- দে । শ প্রচ্ছদ রচনা
- জুন ১, ২০২৬
‘প্রশ্নফাঁস’ বিতর্কের আবহে দিল্লিতে শিক্ষামন্ত্রকের দফতরে আগুন, গুরুত্বপূর্ণ নথি পুড়ে যাওয়ার আশঙ্কা
জাতীয় স্তরের একাধিক প্রবেশিকা পরীক্ষা নিয়ে কেন্দ্রীয় শিক্ষা মন্ত্রক এবং জাতীয় পরীক্ষা সংস্থা (এনটিএ)-কে নিয়ে দেশজুড়ে তীব্র বিতর্ক চলছে, ঠিক সে সময়েই রাজধানী দিল্লিতে শিক্ষামন্ত্রকের সঙ্গে যুক্ত একটি গুরুত্বপূর্ণ ভবনে অগ্নিকাণ্ডের ঘটনায় নতুন করে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। সোমবার সকালে দিল্লির আইটিও এলাকায় অবস্থিত স্কুল অফ প্ল্যানিং অ্যান্ড আর্কিটেকচার (এসপিএ) ক্যাম্পাসের প্রশাসনিক ভবনে আগুন লাগার ঘটনায় চাঞ্চল্য ছড়িয়ে পড়ে। ভবনটির একটি অংশে শিক্ষা মন্ত্রকের দফতরও রয়েছে বলে প্রশাসনিক সূত্রে জানা গিয়েছে।
জানা যাচ্ছে, সকাল গড়ানোর আগেই ভবনের দ্বিতীয় তলা থেকে ঘন কালো ধোঁয়া বের হতে দেখা যায়। মুহূর্তের মধ্যে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে গোটা এলাকায়। প্রত্যক্ষদর্শীদের দাবি, প্রশাসনিক ব্লকের ফ্যাকাল্টি কক্ষগুলির দিক থেকে প্রথম ধোঁয়া বের হতে দেখা যায়। কিছুক্ষণের মধ্যেই আগুনের শিখাও চোখে পড়ে। পরিস্থিতির গুরুত্ব বুঝে দ্রুত খবর দেওয়া হয় দমকল বিভাগ এবং পুলিশকে। দিল্লি ফায়ার সার্ভিস (ডিএফএস) জানিয়েছে, সকাল ৯টা ৩৭ মিনিট নাগাদ তাদের কন্ট্রোল রুমে অগ্নিকাণ্ডের খবর পৌঁছয়। খবর পাওয়ার সঙ্গে সঙ্গেই ঘটনাস্থলে পাঠানো হয় ৮টি দমকল ইঞ্জিন। দমকলকর্মীরা পৌঁছে আগুন নিয়ন্ত্রণে আনার কাজ শুরু করেন। প্রশাসনিক ব্লকের দ্বিতীয় তলার একাধিক কক্ষে আগুন ছড়িয়ে পড়েছিল বলে জানা গিয়েছে। দীর্ঘ সময় ধরে চলা অগ্নিনির্বাপণ অভিযানের পর আগুন সম্পূর্ণ নিয়ন্ত্রণে আসে এবং পরে তা নিভিয়েও ফেলা হয়।
পুলিশ সূত্রে জানা গিয়েছে, আইপি এস্টেট থানায় খবর পৌঁছনোর পরই একটি পুলিশ দল ঘটনাস্থলে যায়। এসপিএ-র কর্মী সৌরভ শর্মা প্রথম ধোঁয়া ও আগুন দেখতে পান বলে জানিয়েছেন। তাঁর বক্তব্য অনুযায়ী, প্রশাসনিক ব্লকের ফ্যাকাল্টি কক্ষগুলি থেকে ধোঁয়া বের হতে দেখে তিনি সঙ্গে সঙ্গে পিসিআর-এ ফোন করে বিষয়টি জানান। তাঁর তৎপরতার ফলেই দ্রুত জরুরি পরিষেবাগুলি সক্রিয় হয়ে ওঠে। অগ্নিকাণ্ডের জেরে ঘটনাস্থলে শুধু দমকলই নয়, মোতায়েন করা হয় তিনটি অ্যাম্বুল্যান্স, দুটি পিসিআর ভ্যান, ট্র্যাফিক পুলিশের কর্মী এবং স্থানীয় থানার পুলিশকেও। ক্যাম্পাসের ভিতরে ও বাইরে নিরাপত্তা বলয় তৈরি করা হয়। উদ্ধারকাজ চলাকালীন সাধারণ মানুষের প্রবেশও নিয়ন্ত্রণ করা হয়।
