Advertisement
  • দে । শ
  • মে ১১, ২০২৬

মাধ্যমিকে সপ্তম হুগলির তানিশা, ফের উজ্জ্বল আল-আমীনের শিক্ষাদর্শ

আরম্ভ ওয়েব ডেস্ক
মাধ্যমিকে সপ্তম হুগলির তানিশা, ফের উজ্জ্বল আল-আমীনের শিক্ষাদর্শ

হুগলির আরামবাগের জয়পুরের মেয়ে তানিশা ফকির। ২০২৬ সালের মাধ্যমিক পরীক্ষার মেধাতালিকায় সপ্তম স্থানে উঠে এসে সে এখন গোটা জেলার গর্ব। ৭০০-র মধ্যে তার প্রাপ্ত নম্বর ৬৯১শতাংশের হিসাবে ৯৮.৭১। আল-আমীন মিশনের খলতপুর শাখার ছাত্রী শুধু নিজের সাফল্যই নয়পরিবারের দীর্ঘ সংগ্রাম ও শিক্ষার প্রতি আস্থার ইতিহাসকেও নতুন করে সামনে নিয়ে এসেছেন।   

ফকির পরিবারের গল্পে শিক্ষার জায়গাটা বরাবরই ছিল ভিন্ন। টালির ছাউনি দেওয়া ছোট ঘরের তক্তপোশের তক্তপোশে বসে পড়াশোনা করতেন পিতৃহারা তিন ভাই। আর্থিক অনটন ছিলকিন্তু শিক্ষার প্রতি বিশ্বাসে ভাটা পড়েনি। পরে মা তিন সন্তানকে তুলে দেন আল-আমীন মিশনের হাতে। সেখান থেকেই বদলে যায় পরিবারের ভবিষ্যৎ। তিন ভাইয়ের একজন আজ চিকিৎসকএকজন সফটওয়্যার ইঞ্জিনিয়ারআর একজন সরকারি বিদ্যালয়ের শিক্ষক। সে পরিবারেরই উত্তরসূরি তানিশা। তার বাবা চিকিৎসক তাহাজ্জত ফকির নিজে আল-আমীন মিশনের প্রাক্তনী। জীবনের মোড় ঘুরিয়ে দেওয়া প্রতিষ্ঠানের উপর আস্থা রেখেই তিনি নিজের দুই কন্যার শিক্ষার দায়িত্বও মিশনের হাতে তুলে দেন। পঞ্চম শ্রেণি থেকে আল-আমীন মিশনের খলতপুর শাখায় পড়ছে তানিশা। বিদ্যালয়ের শিক্ষকদের কথায়ছোটবেলা থেকেই সে ছিল অত্যন্ত নিয়মিতমনোযোগী এবং অধ্যবসায়ী। প্রায় প্রতি বছরই শ্রেণিতে প্রথম হয়েছে।

ফল প্রকাশের দিন সকাল থেকেই আরামবাগের জয়পুরে ফকির বাড়িতে যেন উৎসবের আবহ। আত্মীয়স্বজনপাড়া-প্রতিবেশীশিক্ষক-শিক্ষিকা সকলের আনাগোনায় মুখর হয়ে ওঠে বাড়ি। মেয়ের সাফল্যে গর্বিত বাবা তাহাজ্জত ফকির বলেন, ‘ওর উপর কখনো আলাদা করে চাপ তৈরি করিনি। নিজের ছন্দেনিজের নিয়মে পড়াশোনা করেছে। পরিশ্রম করেছে, তার ফল পেয়েছে। আমরা খুব আনন্দিত।’ তানিশার সাফল্যের পিছনে পরিবারের সমর্থনের পাশাপাশি রয়েছে আল-আমীন মিশনের শিক্ষাদর্শও। প্রতিষ্ঠানের মূল ভাবনাসচ্ছল পরিবারের বেতনের উদ্বৃত্ত অংশ এবং যাকাতের অর্থ আর্থিকভাবে পিছিয়ে থাকা পরিবারের সন্তানদের শিক্ষার কাজে ব্যয় করা। শিক্ষা যখন একটি পরিবারের আর্থ-সামাজিক অবস্থার পরিবর্তন ঘটায়তখন সে পরিবারই আবার অন্য পরিবারের পাশে দাঁড়ায়। ফকির পরিবার এই দর্শনেরই এক উজ্জ্বল উদাহরণ। তাহাজ্জত ফকির নিজের সন্তানদের পূর্ণ বেতনে পড়ানোর পাশাপাশি যাকাতের অর্থও মিশনের শিক্ষাবিস্তারের কাজে দান করেন।

আল-আমীন মিশনের প্রতিষ্ঠাতা সাধারণ সম্পাদক এম নুরুল ইসলাম বলেন, ‘আমাদের প্রাক্তনীরা নিজেদের পেশাগত দায়িত্ব পালনের পাশাপাশি সমাজের প্রতিও দায়বদ্ধ থেকেছেন। তাহাজ্জত ফকিরের পরিবার তারই দৃষ্টান্ত। নিজের মেয়েদের মানুষ করার জন্য যেমন তিনি আমাদের উপর আস্থা রেখেছেনতেমনই শিক্ষার প্রসারে সহযোগিতাও করছেন। এই ধরনের পরিবারই আমাদের বৃহত্তর শিক্ষাপরিবারকে শক্তি দেয়।’ মেধাতালিকায় নাম তুলে ভবিষ্যৎ নিয়ে তানিশার স্বপ্নও স্পষ্ট। প্রশাসনিক পরিষেবায় যোগ দিয়ে সে মানুষের জন্য কাজ করতে চায়। পরিবারের সংগ্রামের ঐতিহ্য, প্রতিষ্ঠানের শিক্ষা আর নিজের অদম্য অধ্যবসায়; এই তিনের মিলিত পথেই আগামীর পথ চলতে চায় সে।


  • Tags:
❤ Support Us
error: Content is protected !!