Advertisement
  • এই মুহূর্তে দে । শ
  • মে ১১, ২০২৬

তামিলনাড়ুর ক্ষমতায় এসেই নির্বাচনী প্রতিশ্রুতি পূরণের পথে বিজয়, প্রথম দিনেই বিনামূল্যে বিদ্যুৎ-নারী সুরক্ষা-মাদক দমনের তিন ফাইলে স্বাক্ষর

আরম্ভ ওয়েব ডেস্ক
তামিলনাড়ুর ক্ষমতায় এসেই নির্বাচনী প্রতিশ্রুতি পূরণের পথে বিজয়, প্রথম দিনেই বিনামূল্যে বিদ্যুৎ-নারী সুরক্ষা-মাদক দমনের তিন ফাইলে স্বাক্ষর

শপথের কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই স্পষ্ট রাজনৈতিক বার্তা। নির্বাচনী প্রতিশ্রুতিকে প্রশাসনিক সিদ্ধান্তে রূপ দিতে রবিবারই একের পর এক ফাইলে সই করলেন তামিলনাড়ুর নবনিযুক্ত মুখ্যমন্ত্রী সি. জোসেফ বিজয়। শপথগ্রহণের দিনেই তাঁর সরকারের প্রথম তিনটি পদক্ষেপ— গৃহস্থালি গ্রাহকদের জন্য ২০০ ইউনিট বিনামূল্যে বিদ্যুৎরাজ্য জুড়ে ৬৫টি মাদকবিরোধী টাস্ক ফোর্স ইউনিট গঠন এবং মহিলাদের নিরাপত্তার জন্য বিশেষ বাহিনী তৈরি। রাজনৈতিক মহলের একাংশের মতেদায়িত্ব গ্রহণের প্রথম দিনেই জনকল্যাণআইনশৃঙ্খলা ও সামাজিক সুরক্ষাকে সামনে রেখে নিজের সরকারের অগ্রাধিকারের স্পষ্ট রূপরেখা তুলে দিলেন বিজয়।

রবিবার, চেন্নাইয়ের জহরলাল নেহেরু স্টেডিয়াম-এ আড়ম্বরপূর্ণ শপথগ্রহণ অনুষ্ঠান শেষ হওয়ার পর সমর্থক-অনুরাগীদের উপস্থিতিতেই প্রথম তিনটি ফাইলে সই করেন তিনি। সরকার সূত্রের খবরগৃহস্থালি গ্রাহকদের ক্ষেত্রে দুই মাসের বিলিং চক্রে ৫০০ ইউনিট পর্যন্ত বিদ্যুৎ খরচ হলে ২০০ ইউনিট পর্যন্ত বিনামূল্যে বিদ্যুৎ মিলবে। নির্বাচনী প্রচারে সাধারণ মানুষের উপর মূল্যবৃদ্ধির চাপ কমানোর যে প্রতিশ্রুতি দেওয়া হয়েছিলএ ঘোষণাকে তারই প্রথম বাস্তব রূপ বলেই দেখা হচ্ছে।

দ্বিতীয় সিদ্ধান্তটি মহিলাদের নিরাপত্তা ঘিরে। রাজ্য জুড়ে সিঙ্গা পেন সিরাপ্পু অথিরাডি পদাই’ নামে একটি বিশেষ মহিলা সুরক্ষা বাহিনী গঠনের ঘোষণা করেছেন মুখ্যমন্ত্রী। প্রশাসনের দাবিমহিলাদের বিরুদ্ধে অপরাধ বা নিরাপত্তা-সংক্রান্ত অভিযোগে দ্রুত হস্তক্ষেপ ও তাৎক্ষণিক ব্যবস্থা নেওয়াই হবে এ বাহিনীর মূল দায়িত্ব। নির্বাচনের আগে নারী-নিরাপত্তাকে অন্যতম রাজনৈতিক ইস্যু করেছিলেন বিজয়। ফলে শপথের দিনেই সে প্রতিশ্রুতিকে কার্যকর করার পদক্ষেপ রাজনৈতিক দিক থেকেও তাৎপর্যপূর্ণ।

মাদকের বিরুদ্ধে অভিযানে কড়া অবস্থানও স্পষ্ট করেছে নতুন সরকার। তৃতীয় ফাইলে সই করে রাজ্যের ৩৭টি জেলা ও ৯টি শহর জুড়ে ৬৫টি অ্যান্টি-নারকোটিক টাস্ক ফোর্স ইউনিট গঠনের নির্দেশ দিয়েছেন বিজয়। প্রশাসনিক সূত্রে খবরঅবৈধ মাদক কারবার রুখতে বিশেষ নজরদারিসমন্বিত পুলিশি অভিযান এবং দ্রুত তদন্তের জন্যই ইউনিটগুলি কাজ করবে। নির্বাচনী প্রচারে ড্রাগ-ফ্রি তামিলনাড়ু’-র প্রতিশ্রুতি দিয়েছিল তাঁর দল। প্রথম দিনের প্রশাসনিক তৎপরতা এখানেই থেমে থাকেনি। মুখ্যমন্ত্রী দফতরে আরও কয়েকটি ফাইলে সই করেন বিজয়। নতুন মন্ত্রী ও শীর্ষ আমলারা তাঁর সঙ্গে সাক্ষাৎ করে শুভেচ্ছা জানান। শপথের কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই অভিজ্ঞ আইএএস আধিকারিক পি. সেথিল কুমারকে মুখ্যমন্ত্রীর সচিব-১ এবং জি. লক্ষ্মী প্রিয়াকে সচিব-২ হিসেবে নিয়োগ করা হয়েছে।

