকে চ্যালেঞ্জ ছুড়ে দিয়ে যাচ্ছি লড়াই হবে। আগামীদিন মানুষ প্রমাণ করবে বাংলার মানুষের ক্ষমতা কত। বাংলায় হেরেছে ২০২১-এর বিধানসভায়, সম্প্রতি ধূপগুড়ির উপনির্বাচনে পরাজিত হয়েছে, তাই এতো জেলা? বিজেপি নেতারা বলছে ১০০ দিনের বিষয়ে জনস্বার্থ মামলা করবে। করুন, দেখি কত ক্ষমতা। বিজেপি বলছে ৪ জেলায় দুর্নীতি হয়েছে। সিবিআই তদন্ত হবে। বলুন কে বা  কারা দুর্নীতি করেছে। তাদের গ্রেফতার করুন। ১ লক্ষ ১৫ হাজার কোটি বাংলার টাকা আটকে রেখেছে বিজেপি। বাংলার মানুষ বিজেপিকে ভোট দেয়নি বলে অত্যাচার করবে আর বাংলা সেটা মানবে সেটা হয় না। ১৯১১ সালে বাংলার রাজধানী দিল্লিতে তুলে নিয়ে আসা হয়েছিল। সেই থেকে অত্যাচার চলছে। এত গায়ে জ্বালা? ট্রেন বাতিল করল, সুকান্ত, একটা মূর্খ বলছে আবেদন না করলে ট্রেন দেবে কেন? এদিকে আমাদের টাকা জমা নিয়ে কেন ফেরত দেওয়ার তারিখ জানিয়ে মেল দিল। ওরা ভেবেছিল ট্রেন বাতিল করলে দিল্লিতে আসতে পারবে না, কিন্তু  বাংলা এসেছে। বিজেপি এসেছে বাংলার টাকা আটকাতে। ১০০ দিনের টাকার জন্য কাউকে গ্রেফতার করতে হলে গিরিরাজ সিংকে গ্রেফতার করতে হবে।”

এই সময় দিল্লি পুলিশ অভিষেককে বলেন, হয়ে গেছে বেরিয়ে যান। অভিষেক তখন পুলিশকে নম্রভাব বলেন গেট খুলুন। তার পরেই পুলিশ সবাইকে হটিয়ে দেয়। অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় গাড়িতে উঠে পড়েন সুদীপ বন্দ্যোপাধ্যায়ের সঙ্গে। পুলিশের খুব বেশি বল প্রয়োগ করতে হয়নি তৃণমূলকে রাজঘাট থেকে তুলে দিতে। বলা যায় অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় সহ তৃণমূলের সব নেতারাই নীরবে রাজঘাট ছাড়েন। পুলিশের ধাওয়া খেতে হয় তৃণমূল কর্মীদের আর প্রতিবাদ করতে দেখা যায় তৃণমূলের সাংসদ কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায়কে।

কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায় বলেন, “মোদি ভয় খেয়েছে। তাই আমাদের হটিয়ে দিচ্ছে। অভিষেককে সাংবাদিক বৈঠক শেষ করতে দেয়নি।” রাজ্যের আর এক মন্ত্রী সুজিত বসু বলেন, “আমাকে পুলিশের বুট দিয়ে পায়ে পাড়িয়ে দেওয়া হয়েছে। আমাকে এবং আমাদের আরও অনেককে জুতো পড়ার সময় দেওয়া হয়নি। তাই আমি খালিপায়ে বেরিয়ে এসেছি।” এই সময় দেখা যায় কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায়কে পুলিশ কর্ডন করে নিয়ে এসে তাঁর গাড়িতে উঠিয়ে দিচ্ছে। সেই একই সময় অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়কে দেখা যায় তৃণমূল সাংসদ সুদীপ বন্দ্যোপাধ্যায়ের সঙ্গে কালো গাড়িতে বসে রয়েছেন। এই সময় পুলিশের একাংশ লাঠি উঁচিয়ে তৃণমূলের কর্মীদের ধাওয়া করে রাজঘাট থেকে বার করে দিচ্ছে।


  • Tags:
❤ Support Us
error: Content is protected !!