Advertisement
  • দে । শ স্মৃ | তি | প | ট
  • জুন ২০, ২০২৫

প্রয়াত প্রফুল্ল রায়

আরম্ভ ওয়েব ডেস্ক
প্রয়াত প্রফুল্ল রায়

মারা গেলেন বাংলা ভাষার জনপ্রিয় সাহিত্যিক প্রফুল্ল রায়। বৃহস্পতিবার বিকেলে কলকাতার এক বেসরকারি হাসপাতালে শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন তিনি। বয়স হয়েছিল ৯০ বছর। বাংলার মুখ্যমন্ত্রী মমতা ব্যানার্জি এই প্রবীন সাহিত্যিকের মৃত্যুতে গভীর শোকপ্রকাশ করেছেন।

দীর্ঘদিন ধরেই অসুস্থ ছিলেন প্রফুল্ল রায়। বিগত কয়েকমাস ধরে অসুস্থতা আরও বেড়ে গিয়েছিল। বয়সজনিত অন্যান্য রোগের পাশাপাশি শ্বাসকষ্টও বেড়ে গিয়েছিল। শারীরিক অবস্থার চরম অবনিত হওয়ায় কিছুদিন আগেই তাঁকে এক বেসরকারি হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। সেখনেই চিকিৎসা চলছিল। কিন্তু শেষ পর্যন্ত আর চিকিৎসায় সাড়া দিলেন না এই জনপ্রিয় সাহিত্যিক। বৃহস্পতিবার বেলা সোয়া তিনটে নাগাদ মারা যান।

১৯৩৪ সালের ১১ সেপ্টেম্বর অবিভক্ত বাংলার ঢাকায় জন্মগ্রহন করেন প্রফুল্ল রায়। শৈশবকাল ঢাকাতেই কেটেছে। দেশভাগের পর ১৯৫০ সালে চলে ভারতে চলে আসেন। তারপর থেকে কলকাতাতেই থাকতেন। বেশ কিছুদিন নাগাল্যান্ডেও কাটিয়েছেন। দেশভাগ থেকে স্বাধীনতাসংগ্রাম, সাক্ষী থেকেছেন অনেক ঘটনার। তাঁর সেই প্রত্যক্ষ অভিজ্ঞতা বিভিন্ন লেখায় বারবার ফুটে উঠেছে। দেশভাগ মেনে নিতে পারেননি প্রফুল্ল রায়। বিভিন্ন উপন্যাসে তাঁর সেই যন্ত্রণা তুলে ধরেছেন। উদ্বাস্তুদের কথা তাঁর লেখনীতে মূর্ত হয়ে উঠেছিল। নাগাল্যান্ডে থাকার সময় ১৯৫৬ সালে তাঁর প্রথম উপন্যাস ‘পূর্ব পার্বতী’ প্রকাশিত হয়।

বাংলা সাহিত্যে প্রফুল্ল রায়ের অবদান অনস্বীকার্য। ‘কেয়া পাতার নৌকো’, ‘মন্দ মেয়ের উপাখ্যান’, ‘নোনা জল মিঠে মাটি’, ‘‌আকাশের নীচে মানুষ’–এর মতো উপন্যাস তিনি পাঠকদের উপহার দিয়েছেন। তাঁর ‘কেয়া পাতার নৌকো’র কাহিনী অবলম্বনে বাংলা ধারাবাহিক নির্মিত হয়েছিল, যা বিশেষ জনপ্রিয়তা লাভ করে। এছাড়া তাঁর গল্প অবলম্বনে তৈরি ‘বাঘ বন্দী খেলা’ সিনেমা তৈরি হয়েছিল, যে সিনেমাতে অভিনয় করেছেন উত্তম কুমার। ‘আকাশের নেই মানুষ’ উপন্যাসের জন্য তিনি পেয়েছিলেন বঙ্কিম পুরস্কার। সাহিত্য অকাদেমি পুরস্কারও পেয়েছিলেন। দীর্ঘ সাহিত্যজীবনে অসংখ্য ছোটগল্প লিখেছেনও প্রফুল্ল রায়। গল্প এবং উপন্যাস মিলিয়ে তাঁর দেড়শোর বেশি সৃষ্টি ছড়িয়ে রয়েছে।

মুখ্যমন্ত্রী মমতা ব্যানার্জি প্রফুল্ল রায়ের মৃত্যুতে গভীর শোকপ্রকাশ করে এক্স–এ লিখেছেন, ‘‌বর্ষীয়ান কথাসাহিত্যিক প্রফুল্ল রায়ের মৃত্যুতে গভীর শোক জ্ঞাপন করছি। তাঁর নানা গ্রন্থে উদ্বাস্তু জীবনের যন্ত্রণা ফুটে উঠেছিল। ‘কেয়াপাতার নৌকো’ তাঁর কালজয়ী উপন্যাস। ২০১২ সালে রাজ্য সরকারের পক্ষ থেকে তাঁকে একটা বিশেষ পুরস্কার দেওয়া হয়েছিল। তাঁর পরিবারের প্রতি সমবেদনা রইল।’‌


  • Tags:
❤ Support Us
error: Content is protected !!