তবে প্রথম দিনের উচ্ছ্বাসের মধ্যেই আর্থিক বাস্তবতার প্রসঙ্গ তুলেছেন বিজয়। শপথের পরে দেওয়া ভাষণে তাঁর দাবি১০ লক্ষ কোটি টাকারও বেশি ঋণের বোঝা নিয়ে দায়িত্ব নিয়েছে তাঁর সরকার এবং রাজ্যের কোষাগার কার্যত শূন্য। তাঁর বক্তব্যের মধ্যে ভবিষ্যতের প্রশাসনিক চ্যালেঞ্জের আভাসও ছিল। কারণনির্বাচনী ইস্তেহারে তাঁর দল যে বিস্তৃত কল্যাণমূলক প্রতিশ্রুতির কথা জানিয়েছিলসেগুলি বাস্তবায়নে বিপুল আর্থিক ব্যয়ের প্রয়োজন হবে। ইস্তেহারে ৬০ বছরের কম বয়সি মহিলাদের জন্য মাসিক ২,৫০০ টাকা আর্থিক সহায়তাপ্রতি পরিবারকে বছরে ৬টি বিনামূল্যের এলপিজি সিলিন্ডার৮ গ্রাম সোনা-সহ বিবাহ সহায়তা এবং নবজাতকদের জন্য বিশেষ কল্যাণ প্রকল্পের ঘোষণা ছিল। শিক্ষা ক্ষেত্রে সরকারি ও সরকারি সাহায্যপ্রাপ্ত স্কুলের পড়ুয়াদের ঝরে পড়া ঠেকাতে মা বা অভিভাবকদের বছরে ১৫,০০০ টাকা সহায়তা১০০টি বিশেষ আবাসিক বিদ্যালয়  উচ্চশিক্ষার জন্য ২০ লক্ষ টাকা পর্যন্ত ঋণের প্রতিশ্রুতি দেওয়া হয়েছিল।

কৃষিক্ষেত্রে ছোট কৃষকদের ফসল ঋণ মকুবধান ও আখের ন্যূনতম সহায়ক মূল্য বৃদ্ধি এবং কৃষক সমাজের জন্য বিস্তৃত কল্যাণমূলক সহায়তার কথা বলা হয়েছিল নির্বাচনী ইস্তেহারে। যুবসমাজের জন্য  লক্ষ নতুন সরকারি চাকরিবৃত্তিসহ ইন্টার্নশিপবেকার স্নাতকদের মাসিক ভাতা এবং সরকারি কর্মীদের জন্য পুরনো পেনশন প্রকল্প বিবেচনার আশ্বাসও রয়েছে। স্বাস্থ্যখাতে পরিবারপিছু ২৫ লক্ষ টাকার স্বাস্থ্যবিমাবছরে বিনামূল্যে স্বাস্থ্য পরীক্ষাহাসপাতালের আধুনিকীকরণ এবং মাদকমুক্ত রাজ্যের রূপরেখা তুলে ধরা হয়েছে। পাশাপাশি প্রবীণ ও বিশেষ ভাবে সক্ষম ব্যক্তিদের জন্য মাসিক ৩,০০০ টাকার পেনশনসর্বজনীন পাইপলাইনের মাধ্যমে পানীয় জলের সরবরাহবাড়ির দোরগোড়ায় সরকারি পরিষেবা এবং ২১ দিনের মধ্যে ব্যবসায়িক লাইসেন্স দেওয়ার প্রতিশ্রুতিও রয়েছে।

রাজনৈতিক ভাবে বিজয়ের সরকার ইতিমধ্যেই বিশেষ তাৎপর্য বহন করছে। ২৩৪ সদস্যের বিধানসভায় একক বৃহত্তম দল হিসেবে উঠে এলেও সংখ্যাগরিষ্ঠতার জন্য প্রয়োজনীয় ১১৮ আসনের সীমা প্রথমে ছুঁতে পারেনি তাঁর দল তামিলগা ভেত্রি কাঝাগম (টিভিকে)। পরে কংগ্রেস, সিপিআই, সিপিআইএম, ভিসিকে এবং আইইউএমএল-সহ কয়েকটি দলের সমর্থনে জোটের শক্তি দাঁড়ায় ১২০-এ। এর ফলে প্রায় ৬ দশক পরে তামিল রাজনীতিতে ডিএমকে এবং এআইএডিএমকে-এর বাইরে কোনো সরকার ক্ষমতায় এলো। শপথমঞ্চে আবেগঘন ভাষণে বিজয় বলেনতিনি কোনও রাজপরিবার থেকে আসেননিদারিদ্র্য ও অভাবকে কাছ থেকে দেখেছেন। তাঁর কথায়মানুষের আস্থা নিয়েই তিনি প্রশাসনের দায়িত্বে এসেছেন। সে আবেগঘন বার্তার কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই প্রথম তিনটি সিদ্ধান্তে পরিষ্কার— নির্বাচনী প্রতিশ্রুতিকে দ্রুত প্রশাসনিক বাস্তবতায় নামিয়ে আনতেই চাইছে নতুন সরকার। এখন নজর বিধানসভায়। আগামী ১৩ মে-র আগে আস্থা ভোটে সংখ্যাগরিষ্ঠতা প্রমাণ করতে হবে বিজয় সরকারকে। প্রথম দিনের ঘোষণাগুলি তাই শুধু প্রশাসনিক সূচনা নয়রাজনৈতিক পরীক্ষারও প্রথম অধ্যায়।


  • Tags:
❤ Support Us
error: Content is protected !!