- এই মুহূর্তে দে । শ
- মে ১৮, ২০২৬
গ্রেফতারির আশঙ্কা, পুনর্নিবাচনের আগে রক্ষাকবজ পেতে হাই কোর্টে ফলতার তৃণমূল প্রার্থী জাহাঙ্গির খান
২১ মে ফলতা বিধানসভা কেন্দ্রে পুনর্নির্বাচনের আগে গ্রেফতারের আশঙ্কা প্রকাশ করে কলকাতা হাই কোর্টের দ্বারস্থ হলেন তৃণমূল কংগ্রেস প্রার্থী জাহাঙ্গির খান। সোমবার বিচারপতি সৌগত ভট্টাচার্য তাঁর আবেদন গ্রহণ করে মামলার অনুমতি দেন। একই দিন দুপুর ২টোর সময় শুনানির নির্দেশও দেওয়া হয়েছে।
হাই কোর্টে দায়ের করা আবেদনে জাহাঙ্গির খানের অভিযোগ, তাঁর বিরুদ্ধে একাধিক ‘মিথ্যা মামলা’ ও এফআইআর দায়ের করা হয়েছে। আদালতের কাছে তাঁর আবেদন, রাজ্য সরকার জানাক তাঁর বিরুদ্ধে মোট কতগুলি মামলা ও এফআইআর রয়েছে। পাশাপাশি তাঁর আশঙ্কা, পুনর্নির্বাচনের আগেই তাঁকে গ্রেফতার করা হতে পারে। এ ঘটনাকে ঘিরে রাজনৈতিক মহলে জোর চর্চা শুরু হয়েছে। প্রসঙ্গত, গত শনিবার ফলতায় সভা করতে গিয়ে বিরোধী দলনেতা শুভেন্দু অধিকারী তৃণমূল প্রার্থী জাহাঙ্গির খানকে কড়া ভাষায় আক্রমণ করেন। তিনি বলেন, ‘ভোট শেষ হোক, ওর ব্যবস্থা করব। সেই দায়িত্ব আমার।’
অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের ঘনিষ্ঠ হিসেবে পরিচিত জাহাঙ্গির খান গত কয়েক বছরে দক্ষিণ ২৪ পরগনার রাজনীতিতে গুরুত্বপূর্ণ মুখ হয়ে উঠেছেন। বিধানসভা নির্বাচনের সময় ডায়মন্ড হারবার পুলিশ জেলার পর্যবেক্ষক আইপিএস অফিসার অজয়পাল শর্মার সঙ্গে তাঁর রাজনৈতিক টানাপোড়েন বিশেষভাবে নজর কাড়ে। উত্তরপ্রদেশের ‘এনকাউন্টার স্পেশ্যালিস্ট’ হিসেবে পরিচিত অজয়পাল শর্মাকে অনেকেই ‘সিংহম’-এর সঙ্গে তুলনা করেন। সেই প্রেক্ষিতেই জাহাঙ্গিরের মন্তব্য ছিল, ‘উনি সিংহম হলেও আমিও পুষ্পা… ঝুঁকেগা নহি।’
ভোটগ্রহণ পর্ব শেষ হওয়ার পর বিরোধীদের পক্ষ থেকে অভিযোগ ওঠে, ফলতা বিধানসভার একাধিক বুথে সুষ্ঠুভাবে ভোট হয়নি। পরিস্থিতি পর্যালোচনা করে নির্বাচন কমিশন পুনর্নির্বাচনের সিদ্ধান্ত নেয়। বিজেপির অভিযোগ, বিরোধী দলে থাকাকালীন সময় থেকেই ফলতা ও ডায়মন্ড হারবার অঞ্চলে জাহাঙ্গির খানের নেতৃত্বে সন্ত্রাস, মারামারি, তোলাবাজি এবং বুথ দখলের মতো ঘটনা ঘটেছে। এমনকি বিরোধী রাজনৈতিক কর্মী থেকে সাধারণ মানুষ পর্যন্ত অনেকেই তাঁর দাপটে এলাকা ছাড়তে বাধ্য হয়েছেন বলেও দাবি করা হয়।
তবে জাহাঙ্গির খান সমস্ত অভিযোগই অস্বীকার করেছেন। তাঁর দাবি, তৃণমূল সরকারের আমলে ফলতা এলাকায় যে উন্নয়নমূলক কাজ হয়েছে, তার জবাব মানুষ ভোটের মাধ্যমে দেবে। পুনর্নির্বাচনের আগে তিনি যে আইনি লড়াইয়ের পথ বেছে নিয়েছেন, তা ঘিরে ফলতার রাজনৈতিক পরিস্থিতি আরও উত্তপ্ত হয়ে উঠেছে।
❤ Support Us







