Advertisement
  • এই মুহূর্তে দে । শ
  • মে ১৮, ২০২৬

‘কোনো অপরাধ করিনি’ : আচমকা ইডি দফতরে হাজির হয়ে দাবি ‘সোনা পাপ্পু’-র

আরম্ভ ওয়েব ডেস্ক
‘কোনো অপরাধ করিনি’ : আচমকা ইডি দফতরে হাজির হয়ে দাবি ‘সোনা পাপ্পু’-র

দীর্ঘদিন ধরেই খোঁজ চলছিল দক্ষিণ কলকাতার পরিচিত মুখ বিশ্বজিৎ পোদ্দার ওরফে ‘সোনা পাপ্পু’-র। অবশেষে সোমবার আচমকাই সল্টলেকের এনফোর্সমেন্ট ডিরেক্টরেট (ইডি)-র দফতরে হাজিরা দিলেন তিনি। গত ফেব্রুয়ারি মাসে রবীন্দ্র সরোবর কাণ্ডে নাম জড়ানোর পর থেকেই কার্যত আড়ালে চলে গিয়েছিলেন পাপ্পু। মাঝেমধ্যে সমাজমাধ্যমে লাইভে এলেও তাঁর সঠিক অবস্থান জানতে পারেননি তদন্তকারীরা। এমনকি তাঁর বাড়িতেও তল্লাশি চালিয়েছিল ইডি।

সোমবার ইডি দফতরে ঢোকার সময় সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়ে পাপ্পু বলেন, “আমি কোনও দোষ করিনি।” তাঁকে প্রশ্ন করা হয়েছিল, গ্রেফতারের আশঙ্কা করছেন কি না। উত্তরে তিনি স্পষ্ট জানান, তাঁর বিরুদ্ধে ওঠা অভিযোগ ভিত্তিহীন। তোলাবাজির অভিযোগ প্রসঙ্গে তিনি দাবি করেন, “জীবনে কোনও দিন তোলাবাজি করিনি। আমার সোনার দোকান রয়েছে। আজ পর্যন্ত কোনও থানায় আমার বিরুদ্ধে তোলাবাজির অভিযোগ হয়নি।”

রবীন্দ্র সরোবরে গন্ডগোলের ঘটনার পর থেকেই তদন্তের কেন্দ্রবিন্দুতে উঠে আসে সোনা পাপ্পুর নাম। গত এপ্রিলে তাঁর বাড়িতে তল্লাশি চালায় ইডি। একই সময়ে বেহালার ব্যবসায়ী জয় কামদারের বাড়িতেও অভিযান চালানো হয়। তদন্তকারীরা সেখান থেকে নগদ টাকা, একটি বিলাসবহুল গাড়ি এবং একাধিক সম্পত্তির নথি বাজেয়াপ্ত করেন। ইডি সূত্রে জানা যায়, পাপ্পুর বাড়ি থেকে একটি বিদেশি পিস্তলও উদ্ধার করা হয়েছিল। অভিযোগ, ওই আগ্নেয়াস্ত্রটি জয় কামদারের মাধ্যমেই কেনা হয়েছিল। পরে অস্ত্রটি গড়িয়াহাট থানায় জমা দেওয়া হয়।

তদন্তকারী সংস্থার দাবি, সোনা পাপ্পুর বিরুদ্ধে একাধিক এফআইআর রয়েছে। তোলাবাজি, ভয় দেখানো, জমি দখল এবং অস্ত্র আইনে তাঁর বিরুদ্ধে মামলা রয়েছে বলে জানা গিয়েছে। ইডি সূত্রে আরও খবর, কসবা ও বালিগঞ্জ এলাকার বিভিন্ন সিন্ডিকেটও তিনি নিয়ন্ত্রণ করতেন বলে অভিযোগ। এই মামলায় ইতিমধ্যেই গ্রেফতার হয়েছেন ব্যবসায়ী জয় কামদার। পাশাপাশি, তদন্তের সূত্র ধরে গত মাসে কলকাতা পুলিশের কর্তা শান্তনু সিংহ বিশ্বাসের বাড়িতেও হানা দেয় ইডি। পরে তাঁকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য ডেকে গ্রেফতার করা হয়। দীর্ঘ সময় ধরে পাপ্পুর খোঁজ না মেলায় তদন্তকারীদের সন্দেহ ছিল, তিনি ভিন্‌রাজ্যে আত্মগোপন করে রয়েছেন। তদন্তে উঠে আসে, হাওয়ালার মাধ্যমে তাঁর কাছে টাকা পৌঁছতে পারে বলেও অনুমান করা হচ্ছিল।

পালিয়ে থাকার সময়েও মাঝেমধ্যেই ফেসবুকে লাইভে এসে বিস্ফোরক মন্তব্য করেছেন সোনা পাপ্পু। গত এপ্রিলে একটি লাইভ ভিডিওতে তিনি বিজেপি নেতা তথা কলকাতা বন্দর কেন্দ্রের বিজেপি প্রার্থী রাকেশ সিংহের বিরুদ্ধে সরব হন। একটি গাড়ির ভিতরে বসে তিনি দাবি করেছিলেন, “দুষ্কৃতী রাকেশ সিংহ, তোলাবাজ রাকেশ সিংহ, একাধিক মামলার আসামি রাকেশ সিংহকে বন্দর এলাকায় বিজেপির প্রার্থী করা হয়েছে।” যদিও সেই সময় পর্যন্ত আনুষ্ঠানিকভাবে প্রার্থীপদ ঘোষণা করেনি বিজেপি।
দীর্ঘ জল্পনার পর অবশেষে ইডি দফতরে সোনা পাপ্পুর উপস্থিতি ঘিরে নতুন করে চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে রাজনৈতিক ও প্রশাসনিক মহলে।


  • Tags:
❤ Support Us
error: Content is protected !!