- এই মুহূর্তে দে । শ
- এপ্রিল ১, ২০২৬
থমকে গেল “সংখ্যালঘু বিরোধী” বিদেশি অনুদান সংশোধনী বিল ২০২৬, বিরোধীদের তীব্র আপত্তিতে উত্তপ্ত লোকসভা
বিরোধীদের প্রবল আপত্তির জেরে নির্ধারিত দিনেও লোকসভায় পেশ করা গেল না কেন্দ্রীয় সরকারের প্রস্তাবিত ফরেন কন্ট্রিবিউশন রেগুলেশন (FCRA) সংশোধনী বিল ২০২৬। বুধবার বিলটি পেশ হওয়ার কথা থাকলেও, বিরোধী দলগুলির তীব্র প্রতিবাদে শেষ পর্যন্ত তা স্থগিত রাখা হয়। বিষয়টি ঘিরে এদিন লোকসভায় দফায় দফায় উত্তপ্ত পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়। বিরোধীদের বক্তব্য এই বিলটি “সংখ্যালঘু বিরোধী” একটি বিল।
গত কয়েক সপ্তাহ ধরেই এই সংশোধনী বিল নিয়ে রাজনৈতিক মহলে জোরালো বিতর্ক চলছে। বিলের খসড়া প্রকাশ্যে আসার পর থেকেই এর একাধিক ধারার বিরোধিতা করছে বিরোধী শিবির। তাদের অভিযোগ, এই আইন সংখ্যালঘু বিরোধী এবং এর মাধ্যমে বহু স্বেচ্ছাসেবী সংস্থাকে নিয়ন্ত্রণে আনার চেষ্টা করা হচ্ছে।
প্রস্তাবিত সংশোধনী অনুযায়ী, কোনও সংস্থা বিদেশি অনুদান পাওয়া বন্ধ করে দিলে, সেই অনুদান থেকে গড়ে ওঠা সম্পত্তি আর তারা ব্যবহার করতে পারবে না। ওই সম্পত্তি নির্দিষ্ট একটি সংস্থার মাধ্যমে কেন্দ্রের নিয়ন্ত্রণে চলে যাবে। এছাড়াও, কেন্দ্র সরকার চাইলে বিদেশি অনুদান ব্যবহারের জন্য নির্দিষ্ট সময়সীমা বেঁধে দিতে পারবে।
বিলে আরও বলা হয়েছে, যদি কোনও সংস্থা বিদেশি অনুদান গ্রহণের লাইসেন্স নবীকরণের জন্য আবেদন না করে বা সরকার সেই আবেদন খারিজ করে, তাহলে সংশ্লিষ্ট সংস্থার সম্পত্তি বাজেয়াপ্ত করা হতে পারে। এমনকি লাইসেন্স বাতিল হলে অতীতে পাওয়া সমস্ত বিদেশি অনুদানও সরকারের খাতায় চলে যাবে।
উল্লেখ্য, স্বেচ্ছাসেবী সংস্থাগুলি বিদেশি অনুদান পেতে ফরেন কন্ট্রিবিউশন রেগুলেশন অ্যাক্ট, ২০১০-এর আওতায় নিবন্ধন করে এবং প্রতি বছর সেই লাইসেন্সের নবীকরণ করতে হয়। কেন্দ্রীয় সরকারের অনুমতি ছাড়া কোনও সংস্থা বিদেশি অনুদান গ্রহণ করতে পারে না। প্রতি বছরই কিছু সংস্থার লাইসেন্স বাতিল হওয়ার ঘটনাও ঘটে।
কংগ্রেস ও সিপিএমসহ বিরোধী দলগুলির দাবি, এই সংশোধনী মূলত সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের স্বেচ্ছাসেবী সংস্থাগুলিকে টার্গেট করছে, কারণ বহু খ্রিস্টান ও মুসলিম সংগঠন বিদেশি অনুদানের উপর নির্ভরশীল। তাদের মতে, এই আইনের মাধ্যমে সেই অনুদান বন্ধ করে সংস্থাগুলিকে নিয়ন্ত্রণে আনার চেষ্টা করা হচ্ছে।
অন্যদিকে, কেন্দ্রীয় সরকারের দাবি, বিরোধীরা এই বিল নিয়ে ভুয়ো তথ্য ছড়াচ্ছে। সরকারের বক্তব্য, কিছু বিদেশি অনুদান মাওবাদী প্রভাবিত এলাকায় পৌঁছচ্ছে, যা রাষ্ট্রবিরোধী কার্যকলাপে ব্যবহৃত হচ্ছে। পাশাপাশি, ধর্মান্তকরণের কাজেও এই অর্থ ব্যবহারের অভিযোগ তুলেছে কেন্দ্র।
সব মিলিয়ে, প্রবল রাজনৈতিক চাপানউতোরের মধ্যে আপাতত স্থগিত রইল বিদেশি অনুদান সংশোধনী বিল ২০২৬।
❤ Support Us