স্বস্তির বিষয়, এ ঘটনায় এখনো পর্যন্ত কোনো হতাহতের খবর পাওয়া যায়নি। তবে প্রশাসনিক সূত্রে আশঙ্কা, আগুনের জেরে বিপুল পরিমাণ নথিপত্র এবং দাপ্তরিক কাগজপত্র ক্ষতিগ্রস্ত হয়ে থাকতে পারে। যা ঘিরে নতুন করে জল্পনা শুরু হয়েছে। সমালোচকদের একাংশ বলছেন, ‘নিট’ সহ একাধিক প্রবেশিকার প্রশ্নফাঁস কিংবা গাফিলতির প্রমাণ লোপাট করতেই এই আগুন। ক্ষয়ক্ষতির সঠিক পরিমাণ এখনো সরকারি ভাবে জানানো না হলেও, ভবনের যে অংশে আগুন লাগে সেখানে বিভিন্ন প্রশাসনিক নথি সংরক্ষিত ছিল বলে মনে করা হচ্ছে। ফলে আগুনে গুরুত্বপূর্ণ নথি পুড়ে যাওয়ার সম্ভাবনা উড়িয়ে দেওয়া যাচ্ছে না।
কী কারণে এই অগ্নিকাণ্ড ঘটল, তা এখনও স্পষ্ট নয়। ভবনে পর্যাপ্ত অগ্নিনির্বাপণ ব্যবস্থা থাকা সত্ত্বেও কী ভাবে আগুন এত দ্রুত ছড়িয়ে পড়ল, তা নিয়ে প্রশ্ন উঠতে শুরু করেছে। প্রাথমিক ভাবে শর্ট সার্কিটের সম্ভাবনার কথা মনে করা হলেও তদন্ত শেষ না হওয়া পর্যন্ত নিশ্চিত করে কিছু বলতে চাইছেন না আধিকারিকেরা। ইতিমধ্যেই ঘটনার কারণ অনুসন্ধানে তদন্ত শুরু করেছে দমকল বিভাগ এবং পুলিশ। অগ্নিকাণ্ডের উৎস, নিরাপত্তা ব্যবস্থার কার্যকারিতা এবং সম্ভাব্য ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ খতিয়ে দেখা হচ্ছে।
উল্লেখ্য, অগ্নিকাণ্ডের ঘটনাটি এমন এক সময়ে ঘটল, যখন নিট-ইউজি প্রশ্নফাঁস, পরীক্ষার স্বচ্ছতা এবং শিক্ষা মন্ত্রকের ভূমিকা নিয়ে দেশজুড়ে বিতর্ক তুঙ্গে। কেন্দ্রীয় শিক্ষামন্ত্রী ধর্মেন্দ্র প্রধান এক সাক্ষাৎকারে স্বীকার করেছিলেন যে প্রশ্নপত্র ফাঁসের ঘটনা সত্যিই ঘটেছে এবং জাতীয় পরীক্ষা সংস্থা সে ক্ষেত্রে ব্যর্থ হয়েছে। তাঁর সেই মন্তব্যের পর থেকেই বিষয়টি নিয়ে রাজনৈতিক এবং প্রশাসনিক মহলে তুমুল আলোড়ন তৈরি হয়েছে। শিক্ষামন্ত্রীর পদত্যাগের দাবি তুলেছে এসএফআই সহ একাধিক ছাত্র সংগঠন।
প্রশ্নফাঁস-কাণ্ডের তদন্তে নেমে তদন্তকারীরা জানতে পেরেছেন, গোটা চক্রটি বহু রাজ্যে বিস্তৃত ছিল। ইতিমধ্যেই জাতীয় পরীক্ষা সংস্থার সঙ্গে যুক্ত একাধিক প্রাক্তন অধ্যাপক এবং সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিকে গ্রেফতার করা হয়েছে। সে বিতর্ক এখনো থামেনি। তার মধ্যেই শিক্ষা মন্ত্রকের সঙ্গে যুক্ত ভবনে আগুন লাগা এবং সম্ভাব্য নথি ক্ষতির আশঙ্কা নতুন করে নানা প্রশ্নের জন্ম দিয়েছে। যদিও প্রশাসনের পক্ষ থেকে এ পর্যন্ত অগ্নিকাণ্ডের সঙ্গে চলমান ‘নিট’ তদন্ত বা অন্য কোনো প্রশাসনিক বিষয়ের কোনও যোগসূত্রের ইঙ্গিত দেওয়া হয়নি। তবুও ঘটনাক্রমের সময়কাল এবং সম্ভাব্য নথি ক্ষতির আশঙ্কা ঘিরে জল্পনা তৈরি হয়েছে বিভিন্ন মহলে। ফলে আগুন লাগার প্রকৃত কারণ এবং ক্ষয়ক্ষতির পূর্ণাঙ্গ হিসাব সামনে আসার অপেক্ষায় রয়েছে প্রশাসন থেকে সাধারণ মানুষ— সকলেই।
❤ Support Us





