Advertisement
  • দে । শ
  • মার্চ ১৭, ২০২৩

ভুয়ো আমলা পরিচয়ে দীর্ঘ ৬ মাস বার বার কাশ্মীর সফর ! প্রশ্নের মুখে ভূস্বর্গের নিরাপত্তা

আরম্ভ ওয়েব ডেস্ক
ভুয়ো আমলা পরিচয়ে দীর্ঘ ৬ মাস বার বার কাশ্মীর সফর ! প্রশ্নের মুখে ভূস্বর্গের নিরাপত্তা

প্রতারণার দায়ে জম্মু-কাশ্মীর পুলিশের হাতে গ্রেফতার হয়েছিলেন কিরণ প্যাটেল নামক জনৈক এক ব্যক্তি । তাঁর বিরুদ্ধে অভিযোগ, প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের আধিকারিক পরিচয় দিয়ে উপত্যকায় ঘুরে বেরিয়েছেন। দীর্ঘ ১০ দিন প্রশাসন ব্যাপারটি ধামাচাপা দেওয়ার চেষ্টা করেছিল । কিন্তু গতকাল অভিযুক্তকে আদালতে তোলার সময় পুরো বিষয়টি সবার সামনে চলে আসে। যা নিরাপত্তা নিয়ে প্রশাসনের উদ্যোগকে  প্রশ্নের মুখে  দাঁড় করিয়ে দিয়েছে।

সংবাদ সংস্থা সূত্রে খবর, ২০২২ সালের অক্টোবর থেকে একাধিক বার ভূস্বর্গ সফর করেন কিরণ। যখনই যেতেন নিজেকে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের অ্যাসিস্ট্যাণ্ট ডিরেক্টর রূপে পরিচয় দিতেন। সব সময় সঙ্গে থাকত সশস্ত্র নিরাপত্তা রক্ষী। বুলেটপ্রুফ এসইউভি গাড়ি নিয়ে ঘুরতেন। সরকারি টাকায় পাঁচ তারা হোটেলে তিনি রাত্রি যাপন করতেন। হাব ভাব দেখে কেউই কখনও কোনো কিছু টের পাননি। গত মাসেও তিনি কাশ্মীরে এসেছিলেন। নিয়ন্ত্রণ রেখা (এলওসি) বরাবর শ্রীনগরের লাল চকে পৌঁছান । তার বেশ কিছু ভিডিও নিজের টুইটার অ্যাকাউন্টে আপলোড করেছিলেন । যাতে দেখা যাচ্ছে সশস্ত্র নিরাপত্তা বাহিনীর পোষাক পরিহিত কয়েক জন জওয়ানকে নিয়ে তিনি ঘুরে বেড়াচ্ছেন। তখনই গোয়েন্দা মারফত বিষয়টি জানাজানি হয়। পরে ৩ মার্চ  শ্রীনগরে এক হোটেল থেকে গ্রেফতার করা হয় কিরণকে। ভারতীয় দণ্ডবিধির ৪১৯, ৪২০, ৪৬৭ এবং ৪৭১ এর অধীনে একটি মামলা দায়ের করা হয়েছে।   অপরদিকে, জালিয়াতি বুঝতে না পারায় দুই পুলিশ আধিকারিকের বিরুদ্ধেও তদন্ত শুরু হয়েছে। পুলিশ সূত্রে খবর,  গুজরাট পুলিশের একটি দলও তদন্তে চালাচ্ছে ।

কিরণ ভাই প্যাটেলের টুইটার অ্যাকাউন্ট ‘ভেরিফাইড’। সেখানে হাজারের বেশি ফলোয়ার রয়েছেন। এমনকি গুজরাট বিজেপির সাধারণ সম্পাদক প্রদীপ সিং ভাগেলাও তাঁর অনুসরকারীর তালিকায় রয়েছেন। তাঁর টুইটার বায়ো সূত্রে জানা যাচ্ছে, তিনি ভার্জিনিয়ার কমনওয়েলথ ইউনিভার্সিটি থেকে পিএইচডি, আইআইএম (ত্রিচি) থেকে এমবিএ এবং কম্পিউটার সায়েন্সে এমটেক এবং বিই কম্পিউটার ইঞ্জিনিয়ারিং পাশ করেছেন । নিজেকে ‘চিন্তাবিদ, কৌশলবিদ, বিশ্লেষক এবং প্রচারাভিযান পরিচালক’ হিসাবে বর্ণনা করা প্যাটেলের সত্য মিথ্যা বোঝা বড়োই মুশকিল!

 জম্মু-কাশ্মীর  ভারতের নিরাপত্তা ও পররাষ্ট্র সম্পর্কের দিক থেকে অত্যন্ত সংবেদনশীল এলাকা। একদিকে লাল চিনের চোখ রাঙানি ও অন্য দিকে পাক মদতপুষ্ট জঙ্গিদের হানাদারি – দুয়ের মাঝে অবস্থান করছে ভূস্বর্গ। ৩৭০ ধারা প্রত্যাহারের সময় কেন্দ্রীয় সরকার যে সুনিশ্চি নিরাপত্তার প্রতিশ্রুতি দিয়েছিল, সেই আঁটোসাটো নিরাপত্তা ব্যবস্থাকে কার্যত বুড়ো আঙুল দেখিয়ে কীভাবে একজন দিনেরপর দিন প্রশাসনের চোখে ধুলো দিল, সেই নিয়ে প্রতিবাদে সরব হয়েছে বিরোধী শিবির এবং কাশ্মীরের সাধারণ মানুষ।কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্র মন্ত্রকের ভূমিকা নিয়েও উঠেছে প্রশ্ন। সম্প্রতি বিভিন্ন মহল থেকে সেনা সরাবার দাবি উঠেছিল । কারণ ঘোষিত লক্ষ্য নাকি পূর্ণ হয়েছে। কিন্তু প্রধানমন্ত্রী দফতরের  ভুয়ো আমলা ধরার পর  প্রশ্ন উঠছে যে কঠোর নিরাপত্তা বেষ্টনীর মধ্যে থাকার পরেও এমন ঘটনা কী করে সম্ভব ? এই গাফিলতিকে আড়াল করতেই গ্রেফতারের পর  দীর্ঘদিন ধরে  বিষয়টিকে  লুকিয়ে রাখা হয়েছিল ? যে নিরাপত্তা ও জঙ্গি দমনের  প্রশ্নে কাশ্মীর থেকে ৩৭০ ধারা অনুযায়ী  বিশেষ মর্যাদা প্রত্যাহার করা হল চার বছর পরও তাঁর বাস্তবায়নে কোথায় খামতি রয়ে গেল ? খামতি দূর করতে কি আরো কঠোর সেনা নিরাপত্তার পথে হাঁটবে কেন্দ্রীয় সরকার?


  • Tags:
❤ Support Us
error: Content is protected !!