Advertisement
  • এই মুহূর্তে দে । শ
  • মে ২১, ২০২৬

জমজমাট ফলতা পুনর্নির্বাচন, সকাল ১১টা পর্যন্ত ভোট ৪২.৮৩ শতাংশ। উধাও ‘পুষ্পা’, নিষ্ক্রিয় তৃণমূল শিবির

জমজমাট ফলতা পুনর্নির্বাচন, সকাল ১১টা পর্যন্ত ভোট ৪২.৮৩ শতাংশ। উধাও ‘পুষ্পা’, নিষ্ক্রিয় তৃণমূল শিবির

তীব্র দাবাদহের আবহাওয়াতে ফলতায় অন্যরকম ভোটের সকাল। বুথের সামনে লম্বা লাইনআকাশে ড্রোনের চক্করগ্রামে গ্রামে কেন্দ্রীয় বাহিনীর টহল। রাজনৈতিক ময়দান থেকে উধাও তৃণমূলের প্রার্থী। বৃহস্পতিবার সকাল থেকেই ফলতা বিধানসভা পুনর্নির্বাচন চলছে শান্তিপূর্ণভাবে। বেলা ১১টা পর্যন্ত নির্বাচন কমিশনের হিসেবে ভোট পড়েছে ৪২.৮৩ শতাংশ। গত ২৯ এপ্রিল দ্বিতীয় দফার নির্বাচনে একই সময়ে ভোট পড়েছিল প্রায় ৩৮ শতাংশ। ফলে শুরুতেই স্পষ্টপুনর্নির্বাচনে ভোটারদের অংশগ্রহণ বেড়েছে উল্লেখযোগ্য ভাবে।

ফলতার পুনর্নির্বাচনে বিতর্কের কেন্দ্রে রয়েছেন তৃণমূল প্রার্থী জাহাঙ্গির খান। যদিও ভোটের দিন তাঁকে কার্যত খুঁজেই পাওয়া গেল না। ভোটের মাত্র ৪৮ ঘণ্টা আগে তিনি ঘোষণা করেছিলেনএ নির্বাচনে তিনি আর প্রতিদ্বন্দ্বিতা করবেন না। কিন্তু ততক্ষণে মনোনয়ন প্রত্যাহারের সময় পেরিয়ে গিয়েছে। ফলে ইভিএমে তাঁর নাম ও তৃণমূলের প্রতীক থেকেই গিয়েছে। কিন্তু বৃহস্পতিবার সকালে তাঁর বাড়ি এবং দলীয় কার্যালয়ে গিয়ে দেখা যায় তালাবন্ধ দরজা। স্থানীয়দের বহু ডাকাডাকিতেও ভিতর থেকে কেউ সাড়া দেননি। এলাকায় পরিচিত নাম, পুষ্পার অনুপস্থিতি নিয়েই সকাল থেকে চর্চা তুঙ্গে।

ফলতার বহু বাসিন্দার অভিযোগঅতীতের একাধিক নির্বাচনে তাঁরা নির্বিঘ্নে ভোট দিতে পারেননি। অভিযোগের আঙুল উঠছে জাহাঙ্গির খান আর তাঁর অনুগামীদের দিকে। স্থানীয়দের একাংশের দাবিবুথ পর্যন্ত গিয়েও ভোট না দিয়ে ফিরতে হয়েছে তাঁদের। কারও কারও অভিযোগহাতে কালি লাগিয়ে বুথ থেকে বের করে দেওয়া হতো। তবে এ দিনের ভোটে সে আতঙ্কের আবহ অনেকটাই অনুপস্থিত বলেই দাবি ভোটারদের একাংশের। সকাল থেকেই বুথের বাইরে চোখে পড়ে কড়া নিরাপত্তা। ফলতার ২৮৫টি বুথেই মোতায়েন করা হয়েছে বিপুল কেন্দ্রীয় বাহিনী। নির্বাচন কমিশন সূত্রের খবরপ্রতিটি বুথে এ বার জন করে কেন্দ্রীয় সশস্ত্র বাহিনীর জওয়ান রাখা হয়েছে। গত ২৯ এপ্রিলের ভোটে যেখানে বুথপিছু চারজন জওয়ান ছিলেনসেখানে এ বার নিরাপত্তা প্রায় দ্বিগুণ। গোটা বিধানসভা এলাকা জুড়ে টহল দেয় বুলেটপ্রুফ গাড়ি। আকাশপথে নজরদারির জন্য ব্যবহার করা হয় ড্রোনও।

