- এই মুহূর্তে দে । শ
- আগস্ট ১৩, ২০২৫
পাক চর সন্দেহে গ্রেফতার জয়সলমের ডিআরডিও-র গেস্ট হাউসের ম্যানেজার
স্বাধীনতা দিবসের প্রাক্কালে দেশবিরোধী চক্রান্ত রুখে দিল রাজস্থানের গোয়েন্দা বিভাগ। অভিযোগ, ডিফেন্স রিসার্চ অ্যান্ড ডেভেলপমেন্ট অর্গানাইজেশন (ডিআরডিও)-র গেস্ট হাউসের ম্যানেজার ছদ্মবেশে কাজ করছিল পাকিস্তানের গুপ্তচর, এমনই অভিযোগে মঙ্গলবার সকালে তাকে গ্রেফতার করল রাজ্য সিআইডি (সিকিউরিটি) শাখার গোয়েন্দারা।
ধৃত ব্যক্তির নাম মহেন্দ্র প্রসাদ। পেশায় ম্যানেজার হলেও, তিনি আদতে একজন পাকিস্তানি চর। ভারতের গোপন প্রতিরক্ষা তথ্য, সেনা অফিসারদের গতিবিধি, ক্ষেপণাস্ত্র ও অস্ত্র পরীক্ষার বিস্তারিত রিপোর্ট নিয়মিত পাচার করতেন পাকিস্তানি গোয়েন্দা সংস্থা আইএসআই-এর কাছে, এমনটাই অভিযোগ। পুলিশ সূত্রে খবর, রাজস্থানের চন্দন ফায়ারিং রেঞ্জে ডিআরডিও-র গেস্ট হাউসে চুক্তিভিত্তিক কর্মী হিসাবে কাজ করছিলেন মহেন্দ্র। তিনি উত্তরাখণ্ডের আলমোড়া জেলার পালিয়ুন গ্রামের বাসিন্দা। কর্মসূত্রে জয়সলমেরের গেস্ট হাউসের দায়িত্বে থাকলেও, পেছনে চলছিল এক জটিল চরবৃত্তির জাল। রাজস্থান সিআইডি (সিকিউরিটি)-র আইজি ড. বিষ্ণুকান্ত জানিয়েছেন, স্বাধীনতা দিবস ঘিরে রাজ্যে তল্লাশি ও নজরদারি বাড়ানো হয়েছিল। সে সময়ই গোয়েন্দাদের নজরে আসে মহেন্দ্র। সমাজমাধ্যমে পাকিস্তানের গোয়েন্দা সংস্থার সঙ্গে তাঁর যোগাযোগের প্রমাণ মেলে। তারপরই শুরু হয় নজরদারি। অবশেষে মঙ্গলবার তাঁকে গ্রেফতার করা হয়েছে।
তদন্তে উঠে এসেছে, সোশ্যাল মিডিয়া ও অন্যান্য প্রযুক্তির মাধ্যমে পাকিস্তানি হ্যান্ডলারের সঙ্গে নিয়মিত যোগাযোগ রাখতেন মহেন্দ্র। শুধু যোগাযোগই নয়, সেনা ও ডিআরডিও কর্তাদের গোপন যাতায়াত, মিসাইল ও অস্ত্র পরীক্ষার তারিখ ও তথ্য, সবই পৌঁছে যেত সীমান্তের ওপারে। গোয়েন্দা সূত্রে খবর, ওই গেস্ট হাউসে মাঝেমধ্যেই থাকেন ডিআরডিও-র বিজ্ঞানী ও সেনা আধিকারিকেরা। সে সূত্রে সহজেই তথ্য সংগ্রহ করতেন তিনি। একাধিক হোয়াটসঅ্যাপ চ্যাট, সামাজিক মাধ্যমে লেনদেন, ছবি ও নথি আদানপ্রদানের সূত্র ধরে স্পষ্ট প্রমাণ মিলেছে। গ্রেফতারির পর, মহেন্দ্রকে যৌথভাবে জেরা শুরু করে রাজ্য ও কেন্দ্রীয় নিরাপত্তা সংস্থাগুলি। বাজেয়াপ্ত করা হয়েছে তাঁর মোবাইল ফোন। শুরু হয়েছে প্রযুক্তিগত বিশ্লেষণ। তিনি কী ধরনের তথ্য পাঠিয়েছেন, কাদের পাঠিয়েছেন, আর কেউ এই নেটওয়ার্কে যুক্ত কিনা, সবদিকই খতিয়ে দেখা হচ্ছে। গোটা ঘটনার পেছনে আরো বড়ো কোনো চক্র রয়েছে কি না, সেই দিকটিও খতিয়ে দেখছেন তদন্তকারীরা। গোয়েন্দারা বলছেন, ‘জাতীয় নিরাপত্তা নিয়ে কোনো রকম আপস করা হবে না। প্রতিটি তথ্য খতিয়ে দেখা হচ্ছে। আর কেউ জড়িত থাকলে, তাদেরও আইনের আওতায় আনা হবে।’
উল্লেখ্য, সাম্প্রতিক সময়ে পাক চরবৃত্তি সম্পর্কিত একাধিক তথ্য সামনে এসেছে। এপ্রিলের পহেলগাঁও হামলার পরে নতুন করে ভারত-পাক উত্তেজনা ছড়ায়। ওই ঘটনার পর গোটা দেশে নজরদারি জোরদার করে গোয়েন্দা সংস্থাগুলি। অভিযানে ধরা পড়ে একাধিক একাধিক সন্দেহভাজন। হরিয়ানার ইউটিউবার জ্যোতি মালহোত্রাও ধৃত হন পাক চরবৃত্তির অভিযোগে। তার পর একে একে সামনে আসে আরও নাম। এ বার সেই তালিকায় যুক্ত হল মহেন্দ্র প্রসাদের নাম। ডিআরডিও-র মতো সংবেদনশীল প্রতিষ্ঠানে কী ভাবে এমন একজন অনুপ্রবেশ করতে পারলেন, প্রশ্ন উঠছে প্রতিরক্ষা মহলে। তদন্তকারীদের প্রাথমিক অনুমান, মহেন্দ্র একা নন, তাঁর পিছনে রয়েছে আরো কেউ বা বৃহৎ চক্র। নিরাপত্তা সংস্থাগুলি জানিয়েছে, এমন ঘটনা দেশবিরোধী শক্তির সক্রিয়তা ফের এক বার প্রমাণ করল। এবং একই সঙ্গে উঠে এল, প্রতিরক্ষার গোপন স্তরে নজরদারির প্রয়োজনীয়তাও। বিশেষ করে স্বাধীনতা দিবসের প্রাক্কালে এ ধরনের ষড়যন্ত্র আরো বেশি মাত্রায় সতর্কবার্তা দিচ্ছে গোটা দেশকে।
❤ Support Us







