Advertisement
  • এই মুহূর্তে দে । শ
  • আগস্ট ১৪, ২০২৫

দিল্লি বিমানবন্দরে গ্রেফতার যাদবপুর বিশ্ববিদ্যালয়ের স্পেন-ফেরত প্রাক্তনী

আরম্ভ ওয়েব ডেস্ক
দিল্লি বিমানবন্দরে গ্রেফতার যাদবপুর বিশ্ববিদ্যালয়ের স্পেন-ফেরত প্রাক্তনী

স্পেন থেকে দিল্লির মাটিতে বিমান নামতেই তাঁর গন্তব্য বদলে গেল, বাড়ি নয়, জেল হেফাজত ! যাদবপুর বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রাক্তন ছাত্র হিন্দোল মজুমদারকে বুধবার দিল্লি বিমানবন্দর থেকে গ্রেফতার করল দিল্লি পুলিশ, পরে তুলে দেওয়া হয় কলকাতা পুলিশের। অভিযোগ, ১ মার্চ, যাদবপুর ক্যাম্পাসে শিক্ষামন্ত্রী ব্রাত্য বসুর কনভয়ের উপর হামলার ঘটনার মূল ষড়যন্ত্রকারী তিনি।

জানা গিয়েছে, দিল্লি বিমানবন্দরে সকাল সাড়ে দশটা নাগাদ তাঁর বিমান নামার পরই ইমিগ্রেশন চেকের সময়ে লুক-আউট সার্কুলারের ভিত্তিতে তাঁকে আটক করা হয়। বর্তমানে স্পেনে গবেষণা করছেন হিন্দোল। পুলিশের দাবি, তিনি শুধু শিক্ষামন্ত্রীর উপর হামলার ষড়যন্ত্রেই যুক্ত নন, বিদেশে বসেই অর্থ জোগান দিয়েছেন অভিযুক্ত ছাত্রদের। কলকাতা পুলিশের দক্ষিণ উপনগর জেলা-র ডিসি বিদিশা কলিতা বলেন, ‘লুক-আউট নোটিশ জারির পর দিল্লি বিমানবন্দরে তাঁকে গ্রেফতার করা হয়েছে। আমাদের একটি টিম ইতিমধ্যেই দিল্লিতে পৌঁছে গিয়েছে। বৃহস্পতিবার পাতিয়ালা হাউস কোর্টে তাঁকে ট্রানজিট রিমান্ডে হাজির করা হবে।’

হিন্দোলের বাবা, যাদবপুর বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রাক্তন ডিন, চন্দন মজুমদার বলেছেন, ‘ছেলে স্পেন থেকে দিল্লি এসেছিল বোনের সঙ্গে দেখা করতে। ওঁর বিরুদ্ধে যে এফআইআর হয়েছে, সেটা আগে জানতাম না। দিল্লি পুলিশ জানিয়েছে, হিন্দোলকে কলকাতা পুলিশের হাতে তুলে দেওয়া হবে।’ যাদবপুরের প্রাক্তন ছাত্র হিন্দোল বর্তমানে স্পেনের গ্রানাডা বিশ্ববিদ্যালয়ে বায়োমেডিসিন ও ক্লিনিক্যাল সায়েন্স বিভাগে পিএইচডি করছেন। ইউরোপীয় ইউনিয়নের ‘মেরি স্ক্লোডোস্কা কুরি অ্যাকশন’ ফেলোশিপ রয়েছে তাঁর ঝুলিতে। ১ মার্চের ঘটনায় তাঁর নাম জড়ালে, পুলিশি অভিযোগ খারিজ করে হিন্দোল আগেই মেইলে জানিয়েছিলেন, ‘আমি ১ মার্চ স্পেনেই ছিলাম। কাজেই ওই সময় কলকাতায় আমার উপস্থিতি অসম্ভব।’ পাল্টা পুলিশের দাবি, উপস্থিতি নয়, হিন্দোলের বিরুদ্ধে মূল অভিযোগ হল ‘প্ররোচনা’ ও ‘অর্থসাহায্য’। এক পুলিশ কর্তার কথায়, ‘ওই ঘটনার নেতৃত্ব, যোগাযোগ ও পরিকল্পনার সঙ্গে ওতপ্রোতভাবে যুক্ত ছিলেন অভিযুক্ত গবেষক।’

প্রসঙ্গত, ১ মার্চ যাদবপুরে এক শিক্ষক সংগঠনের সভায় যোগ দিতে গিয়েছিলেন শিক্ষামন্ত্রী ব্রাত্য বসু। সভা শেষে যখন তিনি ক্যাম্পাস ছাড়ছিলেন, তখন বাম ছাত্র সংগঠনগুলির বিক্ষোভের মুখে পড়েন। পড়ুয়ারা তাঁর গাড়ি ঘিরে ধরে। কাচ ভাঙা, জুতা প্রদর্শন, টায়ার ফাটানোর অভিযোগ ওঠে। প্রায় ২ ঘণ্টা ধরে গাড়ির ভিতরেই আটকে থাকতে হয় মন্ত্রীকে। তাঁর হাতে কাচের আঘাতও লাগে। একইসঙ্গে ২জন ছাত্রও আহত হন মন্ত্রীর কনভয়ের ধাক্কায়। তুমুল আলোচিত ওই ঘটনায় একাধিক এফআইআর দায়ের হয়। মার্চ মাসে ৩ জনকে গ্রেফতার করা হয়, তাঁদের মধ্যে ১ জন প্রাক্তন এবং ২ জন যাদবপুরের ছাত্র। তবে, তাঁরা এখন জামিনে মুক্ত। হিন্দোলের গ্রেফতার সে ঘটনার চতুর্থ অধ্যায়। তবে প্রশ্ন উঠছে, যদি হিন্দোল সত্যিই দেশের বাইরে থাকতেন, তা হলে তদন্তের অভিমুখ কেন তাঁর দিকে গেল ? একাংশের মতে, রাজনৈতিক চাপ ও প্রশাসনিক ব্যর্থতা ঢাকতেই নিশানা করা হচ্ছে প্রবাসী প্রাক্তনীদের। যদিও পুলিশ বলছে, প্রযুক্তিগত তথ্য ও আর্থিক লেনদেনের ভিত্তিতেই তাঁকে অভিযুক্ত করা হয়েছে। এখন দেখার, দিল্লি থেকে কলকাতা ট্রানজিটে আসার পর, আদালতে হিন্দোলের বিরুদ্ধে কী কী প্রমাণ পেশ করে কলকাতা পুলিশ।


  • Tags:
❤ Support Us
error: Content is protected !!