শুধু বাহিনী মোতায়েনেই থেমে থাকেনি কমিশন। প্রতিটি বুথে রাখা হয়েছে ওয়েব কাস্টিংয়ের ব্যবস্থা। বুথের ভিতরে টি এবং বাইরে একটি করে ক্যামেরা বসানো হয়েছে। জেলা নির্বাচনী আধিকারিক এবং মুখ্য নির্বাচনী আধিকারিকের দফতর থেকে চলছে সরাসরি নজরদারি। পাশাপাশিযে কোনো অশান্তি বা গোলমালের মোকাবিলায় প্রস্তুত রাখা হয়েছে ৩০টি কুইক রেসপন্স টিম। ফলতার শ্রীরামপুর-সহ একাধিক এলাকায় সকাল থেকেই বাড়ি বাড়ি গিয়ে ভোটারদের সঙ্গে কথা বলতে দেখা যায় পুলিশ ও কেন্দ্রীয় বাহিনীকে। ভোটারদের অনেকেই জানিয়েছেনএ বার তাঁরা অনেক বেশি নিশ্চিন্ত’ পরিবেশে ভোট দিতে পারছেন। সে কারণেই বুথমুখী মানুষের সংখ্যাও বেশি বলে মনে করছেন প্রশাসনের একাংশ। ১৫৬ নম্বর বুথে গিয়ে ভোট দেন কংগ্রেস প্রার্থী আব্দুর রেজ্জাক মোল্লা। অন্য দিকেবিজেপি প্রার্থী দেবাংশু পান্ডার শিবিরে সকাল থেকেই ছিল আত্মবিশ্বাসী সুর। রাজনৈতিক মহলের একাংশের মতেতৃণমূল প্রার্থী কার্যত নির্বাচন থেকে নিজেকে সরিয়ে নেওয়ায় বিজেপি এ বারের ভোটে বাড়তি সুবিধা পেতেই পারে। যদিও তৃণমূল নেতৃত্বের বক্তব্যজাহাঙ্গিরের সিদ্ধান্ত সম্পূর্ণ ব্যক্তিগতদলের অবস্থান নয়।

উল্লেখ্যগত ২৯ এপ্রিল দ্বিতীয় দফার ভোটে ব্যাপক ইভিএম কারচুপির অভিযোগ ওঠার পরই নির্বাচন কমিশন ফলতার সবকটি বুথে পুনর্নির্বাচনের নির্দেশ দেয়। অভিযোগ ছিলএকাধিক বুথে ইভিএমে সুগন্ধি এবং আঠালো টেপ লাগানো হয়েছিল। তৎকালীন বিশেষ পর্যবেক্ষক সুব্রত গুপ্ত এলাকায় গিয়ে তদন্ত করেন। কমিশন সূত্রে পরে দাবি করা হয়অন্তত ৬০টি বুথে কারচুপির প্রমাণ মিলেছে। এমনকি ওয়েব ক্যামেরার ফুটেজ বিকৃত করার চেষ্টার অভিযোগও উঠে আসে। সে ঘটনার পর বুথস্তরের আধিকারিকপ্রিসাইডিং অফিসার এবং ভোটকর্মীদের ভূমিকা নিয়েও প্রশ্ন ওঠে। ফলতা বরাবরই তৃণমূলের শক্ত ঘাঁটি হিসেবে পরিচিত। ২০০৬ সালে এক বার সিপিএম এ আসন জিতেছিল। তার বাইরে ২০০১ সাল থেকে এ কেন্দ্র তৃণমূলের দখলেই ছিল। 


  • Tags:
❤ Support Us
error: Content is protected !!