Advertisement
  • এই মুহূর্তে দে । শ
  • মে ১১, ২০২৬

৩১ আসনে জয়ের ব্যবধানের চেয়ে বেশি ‘বিবেচনাধীন’ ভোটার ! এসআইআর মামলায় আদালতে তৃণমূলের বিস্ফোরক দাবি, কী মত সুপ্রিম কোর্টের ?

আরম্ভ ওয়েব ডেস্ক
৩১ আসনে জয়ের ব্যবধানের চেয়ে বেশি ‘বিবেচনাধীন’ ভোটার ! এসআইআর মামলায় আদালতে তৃণমূলের বিস্ফোরক দাবি, কী মত সুপ্রিম কোর্টের ?

পশ্চিমবঙ্গ বিধানসভা নির্বাচনে ভোটার তালিকার বিশেষ নিবিড় সংশোধন বা এসআইআর (SIR) প্রক্রিয়া নিয়ে ফের সরব হল তৃণমূল কংগ্রেস। সোমবার সুপ্রিম কোর্টে মামলার শুনানিতে দলের পক্ষ থেকে দাবি করা হয়, রাজ্যের অন্তত ৩১টি বিধানসভা আসনে জয়ের ব্যবধানের তুলনায় ‘বিবেচনাধীন’ বা নাম বাদ পড়া ভোটারের সংখ্যা অনেক বেশি ছিল। তৃণমূলের অভিযোগ, এই পরিস্থিতি নির্বাচনের ফলাফলে সরাসরি প্রভাব ফেলেছে।

ভোটের ফল ঘোষণার পর সোমবারই ছিল এসআইআর সংক্রান্ত মামলার প্রথম শুনানি। আদালতে তৃণমূলের আইনজীবী কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায় জানান, এসআইআর প্রক্রিয়ার সময় বহু বৈধ ভোটারের নাম ভোটার তালিকা থেকে বাদ দেওয়া হয়েছে বা আবেদন বিচারাধীন অবস্থায় রয়ে গিয়েছে। তাঁর বক্তব্য, “আমি ৩১ আসনের উদাহরণ দিতে পারি, যেখানে নাম বাদের তুলনায় জয়ের ব্যবধান অত্যন্ত কম। তৃণমূলের এক প্রার্থী মাত্র ৮৬২ ভোটে পরাজিত হয়েছেন, অথচ সেখানে পাঁচ হাজারেরও বেশি ভোটারের আবেদন এখনও বিচারাধীন।”

তৃণমূলের দাবি, এ বারের নির্বাচনে বহু আসনে জয়-পরাজয়ের ব্যবধানের তুলনায় বিবেচনাধীন ভোটারের সংখ্যা বেশি ছিল। দলের বক্তব্য, এসআইআর প্রক্রিয়ায় ২৭ লক্ষেরও বেশি ভোটারের নাম ‘বিবেচনাধীন’ তালিকায় চলে গিয়েছিল এবং সেই অবস্থাতেই নির্বাচন সম্পন্ন হয়েছে। ফলে নির্বাচনের স্বচ্ছতা ও ফলাফল নিয়ে প্রশ্ন উঠছে বলে দাবি তাদের।

এদিকে, এসআইআরের বিচারাধীন তালিকায় থাকা ভোটারেরা ট্রাইবুনালে আবেদন করতে পারেন। সেই ট্রাইবুনাল নথি যাচাই করে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেবে। কলকাতা হাই কোর্টের প্রধান বিচারপতি সুজয় পাল প্রাক্তন বিচারপতিদের নিয়ে ওই ট্রাইবুনাল গঠন করেছেন। তবে শুনানিতে কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায় জানান, ট্রাইবুনালের কয়েক জন প্রাক্তন বিচারপতি ইতিমধ্যেই সরে দাঁড়িয়েছেন।

এই প্রসঙ্গে সুপ্রিম কোর্টের প্রধান বিচারপতি সূর্য কান্ত বলেন, “ওই বিষয়ে আমরা কী করতে পারি ? কাউকে তো বাধ্য করতে পারি না যে তিনি কাজ করবেন।”

তৃণমূলের আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে বিচারপতি জয়মাল্য বাগচী জানান, যদি এসআইআরের কারণে নির্বাচনের ফলাফলে বাস্তবিক প্রভাব পড়েছে— এমন অভিযোগ তুলতে হয়, তবে অতিরিক্ত আবেদন করে পৃথক মামলা দায়ের করতে হবে। প্রধান বিচারপতি সূর্য কান্তও বলেন, “এর মধ্যে আমরা কিছু তথ্য সংগ্রহ করব।”

তৃণমূলের আর এক আইনজীবী মেনকা গুরুস্বামী আদালতে বলেন, “এমন ধারণা তৈরি হয়েছে যে এই মামলাগুলির নিষ্পত্তি হতে চার বছরেরও বেশি সময় লেগে যেতে পারে।” যদিও এ বিষয়ে সুপ্রিম কোর্ট কোনও মন্তব্য করেনি।

বিচারপতি জয়মাল্য বাগচী জানান, এখনও বহু আবেদন বিচারাধীন রয়েছে। সেই কারণে কলকাতা হাই কোর্টের প্রধান বিচারপতির  রিপোর্টের অপেক্ষায় রয়েছে সুপ্রিম কোর্ট। কত সময়ের মধ্যে এই মামলাগুলির নিষ্পত্তি সম্ভব, সেই রিপোর্ট পাওয়ার পরই পরবর্তী নির্দেশ দেওয়া হবে বলে আদালত জানায়।

অন্যদিকে, নির্বাচন কমিশনের পক্ষের আইনজীবী আদালতে বলেন, “ভোট প্রক্রিয়া শেষ হয়ে গিয়েছে। এখন একমাত্র পথ হল নির্বাচন পিটিশন দায়ের করা।” কমিশনের তরফে আরও জানানো হয়, এসআইআর নিয়ে কোনও নির্দিষ্ট অভিযোগ থাকলে তা আদালতের সামনে আনতে হবে।

এর জবাবে কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায় বলেন, নির্বাচন পিটিশন দায়ের করতে তৃণমূলের কোনও আপত্তি নেই। তবে সেই মামলার শুনানিতে এসআইআর প্রক্রিয়াকে গুরুত্ব দিয়ে বিবেচনা করার আর্জিও জানান তিনি। যদিও এ বিষয়ে আপাতত কোনও নির্দেশ দেয়নি সুপ্রিম কোর্ট।


  • Tags:
❤ Support Us
error: Content is protected !!